হালাল পণ্য থেকে পর্যটন ও অর্থায়ন, অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে ইসলামী অর্থনীতির বাজার
- প্রকাশঃ ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২২:০৩
- / 8
সিডনি, ১৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতির পরিধি দ্রুত বাড়ছে। হালাল খাদ্য, পর্যটন, প্রসাধনী, ওষুধ, পোশাক ও আর্থিক সেবার মতো বিভিন্ন খাতে মুসলিম ভোক্তাদের চাহিদা বাড়ায় নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। নতুন এক জাতীয় প্রতিবেদনের হিসাবে, চলতি বছর দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে।
‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটিতে এক মিলিয়নের বেশি মুসলিম বসবাস করেন। তাদের খাদ্য, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের চাহিদাকে ঘিরে ইসলামী অর্থনীতির বিভিন্ন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সালাম ও দিনারস্ট্যান্ডার্ড।
মুসলিমবান্ধব পর্যটনকে সবচেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত খাতগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এ খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।
হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাত প্রায় ১০০ শতাংশ এবং হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও হালাল পণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে এবং এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। দেশটিকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো তুলনামূলক ছোট। প্রতিবেদনে এ খাতে প্রায় ১ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিলের কথা বলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক জটিলতা ও কাঠামোগত বাধা এই খাতের সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির পরবর্তী পর্যায়ের প্রবৃদ্ধির জন্য হালাল সনদব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করা, ইসলামী অর্থায়নে নিয়ন্ত্রক সমতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশে সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।


























