কম খরচ, বেশি সঞ্চয়: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫ অঙ্গরাজ্য
- প্রকাশঃ ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৮:২৬
- / 9
ওয়াশিংটন, ৭ আগস্ট (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য কোন অঙ্গরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম, কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি এবং সঞ্চয়ের সম্ভাবনা ভালো, তা নিয়ে ২০২৬ সালের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজ্য আয়কর, চাকরির সুযোগ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতির ভিত্তিতে টেক্সাস, মিশিগান, টেনেসি, ফ্লোরিডা ও সাউথ ডাকোটাকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। এর মধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কে বসবাস করেন। এছাড়া মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিতেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।
তবে নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাংলাদেশি কম ব্যয়ের অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
১. টেক্সাস
তালিকার শীর্ষে রয়েছে টেক্সাস। এ অঙ্গরাজ্যে কোনো রাজ্য আয়কর (স্টেট ইনকাম ট্যাক্স) নেই। জীবনযাত্রার ব্যয়ও জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। হিউস্টন, ডালাস ও অস্টিনে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল বাজার এবং বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় নতুন অভিবাসীদের কাছে টেক্সাস অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
২. মিশিগান
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশিগান। ডেট্রয়েট অঞ্চলে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। হামট্রামেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ঘটনাও এ কমিউনিটির প্রভাবের একটি উদাহরণ। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ এবং অটোমোবাইল শিল্পে ভালো বেতনের চাকরি মিশিগানকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
৩. টেনেসি
টেনেসিতেও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রতি মাসে বেশি অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হয়। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে আগ্রহীদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি একটি ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৪. ফ্লোরিডা
ফ্লোরিডাতেও রাজ্য আয়কর নেই। যদিও কিছু শহরে বাড়িভাড়া তুলনামূলক বেশি, তবুও কর সুবিধা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে অনেক বাংলাদেশি এই অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন।
৫. সাউথ ডাকোটা
সাউথ ডাকোটায়ও কোনো রাজ্য আয়কর নেই। কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ট্রাক চালনা, গুদাম ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাতে ভালো আয়ের সুযোগ থাকায় কর্মজীবীদের কাছে অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসবাসের জন্য অঙ্গরাজ্য নির্বাচন করতে গিয়ে কম খরচের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

























