যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা নাগালের বাইরে, বন্ধকী ঋণের সুদ বাড়ায় তলানিতে বাড়ি বিক্রির চুক্তি
- প্রকাশঃ ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫
- / 11
ওয়াশিংটন, ২১ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – বাড়ির উচ্চমূল্য ও বন্ধকী ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির চাপে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার লক্ষণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়ি কেনাবেচার চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা চুক্তির সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ২০০১ সালে এ সূচক চালুর পর এটিই সর্বনিম্ন অবস্থান।
মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের (এনএআর) তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে থাকা এবং ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারাচ্ছেন।
বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। মর্টগেজ নিউজ ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ৩০ বছর মেয়াদি স্থির সুদের বন্ধকী ঋণের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। শুক্রবার এ হার ছিল ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
গত আট সপ্তাহে ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করা লাখো মানুষ বাজারের বাইরে চলে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এনএআরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ অগ্রিম অর্থ দিয়ে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কিনতে মাসিক কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য যাঁদের ছিল, সুদের হার ৬ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশে উঠলে তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সেই সামর্থ্য হারান। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার।
প্যানথিয়ন ম্যাক্রোইকোনমিকসের বুধবার প্রকাশিত পৃথক এক হিসাব বলছে, চলতি মাসে মধ্যম দামের বাড়ির মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ গড় কর-পরবর্তী আয়ের ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বছরের শুরুতে এ হার ছিল ৩৫ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ স্যামুয়েল টম্বস এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, গত তিন বছরে বাড়ির দাম প্রায় স্থির থাকলেও আবাসন কেনার সামর্থ্যের ওপর চাপ অনেক বেশি। ফলে বন্ধকী ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর অনেকে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে, যেসব পরিবার আগে কম সুদে ঋণ নিয়েছে, তাদের অনেকেই বর্তমান উচ্চ সুদের কারণে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে।
এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেক মনে করেন, তাঁদের বন্ধকী ঋণের কিস্তি অথবা বাড়িভাড়া বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে বাড়ি বিক্রির অপেক্ষমাণ চুক্তি সবচেয়ে বেশি কমেছে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল। এনএআরের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন দ্রুত সুদের হার বৃদ্ধিকে এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের আদমশুমারি ব্যুরোর বুধবার প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে নতুন বাড়ি নির্মাণেও বড় ধরনের মন্থরতার চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বরে নতুন বাড়ি নির্মাণ শুরুর সংখ্যা আগস্টের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বার্ষিক হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২১ হাজার ইউনিটে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
























