ঢাকা ১১:১৯ , Thu, ০৬ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

দুই ইরানি আশ্রয়প্রার্থী নারী ফুটবলারকে নাগরিকত্ব দিল অস্ট্রেলিয়া

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১:০৬
  • / 3
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্কের সঙ্গে আশ্রয় পাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ ছবি: সংগৃহীত

ইরানে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা নতুন নাগরিকত্ব পাওয়াকে নিজেদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।

যৌথ বিবৃতিতে দুই ফুটবলার জানান, বুধবার ব্রিসবেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইরানি সম্প্রদায়ের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আতেফেহ রামেজানিসাদেহ বলেন, এটি তাঁর জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়া তাঁকে নতুন জীবন শুরু করার এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে। তবে নিজের ইরানি শিকড় ও স্মৃতি সব সময় তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকবে।

ফাতেমেহ পাসানদিদেহও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের পর এই স্বীকৃতি পাওয়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি তাঁর জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন।

দুই ফুটবলারের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে শরণার্থীরা বৈধ ভিসায় চার বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে দেশটির আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা কমানোর সুযোগ রয়েছে।

ইরান নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নারী ফুটবল লিগের ক্লাব ব্রিসবেন রোরে যোগ দেন এবং সেখানে আশ্রয় লাভ করেন। শুরুতে সাতজন ইরানি নারী ফুটবলার আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নিজ দলের সঙ্গে ইরানে ফিরে যান।

ইরানে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের আগে কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে এক ইরানি টেলিভিশন ভাষ্যকার তাঁদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের আশ্রয়ের পক্ষে অবস্থান নেন এবং এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গেও কথা বলেন।

❤️
👏
🙂
😞

দুই ইরানি আশ্রয়প্রার্থী নারী ফুটবলারকে নাগরিকত্ব দিল অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশঃ ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১:০৬

ইরানে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা নতুন নাগরিকত্ব পাওয়াকে নিজেদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।

যৌথ বিবৃতিতে দুই ফুটবলার জানান, বুধবার ব্রিসবেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইরানি সম্প্রদায়ের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আতেফেহ রামেজানিসাদেহ বলেন, এটি তাঁর জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, অস্ট্রেলিয়া তাঁকে নতুন জীবন শুরু করার এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে। তবে নিজের ইরানি শিকড় ও স্মৃতি সব সময় তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকবে।

ফাতেমেহ পাসানদিদেহও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের পর এই স্বীকৃতি পাওয়া ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি তাঁর জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন।

দুই ফুটবলারের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে শরণার্থীরা বৈধ ভিসায় চার বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে দেশটির আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা কমানোর সুযোগ রয়েছে।

ইরান নারী ফুটবল দল এশিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ নারী ফুটবল লিগের ক্লাব ব্রিসবেন রোরে যোগ দেন এবং সেখানে আশ্রয় লাভ করেন। শুরুতে সাতজন ইরানি নারী ফুটবলার আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পরে তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নিজ দলের সঙ্গে ইরানে ফিরে যান।

ইরানে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়, কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের আগে কয়েকজন খেলোয়াড় জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে এক ইরানি টেলিভিশন ভাষ্যকার তাঁদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে মন্তব্য করেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের আশ্রয়ের পক্ষে অবস্থান নেন এবং এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গেও কথা বলেন।