ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী হত্যার পর কান্নাভেজা কণ্ঠে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:৩৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 62

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মহারাজপুর থানায় হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শচীন নামের ওই ব্যক্তি এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শচীন থানায় এসে জানান, তিনি তার স্ত্রী শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং মরদেহটি কম্বলে মুড়িয়ে ঘরের ভেতরে রেখে এসেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শচীন ও শ্বেতা উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে আদালতে বিয়ে করে তারা বাড়ি ছাড়েন এবং কিছুদিন সুরাটে অবস্থানের পর কানপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শচীন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি স্ত্রীর চরিত্র ও ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের উৎস নিয়ে স্বামীর সন্দেহ থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতে শচীন স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি বাইরে থাকবেন। পরে গভীর রাতে হঠাৎ বাসায় ফিরে তিনি শ্বেতাকে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে বাড়িতে ফেরত পাঠায়। তবে ফেরার পর আবারও উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে শচীন ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেন।

ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা শহরজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাধবোধ থেকে থানায় আত্মসমর্পণ করেন শচীন।

পুলিশ শ্বেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

স্ত্রী হত্যার পর কান্নাভেজা কণ্ঠে থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

প্রকাশঃ ০৯:৩৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মহারাজপুর থানায় হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শচীন নামের ওই ব্যক্তি এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শচীন থানায় এসে জানান, তিনি তার স্ত্রী শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন এবং মরদেহটি কম্বলে মুড়িয়ে ঘরের ভেতরে রেখে এসেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে তার দেখানো মতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শচীন ও শ্বেতা উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কে আদালতে বিয়ে করে তারা বাড়ি ছাড়েন এবং কিছুদিন সুরাটে অবস্থানের পর কানপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। শচীন অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি স্ত্রীর চরিত্র ও ব্যাংক হিসাবে জমা অর্থের উৎস নিয়ে স্বামীর সন্দেহ থেকে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতে শচীন স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তিনি বাইরে থাকবেন। পরে গভীর রাতে হঠাৎ বাসায় ফিরে তিনি শ্বেতাকে স্থানীয় দুই তরুণের সঙ্গে কথা বলতে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে বাড়িতে ফেরত পাঠায়। তবে ফেরার পর আবারও উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে শচীন ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বেতাকে গলা টিপে হত্যা করেন।

ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা শহরজুড়ে ঘুরে বেড়িয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাধবোধ থেকে থানায় আত্মসমর্পণ করেন শচীন।

পুলিশ শ্বেতার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”