ঢাকা ০৯:৪০ , Wed, ১৬ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
ইউরোপ

ইউরোপে রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বাড়ছে

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪২
  • / 6
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হচ্ছে ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে মুসলিমদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। ইউরোপে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লেও পুরো মহাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় তাদের অংশ এখনও সীমিত। ২০২০ সালের হিসাবে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মুসলিম ছিল বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে ইসলাম ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দল হিসেবে উঠে আসে। দলটি কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছে।

ফ্রান্সেও ইসলামি পোশাক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। মেরিন লে পেনের দল র‌্যাসেম্বলমঁ নাসিওনাল প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আবার সামনে এনেছে। দলটির সমর্থকদের মধ্যে এ প্রস্তাবের প্রতি উচ্চ সমর্থনের কথা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রবণতার পাশাপাশি ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে এমন কিছু ধারণাও ছড়িয়েছে, যেখানে মুসলিম অভিবাসনকে ইউরোপের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ‘ইসলামি দখল’, ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা ইউরোপে শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার মতো ধারণা এ বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের উদ্ধৃত বিশ্লেষণে এসব ধারণার বাস্তব ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়লেও তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যা ইউরোপের রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক কাঠামোকে মুসলিমদের দ্বারা দখলের ধারণাকে সমর্থন করে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপে মুসলিমদের অনুপাত প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় অংশ অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও একমুখী চিত্র পাওয়া যায় না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিম পরিবারগুলোর সন্তানরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতিতে নিজ নিজ অবস্থান তৈরি করছে। ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তবে আপনার দেওয়া ২০২১ সালের ৬৭ শতাংশ বনাম ৩৮ শতাংশের নির্দিষ্ট তুলনাটি সরকারি উৎসে এই অনুসন্ধানে নিশ্চিত করা যায়নি, তাই সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। ব্রিটিশ শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির হারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে উচ্চ ছিল।

রাজনীতিতেও মুসলিমদের উপস্থিতি বেড়েছে। ব্রিটেনে মুসলিম রাজনীতিকরা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। মুসলিম পরিচয় থাকা মানেই ইউরোপীয় সমাজের মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হবে, এমন সরলীকৃত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো উদাহরণও রয়েছে।

তবে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি দিক হলো ইসলামপন্থার রাজনৈতিক মতাদর্শ। দ্য ইকোনমিস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের আলোচনায় ইসলামিজমের উগ্র রাজনৈতিক রূপকে ইউরোপের জন্য একটি সীমিত হলেও বাস্তব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামভীতিনির্ভর উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিও সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে বলে সেখানে আলোচনা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। লেখাটিতে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের রাজনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গও সেখানে এসেছে।

অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির প্রস্তাবিত কিছু পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা পোশাক নিষেধাজ্ঞার মতো নীতি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াতে পারে এবং সমাজের মূলধারা থেকে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে লেখাটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

এই আলোচনায় তথ্যের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা এবং তা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনুমান, অতিরঞ্জন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব জনপরিসরে জায়গা করে নিতে পারে।

ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অতীতে ইউরোপে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের ঘিরেও নতুন সমাজে তাদের অবস্থান নিয়ে সামাজিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জনগোষ্ঠীর বড় অংশ ইউরোপীয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সামাজিক একীভবনের প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে লেখাটিতে মত দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। একদিকে সহিংসতা, সহিংসতার হুমকি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা হলে ইউরোপের সামাজিক বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া তথ্যও ‘ইসলামি দখল’ ধরনের ধারণার সঙ্গে সরাসরি মেলে না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে ২০২০ সালে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মুসলিম ছিল। ২০১০ সালে এই হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে পরিবর্তন হয়েছে, তবে তা মোট জনসংখ্যার তুলনায় সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে ইউরোপে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি ইসলাম, অভিবাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কও চলতে থাকবে। এ বিতর্কে নির্ভরযোগ্য জনসংখ্যাগত তথ্য, অভিবাসনের প্রকৃত চিত্র এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থানকে আলাদা করে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

ইউরোপে রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বাড়ছে

প্রকাশঃ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৪২

ইউরোপ, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে মুসলিমদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। ইউরোপে মুসলমানদের সংখ্যা বাড়লেও পুরো মহাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় তাদের অংশ এখনও সীমিত। ২০২০ সালের হিসাবে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মুসলিম ছিল বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাগুলোতে ইসলাম ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডি ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দল হিসেবে উঠে আসে। দলটি কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে কঠোর বক্তব্য দিয়ে আসছে।

