ঢাকা ১০:৩৬ , Tue, ১১ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

কানাডার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পেতে লাগছে দুই বছরের বেশি, অপেক্ষায় ১.২১ লাখ আবেদনকারী

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮
  • / 3
ফাইল ছবি

১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) কানাডার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিষ্পত্তিতে আনুমানিক অপেক্ষার সময় বেড়ে ২৫ মাসে পৌঁছেছে। কানাডা সরকারের ১০ আগস্টের হিসাবে, গত তিন মাসে এই প্রক্রিয়াকরণ সময় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে অপেক্ষার সময় ছিল প্রায় ১০ মাস, মে মাসে তা ১২ মাস এবং জুলাইয়ে ১৯ মাসে দাঁড়ায়।

নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিয়ে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যাও একই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ২১ হাজার ৮০০টি আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। জুলাইয়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৩০০ বেশি, অর্থাৎ এক মাসে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।

আবেদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কানাডার নাগরিকত্বের বংশসূত্রসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কানাডীয় বংশসূত্রের ওপর থাকা প্রথম প্রজন্মের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কানাডীয় পূর্বপুরুষের বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারলে প্রজন্মের ব্যবধান বেশি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কানাডার নাগরিকত্বের অধিকারী হতে পারেন এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

এই পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কানাডীয় বংশোদ্ভূত মানুষের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদনের আগ্রহ বেড়েছে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলেও এমন আবেদনের চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮৪০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ফরাসি-কানাডীয় অভিবাসী বসতি স্থাপন করেছিলেন।

প্রক্রিয়াকরণে আবেদনের চাপের পাশাপাশি নাগরিকত্বের সনদ পুনঃপর্যালোচনার বিষয়টিও প্রভাব ফেলেছে। ২০২৬ সালের জুনে আইআরসিসি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া একদল ব্যক্তিকে ই-মেইল করে তাদের নাগরিকত্বের দাবি নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানায়।

এরপর প্রায় এক মাস বংশসূত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্বের নতুন আবেদন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। ওই সময়ে আগে দেওয়া কিছু নাগরিকত্বের সনদের পেছনের নথিও যাচাই করা হয়। ৩০ জুন আইআরসিসি এই পর্যালোচনা শেষ করার পর নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করে।

তবে এই বিরতির সময় জমে থাকা আবেদনের চাপও বর্তমান অপেক্ষার সময় বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের এখন ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সারিতে যুক্ত হতে হচ্ছে।

আবেদন করার সময় পিছিয়ে দিলেই অপেক্ষার সময় কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইআরসিসির প্রক্রিয়াকরণ সময় নির্ধারণে আগে থেকে জমা থাকা আবেদনের সংখ্যা, বিভাগের জনবল এবং নতুন করে আসতে পারে এমন আবেদনের চাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে আবেদন বিলম্ব করলে ভবিষ্যতে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি যদি কানাডীয় দাদা-দাদি, নানা-নানি, প্রপিতামহ-প্রমাতামহ বা আরও দূরের পূর্বপুরুষের সঙ্গে ধারাবাহিক বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তিনি ইতোমধ্যে কানাডার নাগরিক হয়ে থাকতে পারেন। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়া গেলে তিনি কানাডার নাগরিক হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন এবং কানাডার পাসপোর্টের জন্য আবেদনসহ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে।

❤️
👏
🙂
😞

কানাডার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পেতে লাগছে দুই বছরের বেশি, অপেক্ষায় ১.২১ লাখ আবেদনকারী

প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৮

১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) কানাডার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিষ্পত্তিতে আনুমানিক অপেক্ষার সময় বেড়ে ২৫ মাসে পৌঁছেছে। কানাডা সরকারের ১০ আগস্টের হিসাবে, গত তিন মাসে এই প্রক্রিয়াকরণ সময় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে অপেক্ষার সময় ছিল প্রায় ১০ মাস, মে মাসে তা ১২ মাস এবং জুলাইয়ে ১৯ মাসে দাঁড়ায়।

নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন নিয়ে অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যাও একই সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ২১ হাজার ৮০০টি আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। জুলাইয়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৩০০ বেশি, অর্থাৎ এক মাসে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।

আবেদন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কানাডার নাগরিকত্বের বংশসূত্রসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কানাডীয় বংশসূত্রের ওপর থাকা প্রথম প্রজন্মের সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কানাডীয় পূর্বপুরুষের বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারলে প্রজন্মের ব্যবধান বেশি হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কানাডার নাগরিকত্বের অধিকারী হতে পারেন এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ পান।

এই পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কানাডীয় বংশোদ্ভূত মানুষের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের জন্য আবেদনের আগ্রহ বেড়েছে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলেও এমন আবেদনের চাপ তৈরি হয়েছে। ১৮৪০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ফরাসি-কানাডীয় অভিবাসী বসতি স্থাপন করেছিলেন।

প্রক্রিয়াকরণে আবেদনের চাপের পাশাপাশি নাগরিকত্বের সনদ পুনঃপর্যালোচনার বিষয়টিও প্রভাব ফেলেছে। ২০২৬ সালের জুনে আইআরসিসি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে নাগরিকত্বের সনদ পাওয়া একদল ব্যক্তিকে ই-মেইল করে তাদের নাগরিকত্বের দাবি নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানায়।

এরপর প্রায় এক মাস বংশসূত্রের মাধ্যমে নাগরিকত্বের নতুন আবেদন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। ওই সময়ে আগে দেওয়া কিছু নাগরিকত্বের সনদের পেছনের নথিও যাচাই করা হয়। ৩০ জুন আইআরসিসি এই পর্যালোচনা শেষ করার পর নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের আবেদন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করে।

তবে এই বিরতির সময় জমে থাকা আবেদনের চাপও বর্তমান অপেক্ষার সময় বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের এখন ১ লাখ ২১ হাজারের বেশি অপেক্ষমাণ আবেদনের সারিতে যুক্ত হতে হচ্ছে।

আবেদন করার সময় পিছিয়ে দিলেই অপেক্ষার সময় কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইআরসিসির প্রক্রিয়াকরণ সময় নির্ধারণে আগে থেকে জমা থাকা আবেদনের সংখ্যা, বিভাগের জনবল এবং নতুন করে আসতে পারে এমন আবেদনের চাপ বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে আবেদন বিলম্ব করলে ভবিষ্যতে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি যদি কানাডীয় দাদা-দাদি, নানা-নানি, প্রপিতামহ-প্রমাতামহ বা আরও দূরের পূর্বপুরুষের সঙ্গে ধারাবাহিক বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তিনি ইতোমধ্যে কানাডার নাগরিক হয়ে থাকতে পারেন। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র পাওয়া গেলে তিনি কানাডার নাগরিক হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন এবং কানাডার পাসপোর্টের জন্য আবেদনসহ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে।