প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর, ন্যূনতম বেতন বাড়াচ্ছে মালয়েশিয়া
- প্রকাশঃ ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১০
- / 5
কুয়ালালামপুর, ৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। ২০২৭ সালের জুন থেকে নতুন মজুরির হার কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সংসদে ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দেন। এতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি শ্রমিকেরা উপকৃত হতে পারেন।
মালয়েশিয়া মাদানির প্রকাশিত বাজেটসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মজুরি কাঠামোর আওতায় ৪০ লাখের বেশি কর্মী সুবিধা পাবেন বলে আশা করছে সরকার। দেশটির প্রচলিত ন্যূনতম মজুরি আইন বিদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকেরাও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকারী।
মালয়েশিয়ায় ২০১৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নীতি চালু হয়। তখন মাসিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০০ রিঙ্গিত। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১ হাজার রিঙ্গিত, ২০১৯ সালে ১ হাজার ১০০ রিঙ্গিত, ২০২০ সালে ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত এবং ২০২২ সালে ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত। প্রস্তাবিত নতুন হার কার্যকর হলে তা ২০১৩ সালের প্রাথমিক হারের দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
তবে নতুন মজুরির নিয়ম থেকে কিছু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। যেসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ব্যবসায়িক লেনদেনের পরিমাণ ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় পড়বে বলে জানানো হয়েছে। নতুন মজুরি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় দেওয়াই এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
দক্ষ কর্মীদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা
মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের বেতন কাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণায় আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের জন্য মাসিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও তাঁদের প্রাপ্ত মজুরির মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা কমানো প্রয়োজন। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আয় সমানতালে না বাড়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের আয়ের একটি সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে। তবে দক্ষ শ্রমিকদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতা ও দক্ষতার তুলনায় যথাযথ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মজুরি কাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার।
অনিবন্ধিত শ্রমিক নিয়োগ ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা
মালয়েশিয়ায় অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করতে করসংক্রান্ত বিধিমালা আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মজুরি ব্যয়ের বিপরীতে করছাড় পেতে কর্মসংস্থান আইনে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন পরিশোধ করতে হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা উৎসাহিত করা।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি, নেপালি, ইন্দোনেশীয় ও অন্যান্য দেশের শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হলে তাঁদের আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ঘোষিত সময় অনুযায়ী, সুবিধাটি ২০২৭ সালের জুনের আগে কার্যকর হচ্ছে না। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অব্যাহতি থাকায় সব শ্রমিক একই সময়ে নতুন মজুরি কাঠামোর আওতায় আসবেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন ও প্রযোজ্য বিধির ওপর নির্ভর করবে।
