ফ্রান্সেও ইসলামি পোশাক নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। মেরিন লে পেনের দল র‌্যাসেম্বলমঁ নাসিওনাল প্রকাশ্য স্থানে ইসলামি হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আবার সামনে এনেছে। দলটির সমর্থকদের মধ্যে এ প্রস্তাবের প্রতি উচ্চ সমর্থনের কথা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই রাজনৈতিক প্রবণতার পাশাপাশি ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে এমন কিছু ধারণাও ছড়িয়েছে, যেখানে মুসলিম অভিবাসনকে ইউরোপের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ‘ইসলামি দখল’, ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ বা ইউরোপে শরিয়াভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার মতো ধারণা এ বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের উদ্ধৃত বিশ্লেষণে এসব ধারণার বাস্তব ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়লেও তা এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যা ইউরোপের রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক কাঠামোকে মুসলিমদের দ্বারা দখলের ধারণাকে সমর্থন করে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইউরোপে মুসলিমদের অনুপাত প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। একই সময়ে ইউরোপের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় অংশ অভিবাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও একমুখী চিত্র পাওয়া যায় না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিম পরিবারগুলোর সন্তানরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনীতিতে নিজ নিজ অবস্থান তৈরি করছে। ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তবে আপনার দেওয়া ২০২১ সালের ৬৭ শতাংশ বনাম ৩৮ শতাংশের নির্দিষ্ট তুলনাটি সরকারি উৎসে এই অনুসন্ধানে নিশ্চিত করা যায়নি, তাই সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। ব্রিটিশ শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জাতিগত পরিচয়ভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির হারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে উচ্চ ছিল।

রাজনীতিতেও মুসলিমদের উপস্থিতি বেড়েছে। ব্রিটেনে মুসলিম রাজনীতিকরা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। মুসলিম পরিচয় থাকা মানেই ইউরোপীয় সমাজের মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হবে, এমন সরলীকৃত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো উদাহরণও রয়েছে।

তবে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি দিক হলো ইসলামপন্থার রাজনৈতিক মতাদর্শ। দ্য ইকোনমিস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমসের আলোচনায় ইসলামিজমের উগ্র রাজনৈতিক রূপকে ইউরোপের জন্য একটি সীমিত হলেও বাস্তব নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামভীতিনির্ভর উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিও সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে বলে সেখানে আলোচনা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। লেখাটিতে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের বিস্তারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ ইসলামবিরোধী কর্মী টমি রবিনসনের রাজনৈতিক তৎপরতার প্রসঙ্গও সেখানে এসেছে।

অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির প্রস্তাবিত কিছু পদক্ষেপ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কিংবা পোশাক নিষেধাজ্ঞার মতো নীতি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াতে পারে এবং সমাজের মূলধারা থেকে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে লেখাটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামপন্থার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।

এই আলোচনায় তথ্যের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন, জনসংখ্যা ও সামাজিক পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা এবং তা প্রকাশ করা জরুরি। কারণ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি থাকলে অনুমান, অতিরঞ্জন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব জনপরিসরে জায়গা করে নিতে পারে।

ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অতীতে ইউরোপে ক্যাথলিক, ইহুদি ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের ঘিরেও নতুন সমাজে তাদের অবস্থান নিয়ে সামাজিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে এসব জনগোষ্ঠীর বড় অংশ ইউরোপীয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সামাজিক একীভবনের প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে লেখাটিতে মত দেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠী নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি। একদিকে সহিংসতা, সহিংসতার হুমকি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে। বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা হলে ইউরোপের সামাজিক বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া তথ্যও ‘ইসলামি দখল’ ধরনের ধারণার সঙ্গে সরাসরি মেলে না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে ২০২০ সালে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মুসলিম ছিল। ২০১০ সালে এই হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকে পরিবর্তন হয়েছে, তবে তা মোট জনসংখ্যার তুলনায় সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে ইউরোপে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি ইসলাম, অভিবাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কও চলতে থাকবে। এ বিতর্কে নির্ভরযোগ্য জনসংখ্যাগত তথ্য, অভিবাসনের প্রকৃত চিত্র এবং মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামাজিক অবস্থানকে আলাদা করে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।