ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতার শিকার সুদানের নারীরা: পরিকল্পিত অপব্যবহার ও দায়মুক্তি অব্যাহত

সূত্র: এএফপি
  • প্রকাশঃ ০১:০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 27

সুদানের চলমান সংঘাত নারী সম্প্রদায়কে কঠোরভাবে প্রভাবিত করছে। একসময়ের মানবাধিকারকর্মী ও বর্তমানে সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক আল-খলিফা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নারীরা ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের শিকার হচ্ছেন, যা ঘটছে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তিতে।

সেনা-সমর্থিত সরকার এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেনা ও আরএসএফের হামলার মধ্যে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বয়স, বয়সভিত্তিক বা সামাজিক অবস্থার কোনো বাছ–বিচার ছাড়াই ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৮৫ বছর বয়সী একজন নারী বা এক বছরের শিশুও এই নির্যাতনের শিকার হতে পারে। নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার, প্রতিবেশী দেশে পাচার, জোরপূর্বক বিয়ে—এই সবকিছু সংঘাতের অংশ হিসেবে সংঘটিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার তিন-চতুর্থাংশ ধর্ষণ এবং এর ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী আরএসএফ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, আরএসএফ নারী ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে অপমানিত করা, এলাকা ও শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি ভাঙা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যখন আপনি যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তার মানে আপনি যুদ্ধকে চিরস্থায়ী করতে চান।”

দারফুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। অপরাধীরা এমন নৃশংস কর্মকাণ্ড ভিডিওর মাধ্যমে উদ্‌যাপন করছে এবং দায়মুক্তি অনুভব করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সব ঘটনার নথিভুক্তকরণ ও তদন্ত এখনও সীমিত, তবে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, “আমরা একে টর্চার অপারেশন বা নির্যাতন অভিযান বলি। শিশু ও কিশোরী পর্যন্ত জোরপূর্বক বিয়ে করানো হচ্ছে, নারীদের অপমান ও নিপীড়ন যেভাবে হচ্ছে তা ভয়াবহ।”

এই পরিস্থিতি সুদানের নারীদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য এক গভীর হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং সঠিক মনিটরিং ছাড়া এই মানবিক সংকটের অবসান ঘটানো কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতার শিকার সুদানের নারীরা: পরিকল্পিত অপব্যবহার ও দায়মুক্তি অব্যাহত

প্রকাশঃ ০১:০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

সুদানের চলমান সংঘাত নারী সম্প্রদায়কে কঠোরভাবে প্রভাবিত করছে। একসময়ের মানবাধিকারকর্মী ও বর্তমানে সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক আল-খলিফা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, নারীরা ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের শিকার হচ্ছেন, যা ঘটছে প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তিতে।

সেনা-সমর্থিত সরকার এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেনা ও আরএসএফের হামলার মধ্যে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বয়স, বয়সভিত্তিক বা সামাজিক অবস্থার কোনো বাছ–বিচার ছাড়াই ঘটছে। তিনি উল্লেখ করেন, ৮৫ বছর বয়সী একজন নারী বা এক বছরের শিশুও এই নির্যাতনের শিকার হতে পারে। নারীদের যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার, প্রতিবেশী দেশে পাচার, জোরপূর্বক বিয়ে—এই সবকিছু সংঘাতের অংশ হিসেবে সংঘটিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থা এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার তিন-চতুর্থাংশ ধর্ষণ এবং এর ৮৭ শতাংশের জন্য দায়ী আরএসএফ। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, আরএসএফ নারী ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে অপমানিত করা, এলাকা ও শহর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি ভাঙা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যখন আপনি যৌন সহিংসতাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তার মানে আপনি যুদ্ধকে চিরস্থায়ী করতে চান।”

দারফুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। অপরাধীরা এমন নৃশংস কর্মকাণ্ড ভিডিওর মাধ্যমে উদ্‌যাপন করছে এবং দায়মুক্তি অনুভব করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সব ঘটনার নথিভুক্তকরণ ও তদন্ত এখনও সীমিত, তবে যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে তা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

সুলাইমা ইশহাক বলেন, “আমরা একে টর্চার অপারেশন বা নির্যাতন অভিযান বলি। শিশু ও কিশোরী পর্যন্ত জোরপূর্বক বিয়ে করানো হচ্ছে, নারীদের অপমান ও নিপীড়ন যেভাবে হচ্ছে তা ভয়াবহ।”

এই পরিস্থিতি সুদানের নারীদের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য এক গভীর হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এবং সঠিক মনিটরিং ছাড়া এই মানবিক সংকটের অবসান ঘটানো কঠিন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”