ঢাকা ০৮:৪০ , Sat, ১৫ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

প্রথমবার আমেরিকায় উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছেন? বিমানবন্দরে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যেসব বিষয় জানা জরুরি

নূজহাত নাছিম
  • প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:১৪
  • / 8
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিমানবন্দর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন নথি ও এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদার শর্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে ফাইল ছবি

ওয়াশিংটন, ১৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই শেষ হয় না। বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় নথি, সীমান্ত কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর, প্রবেশের রেকর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদার শর্ত সম্পর্কে আগেই ধারণা থাকা জরুরি। এর মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থানের নিয়মে পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় নতুন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যেসব নথি সঙ্গে রাখবেন

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চেক-ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখা নিরাপদ। সঙ্গে থাকা উচিত বৈধ পাসপোর্ট, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাক্ষর করা আই-২০ ফরম, শিক্ষার্থী ও বিনিময়-ভ্রমণকারী তথ্য ব্যবস্থার ফি পরিশোধের প্রমাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নিশ্চিতকরণপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ঠিকানা। প্রয়োজন হলে আর্থিক সক্ষমতার নথিও সঙ্গে রাখা উচিত।

তবে এফ-১ ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। প্রবেশের বন্দরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা।

সীমান্ত কর্মকর্তা কী জানতে চাইতে পারেন

প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, কোন বিষয় বা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছেন, কোথায় থাকবেন, পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় কে বহন করবেন এবং ক্লাস কবে শুরু হবে, এমন প্রশ্ন করা হতে পারে।

উত্তর দেওয়ার সময় নিজের নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সত্য ও সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া উচিত। কোনো তথ্য মনে না থাকলে অনুমান করে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যেতে পারে।

এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত শিক্ষাক্রম শুরুর তারিখের ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই আই-৯৪ পরীক্ষা করুন

বিমান বা সমুদ্রবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সাধারণত শিক্ষার্থীর আই-৯৪ প্রবেশের রেকর্ড তৈরি হয়। এতে প্রবেশের শ্রেণি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমোদিত সময়সংক্রান্ত তথ্য থাকে।

দেশটিতে পৌঁছানোর পর আই-৯৪ পরীক্ষা করে দেখতে হবে, প্রবেশের শ্রেণিতে এফ-১ সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কি না এবং অনুমোদিত অবস্থানের শেষ তারিখ কী দেওয়া হয়েছে।

কোনো ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্ধারিত শিক্ষার্থী কর্মকর্তা, অর্থাৎ ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কী পরিবর্তন হচ্ছে

এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিত্তিতে প্রবেশের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আগের অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট না থাকা ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে।

এর ফলে আই-৯৪-এ দেওয়া অনুমোদিত অবস্থানের শেষ তারিখ, আই-২০ ফরমে উল্লেখিত শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ এবং শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষাগত অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ দেখলে হবে না। আই-৯৪, আই-২০ এবং এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা, তিনটি বিষয়ই আলাদাভাবে নজরে রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেই ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর বা ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি জমা দেওয়া, আই-২০ যাচাই, আই-৯৪-এর তথ্য জমা, পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, কোর্স নিবন্ধন এবং শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন হিসাব সক্রিয় করার মতো কাজ থাকতে পারে।

কোর্সের সংখ্যা পরিবর্তন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, সাময়িক বিরতি বা পড়াশোনা শেষ হওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার আগে ডিএসওর সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

অনুমতি ছাড়া চাকরি শুরু করা যাবে না

নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। এফ-১ শিক্ষার্থীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন না। অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করলে এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাকরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও যোগ্যতা, সময়সীমা ও অনুমোদনের শর্ত রয়েছে।

তাই কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান, গ্যাস স্টেশন, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোথাও কাজের সুযোগ পেলেই কাজ শুরু করা উচিত নয়। কাজ শুরুর আগে ডিএসওর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

১. আই-৯৪ পরীক্ষা না করা: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রবেশের রেকর্ড যাচাই না করা।

