ঢাকা ০৯:২৮ , Sat, ০৮ Aug ২০২৬

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান, বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

সিএনএন
  • প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৩
  • / 9
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। অথচ অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাইয়ে প্রায় ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরস্পরবিরোধী চিত্র মার্কিন শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। একদিকে নতুন চাকরি সৃষ্টি না হয়ে উল্টো কমেছে, অন্যদিকে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে শ্রমবাজারের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন হতাশাজনক এবং শ্রমবাজারের গতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, নিয়োগ কমলেও ব্যাপক ছাঁটাইয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি হয়নি, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়েছে।

প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্য সংশোধন। মে ও জুন মাসে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার কম।

তবে এই তথ্যকে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না অনেক অর্থনীতিবিদ। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতি এখনো ভোক্তা ব্যয়ের ওপর ভর করে টিকে আছে। যুদ্ধ, শুল্কনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশটি এখন পর্যন্ত মন্দায় প্রবেশ করেনি।

তবে শ্রমবাজারে কিছু দুর্বলতার ইঙ্গিতও রয়েছে। বেকারত্বের হার কমার পেছনে একটি কারণ হলো অনেক মানুষ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর শ্রমশক্তির অংশ হিসেবে গণনা হচ্ছেন না। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয়ও চাপের মুখে রয়েছে।

অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতেও জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমেছে। সাধারণত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র সামনে এসেছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিস্তার শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এআই প্রযুক্তির কারণে কিছু চাকরির ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে কি না কিংবা কর্মীরা তুলনামূলক নিরাপদ পেশার দিকে ঝুঁকছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কর্মসংস্থানের এই দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। শ্রমবাজারের অবস্থা বিবেচনায় ফেড সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে মার্কিন ভোক্তাদের আয় ও ব্যয় কমে যেতে পারে। এর ফলে আমদানি চাহিদা হ্রাস পেলে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।

অন্যদিকে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার কারণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ডলারের শক্তি কিছুটা কমে গেলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে এবং বৈদেশিক ঋণের ব্যয়ও হ্রাস পেতে পারে।

ফলে জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন একদিকে বৈশ্বিক চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য স্বস্তির ইঙ্গিতও তৈরি করছে।

সূত্র: সিএনএন

❤️
👏
🙂
😞

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান, বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৩

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দেশটির শ্রম বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। অথচ অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাইয়ে প্রায় ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সময়ে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরস্পরবিরোধী চিত্র মার্কিন শ্রমবাজারের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। একদিকে নতুন চাকরি সৃষ্টি না হয়ে উল্টো কমেছে, অন্যদিকে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে শ্রমবাজারের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন হতাশাজনক এবং শ্রমবাজারের গতি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে আরেকটি মত হলো, নিয়োগ কমলেও ব্যাপক ছাঁটাইয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে শ্রমবাজারে তাৎক্ষণিক সংকট তৈরি হয়নি, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়েছে।

প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের তথ্য সংশোধন। মে ও জুন মাসে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার কম।

তবে এই তথ্যকে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না অনেক অর্থনীতিবিদ। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতি এখনো ভোক্তা ব্যয়ের ওপর ভর করে টিকে আছে। যুদ্ধ, শুল্কনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশটি এখন পর্যন্ত মন্দায় প্রবেশ করেনি।

তবে শ্রমবাজারে কিছু দুর্বলতার ইঙ্গিতও রয়েছে। বেকারত্বের হার কমার পেছনে একটি কারণ হলো অনেক মানুষ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে তারা আর শ্রমশক্তির অংশ হিসেবে গণনা হচ্ছেন না। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত আয়ও চাপের মুখে রয়েছে।

অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতেও জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমেছে। সাধারণত বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় এ খাতে কর্মসংস্থান বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র সামনে এসেছে।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের বিস্তার শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এআই প্রযুক্তির কারণে কিছু চাকরির ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে কি না কিংবা কর্মীরা তুলনামূলক নিরাপদ পেশার দিকে ঝুঁকছেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কর্মসংস্থানের এই দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। শ্রমবাজারের অবস্থা বিবেচনায় ফেড সুদের হার কমানোর পথে হাঁটবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বাজার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার ফলে মার্কিন ভোক্তাদের আয় ও ব্যয় কমে যেতে পারে। এর ফলে আমদানি চাহিদা হ্রাস পেলে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।

অন্যদিকে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার কারণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। ডলারের শক্তি কিছুটা কমে গেলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে এবং বৈদেশিক ঋণের ব্যয়ও হ্রাস পেতে পারে।

ফলে জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন একদিকে বৈশ্বিক চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিক বাজারে সম্ভাব্য স্বস্তির ইঙ্গিতও তৈরি করছে।

সূত্র: সিএনএন