ইতালির পোস্ট অফিসে বহুভাষিক সেবা, প্রবাসীদের দাপ্তরিক কাজ হবে আরও সহজ
- প্রকাশঃ ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৪০
- / 7
রোম, ৩ আগস্ট ২০২৬ (প্রজন্ম কথা)— ইতালিতে বসবাসরত অভিবাসীদের ভাষাগত বাধা দূর করে সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির জাতীয় ডাকবিভাগ পোস্তে ইতালিয়ানে। এই উদ্যোগের আওতায় মিলান এবং পার্শ্ববর্তী সেস্তো সান জিওভান্নি এলাকার কয়েকটি পোস্ট অফিসে বহুভাষিক সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে অভিবাসীরা রেসিডেন্স পারমিটসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবা গ্রহণে নিজস্ব ভাষায় সহায়তা পাচ্ছেন।
ইতালিতে নতুন আসা অনেক অভিবাসীর জন্য ইতালীয় ভাষায় বিভিন্ন সরকারি ফরম পূরণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিট (পারমেসো দি সোজ্জর্নো) সংক্রান্ত আবেদন এবং অন্যান্য সরকারি সেবার ক্ষেত্রে ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েন।
এই সমস্যা কমাতে মিলান ও সেস্তো সান জিওভান্নি এলাকার পোস্ট অফিসগুলোতে ডিজিটাল টোটেম বা নির্দেশনা স্ক্রিনে ইতালীয় ভাষার পাশাপাশি আরবি ও স্প্যানিশ ভাষায়ও তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহের সময় ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে পারছেন।
সেস্তো সান জিওভান্নি লম্বার্দিয়া অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রায় ৭৮ হাজার বাসিন্দার এ শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৬ শতাংশই বিদেশি বংশোদ্ভূত। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ মিশর এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী।
ডাকবিভাগের বহুভাষিক কর্মী লরা বোলেস বলেন, গ্রাহক ও কর্মকর্তার মধ্যে একই ভাষায় যোগাযোগ সম্ভব হলে সমস্যা দ্রুত এবং আরও নির্ভুলভাবে সমাধান করা যায়। বিশেষ করে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন জমা দিতে আসা অভিবাসীদের জন্য এই সেবা বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
ডাকবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্যস্ত সময়ে এসব পোস্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে ২০টিরও বেশি রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন জমা পড়ে।
ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মিলানে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন, যা শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। এই জনগোষ্ঠীর সেবার কথা বিবেচনা করে মিলানের পাওলো সার্পি, সেন্ট্রাল স্টেশন এলাকা এবং করভেত্তোতে বহুভাষিক পোস্ট অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন-সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক কাজে যুক্ত মিশরীয় বংশোদ্ভূত কর্মী ক্রিস্টিয়ানা জানান, এই উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে প্রবাসী নারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেরাই বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। সরকারি ভাতার আবেদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণেও তারা ভাষাগত সহায়তা পাচ্ছেন।
পোস্ট অফিসগুলোর বহুভাষিক শাখায় রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত সহায়তার পাশাপাশি ডাকসেবা, অর্থ স্থানান্তর এবং অন্যান্য প্রচলিত সেবাও আগের মতো চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সেবায় ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ইতালির অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি কার্যকর মডেল হতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





















