ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীল নদ বিবাদ নিরসনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো মিসর ও সুদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৯:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 74

ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম (নীল নদ বাঁধ) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পানিবণ্টন বিবাদ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মিসর ও সুদান।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান পৃথক বার্তায় এই উদ্যোগের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন, মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সমঝোতা ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নীল নদকে মিসরের জনগণের “জীবনরেখা” হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং মিসরের পানি নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিসি আরও বলেন, মিসর আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে সহযোগিতা করতে চায় যাতে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয় এবং সবার মঙ্গল নিশ্চিত হয়। তিনি আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সুদানের নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানও এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সুদানের পক্ষ থেকে এই মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মার্কিন মধ্যস্থতা এমন একটি টেকসই ও সন্তোষজনক সমাধান নিশ্চিত করবে যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

প্রায় ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া নীল নদের ওপর এই বিশাল বাঁধ প্রকল্পটির উদ্বোধন করে। এরপর থেকে ভাটির দেশ মিসর ও সুদান বাঁধটির পানি পূর্ণ করা এবং পরিচালনার বিষয়ে ইথিওপিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

নীল নদ প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি মোট ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং মিসর।

দীর্ঘদিন ধরে মিসর ও সুদান দাবি জানিয়ে আসছে যে ইথিওপিয়া এই বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে একটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছাক। ট্রাম্পের মধ্যস্থতার এই নতুন প্রস্তাব নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

নীল নদ বিবাদ নিরসনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রস্তাবকে স্বাগত জানালো মিসর ও সুদান

প্রকাশঃ ০৯:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড রেনেসাঁ ড্যাম (নীল নদ বাঁধ) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পানিবণ্টন বিবাদ নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মিসর ও সুদান।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং সুদানের সার্বভৌম কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান পৃথক বার্তায় এই উদ্যোগের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেছিলেন, মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে সমঝোতা ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নীল নদকে মিসরের জনগণের “জীবনরেখা” হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং মিসরের পানি নিরাপত্তা সম্পর্কিত উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সিসি আরও বলেন, মিসর আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে এমনভাবে সহযোগিতা করতে চায় যাতে কারও স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয় এবং সবার মঙ্গল নিশ্চিত হয়। তিনি আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সুদানের নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানও এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সুদানের পক্ষ থেকে এই মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মার্কিন মধ্যস্থতা এমন একটি টেকসই ও সন্তোষজনক সমাধান নিশ্চিত করবে যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

প্রায় ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইথিওপিয়া নীল নদের ওপর এই বিশাল বাঁধ প্রকল্পটির উদ্বোধন করে। এরপর থেকে ভাটির দেশ মিসর ও সুদান বাঁধটির পানি পূর্ণ করা এবং পরিচালনার বিষয়ে ইথিওপিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

নীল নদ প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি মোট ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত: বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং মিসর।

দীর্ঘদিন ধরে মিসর ও সুদান দাবি জানিয়ে আসছে যে ইথিওপিয়া এই বাঁধ প্রকল্পের বিষয়ে একটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছাক। ট্রাম্পের মধ্যস্থতার এই নতুন প্রস্তাব নীল নদ অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”