ঢাকা ০৫:৫৯ , Sun, ০৫ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
এশিয়া

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬
  • / 15

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২২ সালে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া দেশটি মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার করেছে।

গত বুধবার (১ জুলাই) বিশ্বব্যাংক দেশভিত্তিক আয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় দেশটিকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, শিল্প খাতের পুনরুত্থান, পর্যটন শিল্পের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিই এই সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।

পুনরুদ্ধারের অনন্য উদাহরণ

বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোকে “পুনরুদ্ধারের এক অনন্য গল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে অর্থনীতি আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। যদিও উচ্চ-মধ্যম আয়ের সীমা দেশটি অল্প ব্যবধানে অতিক্রম করেছে, তবুও এই অর্জন তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

কীভাবে নির্ধারণ করা হয়

বিশ্বব্যাংক বিশ্বের দেশগুলোকে চারটি আয়ের শ্রেণিতে ভাগ করে—

  • উচ্চ আয়
  • উচ্চ-মধ্যম আয়
  • নিম্ন-মধ্যম আয়
  • নিম্ন আয়

এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয় আগের পঞ্জিকাবর্ষের মাথাপিছু স্থূল জাতীয় আয় (GNI) অনুযায়ী। এবারের মূল্যায়নে বিশ্বের ২১৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এই শ্রেণিবিন্যাস ২০২৭ সালের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সংকট থেকে উত্তরণ

২০১৯ সালের ইস্টার সানডের আত্মঘাতী বোমা হামলা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ২০২২ সালে দেশটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সার্বভৌম ঋণ খেলাপি) রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে দেশটি।

দ্বিতীয়বার উচ্চ-মধ্যম আয়ের তালিকায়

এর আগে ২০১৯ সালেও প্রথমবারের মতো উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

তবে পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যায় এবং মাথাপিছু আয় হ্রাস পাওয়ায় দেশটি আবার নিম্ন-মধ্যম আয়ের তালিকায় নেমে আসে।

সর্বশেষ মূল্যায়নে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ফিরে পাওয়া শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

❤️
👏
🙂
😞

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা

প্রকাশঃ ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬

ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় ফিরেছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২২ সালে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া দেশটি মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার করেছে।

গত বুধবার (১ জুলাই) বিশ্বব্যাংক দেশভিত্তিক আয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ শ্রেণিবিন্যাস প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় দেশটিকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, শিল্প খাতের পুনরুত্থান, পর্যটন শিল্পের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক সেবা খাতের প্রবৃদ্ধিই এই সাফল্যের প্রধান ভিত্তি।

পুনরুদ্ধারের অনন্য উদাহরণ

বিশ্বব্যাংক শ্রীলঙ্কার এই ঘুরে দাঁড়ানোকে “পুনরুদ্ধারের এক অনন্য গল্প” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে দেশটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে অর্থনীতি আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। যদিও উচ্চ-মধ্যম আয়ের সীমা দেশটি অল্প ব্যবধানে অতিক্রম করেছে, তবুও এই অর্জন তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

কীভাবে নির্ধারণ করা হয়

বিশ্বব্যাংক বিশ্বের দেশগুলোকে চারটি আয়ের শ্রেণিতে ভাগ করে—

  • উচ্চ আয়
  • উচ্চ-মধ্যম আয়
  • নিম্ন-মধ্যম আয়
  • নিম্ন আয়

এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয় আগের পঞ্জিকাবর্ষের মাথাপিছু স্থূল জাতীয় আয় (GNI) অনুযায়ী। এবারের মূল্যায়নে বিশ্বের ২১৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এই শ্রেণিবিন্যাস ২০২৭ সালের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

সংকট থেকে উত্তরণ

২০১৯ সালের ইস্টার সানডের আত্মঘাতী বোমা হামলা, কোভিড-১৯ মহামারি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, ২০২২ সালে দেশটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি (সার্বভৌম ঋণ খেলাপি) রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর ফলে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে দেশটি।

দ্বিতীয়বার উচ্চ-মধ্যম আয়ের তালিকায়

এর আগে ২০১৯ সালেও প্রথমবারের মতো উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

তবে পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রবৃদ্ধি কমে যায় এবং মাথাপিছু আয় হ্রাস পাওয়ায় দেশটি আবার নিম্ন-মধ্যম আয়ের তালিকায় নেমে আসে।

সর্বশেষ মূল্যায়নে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ফিরে পাওয়া শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।