ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের অধিকাংশ দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক

আল–জাজিরা
  • প্রকাশঃ ১০:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 35
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে করা তাঁর অধিকাংশ দাবিই বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উঠে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক বিশেষ তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি, ওষুধের দাম, শুল্কনীতি ও কর্মসংস্থান বিষয়ে ট্রাম্প যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সঙ্গে সরকারি নথির বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ‘কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’ এবং তাঁর নীতির কারণে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব দাবি গাণিতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প গত তিন মাসে মূল মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার যে দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে।

ওষুধের দাম কমানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ কর্মসূচির ফলে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পণ্যের দাম ১০০ শতাংশ কমার অর্থ হলো সেটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে; এর বেশি কমার দাবি অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শুল্ক আরোপ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকা সম্পর্কেও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ভুল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বাইডেন কোনো শুল্ক আরোপ করেননি। অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।

biden bbc

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: বিবিসি


সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন শুল্কসংক্রান্ত মামলার রায় নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যকে আংশিক সঠিক হলেও অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিলে সংগৃহীত শুল্কের পুরো অংশ নয়, বরং প্রায় অর্ধেক আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে।

শ্রমবাজারের চিত্র উপস্থাপনেও ট্রাম্পের দাবিতে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করলেও তাঁদের বড় অংশ সহজে বেসরকারি খাতে কাজ পাচ্ছেন—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বিএলএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৮৪ হাজার, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।

গাড়ি কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবিকেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্যমতে, পরিবহন সরঞ্জাম খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিলেনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ২ দশমিক ৮২ ডলার, যা তাঁর দাবি করা ১ দশমিক ৯৯ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের অধিকাংশ দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক

প্রকাশঃ ১০:১৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া দীর্ঘ বক্তৃতায় মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে করা তাঁর অধিকাংশ দাবিই বাস্তব তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উঠে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক বিশেষ তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি, ওষুধের দাম, শুল্কনীতি ও কর্মসংস্থান বিষয়ে ট্রাম্প যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সঙ্গে সরকারি নথির বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেওয়া বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ‘কোনো মূল্যস্ফীতি নেই’ এবং তাঁর নীতির কারণে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এসব দাবি গাণিতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প গত তিন মাসে মূল মূল্যস্ফীতি ১ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার যে দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মূল মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশে।

ওষুধের দাম কমানোর ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের বক্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী ‘সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ কর্মসূচির ফলে ওষুধের দাম ৩০০ থেকে ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পণ্যের দাম ১০০ শতাংশ কমার অর্থ হলো সেটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে; এর বেশি কমার দাবি অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

শুল্ক আরোপ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকা সম্পর্কেও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ভুল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বাইডেন কোনো শুল্ক আরোপ করেননি। অথচ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল।

biden bbc

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ছবি: বিবিসি


সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন শুল্কসংক্রান্ত মামলার রায় নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যকে আংশিক সঠিক হলেও অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের বিপক্ষে রায় দিলে সংগৃহীত শুল্কের পুরো অংশ নয়, বরং প্রায় অর্ধেক আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হতে পারে।

শ্রমবাজারের চিত্র উপস্থাপনেও ট্রাম্পের দাবিতে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারী ছাঁটাই করলেও তাঁদের বড় অংশ সহজে বেসরকারি খাতে কাজ পাচ্ছেন—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বিএলএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৮৪ হাজার, যেখানে বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ।

গাড়ি কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবিকেও অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের তথ্যমতে, পরিবহন সরঞ্জাম খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪০ কোটি ডলারে।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিলেনি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ২ দশমিক ৮২ ডলার, যা তাঁর দাবি করা ১ দশমিক ৯৯ ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”