ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুরার পর হতে পারে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৪:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 2

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম ১০ দিনের পর অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির দাফন তদারকি কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত জানাজা আয়োজনের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও নাকচ করেছে তারা।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ওয়ানা ইরানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে খামেনির দাফন তদারকি কমিটি দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা এবং তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করতে ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত লাখো শিয়া মুসলিম যাতে মহররমের প্রথম ১০ দিনের ধর্মীয় কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় বিদায় অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের দশম দিন আশুরা হিসেবে পরিচিত। এ দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শাহাদাত স্মরণে শোক পালন করা হয়। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ইরাকের কারবালায় উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

এ বছর আশুরা ২৫ বা ২৬ জুন পালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খামেনির জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি। কমিটি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ইরানি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রয়াত নেতার স্মরণে বৃহৎ পরিসরের জানাজা ও শোকযাত্রার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তেহরানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ এ মাসের শুরুতে বলেন, তেহরান, কোম ও মাশহাদে তিন দিনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজধানী তেহরানে জানাজা ও শোকযাত্রা অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

আশুরার পর হতে পারে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজা

প্রকাশঃ ০৪:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম ১০ দিনের পর অনুষ্ঠিত হবে। খামেনির দাফন তদারকি কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত জানাজা আয়োজনের বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনও নাকচ করেছে তারা।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ওয়ানা ইরানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে খামেনির দাফন তদারকি কমিটি দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা এবং তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

কমিটি জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করতে ব্যাপক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে অনুষ্ঠান আয়োজনের সময় নির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত লাখো শিয়া মুসলিম যাতে মহররমের প্রথম ১০ দিনের ধর্মীয় কর্মসূচি নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় বিদায় অনুষ্ঠান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মহররমের দশম দিন আশুরা হিসেবে পরিচিত। এ দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের শাহাদাত স্মরণে শোক পালন করা হয়। ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ইরাকের কারবালায় উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদের বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি শহীদ হন।

এ বছর আশুরা ২৫ বা ২৬ জুন পালিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খামেনির জানাজা ও দাফনের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি। কমিটি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

ইরানি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রয়াত নেতার স্মরণে বৃহৎ পরিসরের জানাজা ও শোকযাত্রার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তেহরানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক ডেপুটি মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলিজাদেহ এ মাসের শুরুতে বলেন, তেহরান, কোম ও মাশহাদে তিন দিনের কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজধানী তেহরানে জানাজা ও শোকযাত্রা অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।