ইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত ৫ হাজার নিহত: সরকারি স্বীকারোক্তি
- প্রকাশঃ ০৪:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 68
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সহিংসতায় অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে ইরানি সরকার। রোববার দেশটির আঞ্চলিক এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিক্ষোভে হতাহতের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর এই সংখ্যা ধরা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের দায়ী করা হয়েছে, যারা “নিরীহ ইরানিদের” হত্যা করেছে। এই তথ্য ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংস্থাটি জানায়, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি কুর্দিপন্থীদের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সবচেয়ে সহিংস আকারে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায়।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ। আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে বলেছেন, “এবার মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। মাথা, গলা ও বুকে গুলি এবং শার্পনেলের আঘাত দেখা গেছে।” নিহতদের তথ্য বড় আটটি চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের ওপর ভিত্তি করে সংগৃহীত।
চিকিৎসকরা সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ স্টারলিংকের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম হয়েছেন। অনেক আহত ব্যক্তি চোখে আঘাত পেয়েছেন, নিরাপত্তাবাহিনী শটগান ব্যবহার করে গুলি বর্ষণ করেছে, যার ফলে প্রায় ৭০০ জন অন্ধ হয়েছেন।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ৭ ও ৮ জানুয়ারি সহিংস আকার ধারণ করে। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের শঙ্কাও দেখা দেয়। তবে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর কঠোর অবস্থান নেয়ার পর বিক্ষোভ বর্তমানে প্রায় স্থিমিত হয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স, সানডে টাইমস