২. আই-২০-এর তারিখ উপেক্ষা করা: শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন হলেও ডিএসওকে না জানানো।

৩. অনুমতি ছাড়া কাজ করা: এফ-১ শিক্ষার্থীদের চাকরির নিয়ম না বুঝে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ শুরু করা।

৪. নিজের সিদ্ধান্তে কোর্স কমানো: পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রয়োজনীয় কোর্সের নিয়ম না জেনে কোর্সের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের আগে ডিএসওর সঙ্গে কথা না বলা: প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া।

৬. অননুমোদিত পরামর্শের ওপর নির্ভর করা: অভিবাসন বা চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে দালাল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে সরকারি নির্দেশনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সহজ তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে একটি ফোল্ডারে রাখা যেতে পারে:

পাসপোর্ট → এফ-১ ভিসা → আই-২০ → শিক্ষার্থী ও বিনিময়-ভ্রমণকারী তথ্য ব্যবস্থার ফি পরিশোধের প্রমাণ → ভর্তি নিশ্চিতকরণপত্র → আর্থিক নথি → বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ → যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা

সব নথির নিরাপদ ডিজিটাল কপিও নিজের ই-মেইল বা অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আই-৯৪ পরীক্ষা, ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ, পরিচিতিমূলক কার্যক্রম, কোর্স নিবন্ধন, শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল এবং স্বাস্থ্যবিমাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা উচিত।

সর্বশেষ সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করুন

অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নিজের এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, কাজের অনুমোদন এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে শিক্ষার্থীকে নিজেকেও সচেতন থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শিক্ষার্থী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারেন, তবে নিজের মর্যাদার শর্ত জানা এবং তা মেনে চলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীরও।

❤️
👏
🙂
😞

প্রথমবার আমেরিকায় উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছেন? বিমানবন্দরে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যেসব বিষয় জানা জরুরি

প্রকাশঃ ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:১৪

ওয়াশিংটন, ১৫ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করার মধ্যেই শেষ হয় না। বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় নথি, সীমান্ত কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তর, প্রবেশের রেকর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদার শর্ত সম্পর্কে আগেই ধারণা থাকা জরুরি। এর মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থানের নিয়মে পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় নতুন শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও অভিবাসনসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যেসব নথি সঙ্গে রাখবেন

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চেক-ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখা নিরাপদ। সঙ্গে থাকা উচিত বৈধ পাসপোর্ট, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাক্ষর করা আই-২০ ফরম, শিক্ষার্থী ও বিনিময়-ভ্রমণকারী তথ্য ব্যবস্থার ফি পরিশোধের প্রমাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নিশ্চিতকরণপত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ঠিকানা। প্রয়োজন হলে আর্থিক সক্ষমতার নথিও সঙ্গে রাখা উচিত।

তবে এফ-১ ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত হয় না। প্রবেশের বন্দরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও শুল্ক সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা।

সীমান্ত কর্মকর্তা কী জানতে চাইতে পারেন

প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, কোন বিষয় বা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছেন, কোথায় থাকবেন, পড়াশোনা ও জীবনযাপনের ব্যয় কে বহন করবেন এবং ক্লাস কবে শুরু হবে, এমন প্রশ্ন করা হতে পারে।

উত্তর দেওয়ার সময় নিজের নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সত্য ও সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া উচিত। কোনো তথ্য মনে না থাকলে অনুমান করে উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যেতে পারে।

এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত শিক্ষাক্রম শুরুর তারিখের ৩০ দিনের বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই আই-৯৪ পরীক্ষা করুন

বিমান বা সমুদ্রবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সাধারণত শিক্ষার্থীর আই-৯৪ প্রবেশের রেকর্ড তৈরি হয়। এতে প্রবেশের শ্রেণি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমোদিত সময়সংক্রান্ত তথ্য থাকে।

দেশটিতে পৌঁছানোর পর আই-৯৪ পরীক্ষা করে দেখতে হবে, প্রবেশের শ্রেণিতে এফ-১ সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কি না এবং অনুমোদিত অবস্থানের শেষ তারিখ কী দেওয়া হয়েছে।

