ঢাকা ১০:৪৯ , Mon, ১৭ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাজ্যের ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে £৮,০০০ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬
  • / 1
ছবি: টেলিগ্রাফ

লন্ডন, ১৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা)  আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অন্তত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে টিউশন ফিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা পেতে আলাদা করে বৃত্তির আবেদনও করতে হচ্ছে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ভর্তি নিশ্চিত হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি কমছে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ধরে রাখতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত সীমিত বৃত্তির পাশাপাশি সরাসরি টিউশন ফি কমানোর কৌশল গ্রহণ করছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপরও পড়ছে।

অ্যাবারডিনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড ছাড়

গবেষণায় উল্লেখ করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ছাড় দিচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড এবং স্নাতক পর্যায়ে ৬ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত টিউশন ফি কমানোর সুযোগ রয়েছে।

রাসেল গ্রুপের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদন ছাড়াই ৩ হাজার পাউন্ডের ছাড় দিচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট চীন, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স কোর্সে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি ছাড় দিচ্ছে।

নটিংহ্যামের কিছু মাস্টার্স কোর্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৩৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হওয়ায় এই ছাড় শিক্ষার্থীদের মোট শিক্ষাব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের পরিচালক জুলিয়ান ওয়েস্টউড বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছোট পরিসরের বৃত্তির বদলে বড় পরিসরে সরাসরি ফি কমানোর দিকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থীপ্রতি আয় কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়তে পারে।

শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য ব্র্যান্ড এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিনাত ফায়াজের দাবি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ফি কমানোর পাশাপাশি ভর্তি যোগ্যতার শর্তও শিথিল করছে। তাঁর মতে, এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কমছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়

অফিস ফর স্টুডেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পোস্টগ্র্যাজুয়েট টিউশন ফি থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমে এসেছে। আগের শিক্ষাবর্ষে এ আয় ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আরও কমলে উচ্চশিক্ষা খাতে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী লেভি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে ৯২৫ পাউন্ড দিতে হবে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাজ্যের ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ে £৮,০০০ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়

প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬

লন্ডন, ১৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা)  আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের অন্তত ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে টিউশন ফিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে এ সুবিধা পেতে আলাদা করে বৃত্তির আবেদনও করতে হচ্ছে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ভর্তি নিশ্চিত হলে অনেক ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফি কমছে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ধরে রাখতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত সীমিত বৃত্তির পাশাপাশি সরাসরি টিউশন ফি কমানোর কৌশল গ্রহণ করছে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। ভিসা নীতির পরিবর্তন এবং অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপরও পড়ছে।

অ্যাবারডিনে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড ছাড়

গবেষণায় উল্লেখ করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ছাড় দিচ্ছে। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৮ হাজার পাউন্ড এবং স্নাতক পর্যায়ে ৬ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত টিউশন ফি কমানোর সুযোগ রয়েছে।

রাসেল গ্রুপের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যাম আন্তর্জাতিক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদন ছাড়াই ৩ হাজার পাউন্ডের ছাড় দিচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি অব কেন্ট চীন, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স কোর্সে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি ছাড় দিচ্ছে।

নটিংহ্যামের কিছু মাস্টার্স কোর্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ৩৯ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হওয়ায় এই ছাড় শিক্ষার্থীদের মোট শিক্ষাব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এস স্কোয়ার্ড ইনসাইটসের পরিচালক জুলিয়ান ওয়েস্টউড বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছোট পরিসরের বৃত্তির বদলে বড় পরিসরে সরাসরি ফি কমানোর দিকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি শিক্ষার্থীপ্রতি আয় কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়তে পারে।

শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য ব্র্যান্ড এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিনাত ফায়াজের দাবি, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ফি কমানোর পাশাপাশি ভর্তি যোগ্যতার শর্তও শিথিল করছে। তাঁর মতে, এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কমছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়

অফিস ফর স্টুডেন্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে পোস্টগ্র্যাজুয়েট টিউশন ফি থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয় প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ডে নেমে এসেছে। আগের শিক্ষাবর্ষে এ আয় ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আরও কমলে উচ্চশিক্ষা খাতে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী লেভি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে ৯২৫ পাউন্ড দিতে হবে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।