‘জয় শ্রীরাম’ বলতে অস্বীকৃতি, ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা
- প্রকাশঃ ০৫:২৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 4
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় নিহত ফেরিওয়ালা আকবর মণ্ডলের ঘটনায় তদন্ত চলছে । ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে।
নিহত আকবর মণ্ডল (৪৭) পেশায় একজন ফেরিওয়ালা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন সকালে তিনি বান্দওয়ান অঞ্চলে ঠেলাগাড়িতে করে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন। এ সময় সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে তাঁকে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
নিহতের ছেলে জুলফিকার মণ্ডল অভিযোগ করেন, প্রথমে তাঁর বাবাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে কুড়াল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি জানান, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার এক কর্মকর্তা ফোন করে তাঁদের আকবর মণ্ডলের মৃত্যুর খবর জানান এবং হাসপাতালে যেতে বলেন।
পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে আকবর মণ্ডলের মরদেহ শনাক্ত করেন। তাঁদের দাবি, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
জুলফিকার মণ্ডল আরও অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁদের বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দাড়ি থাকার কারণে তাঁদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালাদের কাজ করতেও বাধা দেওয়া হতো বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তাঁদের এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। তাঁর পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগের বিষয়ে তারা একমত নয়।




