কোনো ভুল বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্ধারিত শিক্ষার্থী কর্মকর্তা, অর্থাৎ ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কী পরিবর্তন হচ্ছে

এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদের ভিত্তিতে প্রবেশের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে আগের অবস্থানের মেয়াদ নির্দিষ্ট না থাকা ব্যবস্থার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হবে।

এর ফলে আই-৯৪-এ দেওয়া অনুমোদিত অবস্থানের শেষ তারিখ, আই-২০ ফরমে উল্লেখিত শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ এবং শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষাগত অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে বা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে। তাই নতুন শিক্ষার্থীদের শুধু ভিসার মেয়াদ দেখলে হবে না। আই-৯৪, আই-২০ এবং এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা, তিনটি বিষয়ই আলাদাভাবে নজরে রাখতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেই ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর বা ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পাসপোর্ট ও ভিসার কপি জমা দেওয়া, আই-২০ যাচাই, আই-৯৪-এর তথ্য জমা, পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, কোর্স নিবন্ধন এবং শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন হিসাব সক্রিয় করার মতো কাজ থাকতে পারে।

কোর্সের সংখ্যা পরিবর্তন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তন, সাময়িক বিরতি বা পড়াশোনা শেষ হওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার আগে ডিএসওর সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

অনুমতি ছাড়া চাকরি শুরু করা যাবে না

নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। এফ-১ শিক্ষার্থীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন না। অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করলে এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাকরির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও যোগ্যতা, সময়সীমা ও অনুমোদনের শর্ত রয়েছে।

তাই কোনো রেস্টুরেন্ট, দোকান, গ্যাস স্টেশন, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোথাও কাজের সুযোগ পেলেই কাজ শুরু করা উচিত নয়। কাজ শুরুর আগে ডিএসওর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

১. আই-৯৪ পরীক্ষা না করা: যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর প্রবেশের রেকর্ড যাচাই না করা।

২. আই-২০-এর তারিখ উপেক্ষা করা: শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন হলেও ডিএসওকে না জানানো।

৩. অনুমতি ছাড়া কাজ করা: এফ-১ শিক্ষার্থীদের চাকরির নিয়ম না বুঝে ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ শুরু করা।

৪. নিজের সিদ্ধান্তে কোর্স কমানো: পূর্ণকালীন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রয়োজনীয় কোর্সের নিয়ম না জেনে কোর্সের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের আগে ডিএসওর সঙ্গে কথা না বলা: প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া।

৬. অননুমোদিত পরামর্শের ওপর নির্ভর করা: অভিবাসন বা চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে দালাল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে সরকারি নির্দেশনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সহজ তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে একটি ফোল্ডারে রাখা যেতে পারে:

পাসপোর্ট → এফ-১ ভিসা → আই-২০ → শিক্ষার্থী ও বিনিময়-ভ্রমণকারী তথ্য ব্যবস্থার ফি পরিশোধের প্রমাণ → ভর্তি নিশ্চিতকরণপত্র → আর্থিক নথি → বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ → যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা

সব নথির নিরাপদ ডিজিটাল কপিও নিজের ই-মেইল বা অনলাইন সংরক্ষণ ব্যবস্থায় রাখা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আই-৯৪ পরীক্ষা, ডিএসওর সঙ্গে যোগাযোগ, পরিচিতিমূলক কার্যক্রম, কোর্স নিবন্ধন, শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল এবং স্বাস্থ্যবিমাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা উচিত।

সর্বশেষ সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করুন

অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নিজের এফ-১ শিক্ষার্থী মর্যাদা, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, কাজের অনুমোদন এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে শিক্ষার্থীকে নিজেকেও সচেতন থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শিক্ষার্থী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারেন, তবে নিজের মর্যাদার শর্ত জানা এবং তা মেনে চলার দায়িত্ব শিক্ষার্থীরও।