জার্মানিতে থাকার মেয়াদ বাড়াতে জটিলতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
- প্রকাশঃ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৯
- / 10
বার্লিন, ১৭ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে পড়াশোনা করতে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতির মেয়াদ বাড়াতে গিয়ে তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কারও পাসপোর্ট ভিসা কর্তৃপক্ষ রেখে দিয়েছে, আবার অনেককে রেসিডেন্স পারমিটের কার্ড না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সাময়িক থাকার অনুমোদন বা ফিকশিয়ন বেশাইনিগুং দেওয়া হচ্ছে।
জার্মানিতে মাস্টার্সের কোর্স সাধারণত দেড় থেকে দুই বছর এবং ব্যাচেলর কোর্স তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের হয়ে থাকে। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পড়াশোনা শেষ করতে বেশি সময় লাগায় দেশটির কয়েকটি শহরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সময় সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে আসা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নর্থ-রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ এবং অভিবাসীবান্ধব পরিবেশের কারণে রাজ্যটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রাজ্যের দুটি শহরের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সাময়িক থাকার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে পড়াশোনার হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হচ্ছে। কয়েকজনের পাসপোর্ট সাময়িকভাবে রেখে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিয়াসাত আলম (পরিবর্তিত নাম) ডয়চে ভেলেকে বলেন, তার মাস্টার্স প্রোগ্রাম দেড় বছরের হলেও সাড়ে পাঁচ বছরেও তা শেষ করতে পারেননি। রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সময় ভিসা অফিসার তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
রিয়াসাত বলেন, ‘‘আমাকে ভিসা অফিসার বলেছেন, তোমার দেড় বছরের মাস্টার্স কেন সাড়ে পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারো নাই। আমি ভিসা অফিসারকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে নানা ঝামেলার কারণে শেষ করতে পারিনি। কিন্তু আমার উত্তর ওনার পছন্দ হয়নি। পরে আমার পাসপোর্ট রেখে দিয়েছে আর বলেছে, তিন মাস সময়ের মধ্যে যদি কোনো অগ্রগতি না হয় তাহলে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিবে।’’
আরেক শিক্ষার্থী জাহানারা ইয়াসমিন (পরিবর্তিত নাম) জানান, চার সেমিস্টারের মাস্টার্স ১২ সেমিস্টারেও শেষ করতে না পারায় রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের সময় তার পাসপোর্ট রেখে দেওয়া হয়েছিল।
জাহানারা বলেন, ‘‘আমি স্বাভাবিকভাবেই আমার রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা রিনিউ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার চার সেমিস্টারের মাস্টার্স ১২ সেমিস্টারেও শেষ করতে না পারায় আমার পাসপোর্ট রেখে দিয়েছিল। এরপর আমি এক সেমিস্টারে কিছু কোর্স শেষ করার প্রমাণ দেখানোর পর ছয় মাসের মাথায় আমাকে পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছে। কিন্তু রেসিডেন্স পারমিটের যেই প্লাস্টিক কার্ড, সেটি দেয়নি। ফিকশিয়ন বেশাইনিগুং দিয়ে দিয়েছে আবার ছয় মাসের জন্য।’’
পরবর্তীতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে জাহানারা শহর পরিবর্তন করে অন্য শহরে চলে গেছেন বলেও জানান।
মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আরেক শিক্ষার্থী সাকিব চৌধুরী (পরিবর্তিত নাম) জানান, প্রায় ১৪ মাস ধরে তাকে সাময়িক থাকার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ছয় মাস পর পর তাকে ভিসা অফিসে গিয়ে এর মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে।
সাকিব বলেন, ‘‘আমি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নতুন রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও আমাকে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। প্রথমে ফিকশিয়ন বেশাইনিগুং দেয় তিন মাসের। এরপর ৬ মাস করে দুইবার দিয়েছে। কিন্তু এখনও কার্ডের জন্য আমার ছবি বা ফিঙ্গার প্রিন্ট জমা নেয়ার কোনো অ্যাপয়েনমেন্ট পাইনি। এর মধ্যে কিছুটা ভয়ও কাজ করছে যে সামনেরবার গেলে তারা পাসপোর্ট রেখে দেয় কিনা।’’
ডয়চে ভেলে শহরটির ভিসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের রেসিডেন্স পারমিটের কার্ড না দিয়ে ছয় থেকে ১২ মাসের সাময়িক থাকার অনুমোদন বা ফিকশিয়ন বেশাইনিগুং দেওয়া হচ্ছে। অনেকের খণ্ডকালীন কাজের চুক্তি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকার পরও তাদের ব্লক অ্যাকাউন্ট অথবা স্পন্সরশিপ দেখাতে বলা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাসপোর্ট জব্দ করার কোনো আইন রয়েছে কি না, তা জানতে ডয়চে ভেলে জার্মানির ফেডারেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এলেনা জিঙ্গার জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন বা বসবাসের নিয়মাবলীতে সর্বশেষ পরিবর্তনটি ২০২৩ সালের দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ক আইনের মাধ্যমে আনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান আবাসন বা বসবাসের নিয়মাবলীতে সর্বশেষ পরিবর্তনটি ২০২৩ সালের ‘দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ক আইন’ এর মাধ্যমে আনা হয়েছিল। পরিচয়পত্র জমা দেয়া, হস্তান্তর করা বা স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াটি সবসময় বিদেশিদের জন্য প্রচলিত আইনের আওতায় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে হতে হবে এবং তা বিচ্ছিন্নভাবে করা যাবে না।’’
তবে রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা বাতিলের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ভিসা অফিসার পাসপোর্ট জমা রাখতে পারেন বলে জানান তিনি।
এলেনা জিঙ্গার বলেন, ‘‘কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই করা, বসবাসের অনুমতি প্রদান বা মেয়াদ বৃদ্ধির সময় পরিচয় নিশ্চিত করা, অথবা বসবাসের অনুমতি প্রত্যাহার বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।’’
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে


























