ঢাকা ০৫:৩৭ , Mon, ১০ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পেছনে যুক্তরাজ্যের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড, ঋণ ফেরত না আসায় বাড়ছে উদ্বেগ

নূজহাত নাছিম
  • প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯
  • / 10
ছবি: ফক্স বিজনেস

লন্ডন, ৯ আগস্ট ২০২৬ (প্রজন্ম কথা) – ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের শিক্ষাঋণ ও জীবনযাপন ব্যয়ের অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অনুদান হিসেবে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। এর বড় অংশ পেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য কম হারের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের তুলনায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ কম সম্ভাবনাময়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত ঋণ ও ফি বাবদ প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক চাপ ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি স্টুডেন্ট লোন কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার বিদেশি নাগরিক শিক্ষাঋণ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’-এর ভিত্তিতে এই আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে ব্রেক্সিটের পর নির্ধারিত ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের জন্য সরকারি অর্থায়নে শিক্ষাঋণের পরিমাণ এবং এর কতটা শেষ পর্যন্ত ফেরত আসছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে রোমানিয়ার নাগরিকদের ঋণ গ্রহণের হারও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নেওয়া নতুন প্রথমবারের শিক্ষাঋণের প্রতি ২০টির মধ্যে প্রায় একটি রোমানিয়ার নাগরিকদের নেওয়া হয়েছে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য জালিয়াতি ও শিক্ষাঋণ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কনজারভেটিভ এমপি নিল ও’ব্রায়েন শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটিতে ‘অপব্যবহারের স্পষ্ট লক্ষণ’ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক সরকারি অর্থের এই সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি ‘পাগলাটে’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষাঋণ পাওয়ার জন্য কঠোর যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাঋণ পাওয়ার সুযোগ পান না। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিক হওয়া মাত্রই কেউ এই সুবিধার যোগ্য হন না, নির্দিষ্ট আবাসিক ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।

তবে ঋণ ফেরত পাওয়ার হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এর ফলে সরকারি অর্থে দেওয়া ঋণের কতটা আদায় হচ্ছে এবং কতটা শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর আর্থিক দায় হিসেবে থেকে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছায়া শিক্ষামন্ত্রী লরা ট্রট সরকারের শিক্ষাঋণ ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, যে বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেই ব্যয়ের বোঝা ব্রিটিশ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “লেবারকে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণ ও আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা, ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’-এর ভিত্তিতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঋণ পরিশোধের হার, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিতর্কটি মূলত জোরালো হয়েছে। সরকার বিদ্যমান যোগ্যতার নিয়মকে কঠোর বলে দাবি করলেও বিরোধীরা সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছে।

❤️
👏
🙂
😞

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পেছনে যুক্তরাজ্যের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড, ঋণ ফেরত না আসায় বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯

লন্ডন, ৯ আগস্ট ২০২৬ (প্রজন্ম কথা) – ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের শিক্ষাঋণ ও জীবনযাপন ব্যয়ের অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ অনুদান হিসেবে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। এর বড় অংশ পেয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষাঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য কম হারের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের তুলনায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ শতাংশ কম সম্ভাবনাময়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত ঋণ ও ফি বাবদ প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক চাপ ব্রিটিশ করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি স্টুডেন্ট লোন কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার বিদেশি নাগরিক শিক্ষাঋণ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’-এর ভিত্তিতে এই আর্থিক সহায়তার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে ব্রেক্সিটের পর নির্ধারিত ব্যবস্থায় বিদেশি নাগরিকদের জন্য সরকারি অর্থায়নে শিক্ষাঋণের পরিমাণ এবং এর কতটা শেষ পর্যন্ত ফেরত আসছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।

এ ক্ষেত্রে রোমানিয়ার নাগরিকদের ঋণ গ্রহণের হারও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নেওয়া নতুন প্রথমবারের শিক্ষাঋণের প্রতি ২০টির মধ্যে প্রায় একটি রোমানিয়ার নাগরিকদের নেওয়া হয়েছে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য জালিয়াতি ও শিক্ষাঋণ ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কনজারভেটিভ এমপি নিল ও’ব্রায়েন শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাটিতে ‘অপব্যবহারের স্পষ্ট লক্ষণ’ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক সরকারি অর্থের এই সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকেও তিনি ‘পাগলাটে’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষাঋণ পাওয়ার জন্য কঠোর যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষাঋণ পাওয়ার সুযোগ পান না। অর্থাৎ বিদেশি নাগরিক হওয়া মাত্রই কেউ এই সুবিধার যোগ্য হন না, নির্দিষ্ট আবাসিক ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।

তবে ঋণ ফেরত পাওয়ার হার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায় তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। এর ফলে সরকারি অর্থে দেওয়া ঋণের কতটা আদায় হচ্ছে এবং কতটা শেষ পর্যন্ত করদাতাদের ওপর আর্থিক দায় হিসেবে থেকে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ছায়া শিক্ষামন্ত্রী লরা ট্রট সরকারের শিক্ষাঋণ ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, যে বিপুল অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, সেই ব্যয়ের বোঝা ব্রিটিশ করদাতাদের বহন করা উচিত নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “লেবারকে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণ ও আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা, ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’-এর ভিত্তিতে সুবিধা পাওয়ার সুযোগ এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঋণ পরিশোধের হার, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিতর্কটি মূলত জোরালো হয়েছে। সরকার বিদ্যমান যোগ্যতার নিয়মকে কঠোর বলে দাবি করলেও বিরোধীরা সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় এবং ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছে।