ঢাকা ০৫:৫৯ , Thu, ২৪ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমছে, কলেজের বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে ঝোঁক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯
  • / 7
কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অংশ বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

অটোয়া, ২৪ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে সরকারের ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণের প্রভাব এখন শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি তথ্য বলছে, একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন সেই চিত্রও। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর অংশ কমে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের অনুপাত বাড়ছে। একই সময়ে দেশটিতে থাকা মোট স্টাডি পারমিটধারীর সংখ্যাও এক বছরে ২৬ শতাংশ কমেছে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ২১৫ জন স্টাডি পারমিটধারী ছিলেন। ২০২৪ সালের শেষে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। অর্থাৎ এক বছরে স্টাডি পারমিটধারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কমেছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে কানাডায় নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমনও আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কমেছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে ২০২৪ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ রয়েছে। কানাডা সরকার দ্রুত বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমানো এবং কর্মসূচির মান ও সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের সংখ্যা সীমিত করেছে। ২০২৬ সালের জন্য সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৫ হাজার নতুন করে কানাডায় আসা শিক্ষার্থীর জন্য এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার বর্তমান ও ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের পারমিট নবায়নের জন্য নির্ধারিত।

কানাডার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বণ্টনে পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। ২০২৩ সালে সরকারি কলেজগুলোতে ছিলেন প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার ২৭০ জন স্টাডি পারমিটধারী, যা ওই শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ জন, বা ৪৪ শতাংশ।

২০২৫ সালে সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর অংশ কমে ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ শতাংশে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ আরও বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আর কলেজের অংশ কমে হয়েছে ৩৯ শতাংশ।

অর্থাৎ কয়েক বছর আগে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যায় কলেজ এগিয়ে থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রায় সমান অবস্থানে এসেছে, এবং ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেছে। তবে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানটি বছরের শুরুর সময়ের হওয়ায় পরবর্তী সময়ে এতে পরিবর্তন হতে পারে।

কানাডার অভিবাসন বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের অনুপাত মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি ফিরছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি স্টাডি পারমিট পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংস্কারের পর কর্মসূচিতে এই পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে।

কানাডার নতুন নীতিতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের স্টাডি পারমিট কাঠামোয় সরকারি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক প্রত্যয়নপত্রের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পারমিটও বরাদ্দ করা হয়েছে।

ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। বিভাগটির হিসাবে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হয় না এমন ডক্টরাল আবেদনের ৯৬ শতাংশ গড়ে দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে। তুলনামূলক জটিল আবেদনগুলো গড়ে নয় দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর পাশাপাশি কানাডা আবেদন যাচাই ও কর্মসূচির নিয়মও কঠোর করেছে। ২০২৪ সালে নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের সংখ্যা সীমিত করার পর প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা চালু করা হয়। আর্থিক সক্ষমতার শর্তও বাড়ানো হয়েছে এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেখানে সত্যিই পড়াশোনা করছেন কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শরতে ৬৪৮টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮৭টি প্রতিষ্ঠান অভিবাসন বিভাগকে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৭ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য দেয়। এসব তথ্যের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে নিয়ম মেনে চলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রায় ৩৮ হাজার ৩৯৪ জনকে সম্ভাব্য অনিয়মের জন্য চিহ্নিত করা হয়। তবে সম্ভাব্য অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মানেই কোনো শিক্ষার্থী নিয়ম ভেঙেছেন, এমন নয়; পরবর্তী যাচাইয়ের পরই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

কানাডায় নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের ৫৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৫২ শতাংশ। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন আবেদনের প্রত্যাখ্যানের হার আরও বেড়ে ৬২ শতাংশ হয়েছে।

কানাডার অভিবাসন বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক সংস্কার ও কর্মসূচির নিয়ম মানার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করার কারণে প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের এখন ভর্তি, আর্থিক সক্ষমতা, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কানাডা সরকার ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট আবেদনে সীমা আরোপের সময় আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উল্লেখ করেছিল। পরবর্তী সময়ে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির আকার কমানোর পাশাপাশি এর কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে।

তবে কানাডার মহাহিসাব নিরীক্ষকের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন স্টাডি পারমিট কমানোর লক্ষ্য অর্জিত হলেও এই পরিবর্তনের প্রভাব সব অঞ্চলে সমান ছিল না এবং কর্মসূচির কিছু দুর্বলতা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও এর প্রভাব নিয়ে নীতিগত আলোচনা এখনও চলছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যেই কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে মতামতধর্মী বিতর্কও চলছে। রাইলি ডোনোভানের একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, কানাডার শিক্ষার্থী কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে।

নিবন্ধে ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং অস্থায়ী বাসিন্দা বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, শুধু স্টাডি পারমিটের সংখ্যা কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। লেখকের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিকে কাজ ও স্থায়ী বসবাসের পথ থেকে তুলনামূলকভাবে আলাদা করে মূলত শিক্ষাকেন্দ্রিক করা।

তবে এটি লেখকের বিশ্লেষণ ও নীতিগত প্রস্তাব। কানাডা সরকারের বর্তমান নীতির সঙ্গে এই মতামতকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি ছোট করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অংশ বাড়ছে।

❤️
👏
🙂
😞

কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমছে, কলেজের বদলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে ঝোঁক

প্রকাশঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯

অটোয়া, ২৪ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে সরকারের ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণের প্রভাব এখন শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি তথ্য বলছে, একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাচ্ছেন সেই চিত্রও। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর অংশ কমে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের অনুপাত বাড়ছে। একই সময়ে দেশটিতে থাকা মোট স্টাডি পারমিটধারীর সংখ্যাও এক বছরে ২৬ শতাংশ কমেছে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ২১৫ জন স্টাডি পারমিটধারী ছিলেন। ২০২৪ সালের শেষে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। অর্থাৎ এক বছরে স্টাডি পারমিটধারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কমেছে। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে কানাডায় নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমনও আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কমেছে।

এই পরিবর্তনের পেছনে ২০২৪ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ রয়েছে। কানাডা সরকার দ্রুত বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমানো এবং কর্মসূচির মান ও সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের সংখ্যা সীমিত করেছে। ২০২৬ সালের জন্য সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৫ হাজার নতুন করে কানাডায় আসা শিক্ষার্থীর জন্য এবং ২ লাখ ৫৩ হাজার বর্তমান ও ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের পারমিট নবায়নের জন্য নির্ধারিত।

কানাডার সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বণ্টনে পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্ট। ২০২৩ সালে সরকারি কলেজগুলোতে ছিলেন প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার ২৭০ জন স্টাডি পারমিটধারী, যা ওই শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ জন, বা ৪৪ শতাংশ।

২০২৫ সালে সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর অংশ কমে ৪৯ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ শতাংশে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ আরও বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, আর কলেজের অংশ কমে হয়েছে ৩৯ শতাংশ।

অর্থাৎ কয়েক বছর আগে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যায় কলেজ এগিয়ে থাকলেও এখন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রায় সমান অবস্থানে এসেছে, এবং ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে গেছে। তবে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানটি বছরের শুরুর সময়ের হওয়ায় পরবর্তী সময়ে এতে পরিবর্তন হতে পারে।

কানাডার অভিবাসন বিভাগ বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়াদের অনুপাত মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি ফিরছে। একই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি স্টাডি পারমিট পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংস্কারের পর কর্মসূচিতে এই পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে।

কানাডার নতুন নীতিতে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের স্টাডি পারমিট কাঠামোয় সরকারি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক প্রত্যয়নপত্রের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পারমিটও বরাদ্দ করা হয়েছে।

ডক্টরাল শিক্ষার্থী ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। বিভাগটির হিসাবে, অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন হয় না এমন ডক্টরাল আবেদনের ৯৬ শতাংশ গড়ে দুই দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে। তুলনামূলক জটিল আবেদনগুলো গড়ে নয় দিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমানোর পাশাপাশি কানাডা আবেদন যাচাই ও কর্মসূচির নিয়মও কঠোর করেছে। ২০২৪ সালে নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের সংখ্যা সীমিত করার পর প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা চালু করা হয়। আর্থিক সক্ষমতার শর্তও বাড়ানো হয়েছে এবং পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেখানে সত্যিই পড়াশোনা করছেন কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শরতে ৬৪৮টি নির্ধারিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮৭টি প্রতিষ্ঠান অভিবাসন বিভাগকে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৭ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য দেয়। এসব তথ্যের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে নিয়ম মেনে চলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রায় ৩৮ হাজার ৩৯৪ জনকে সম্ভাব্য অনিয়মের জন্য চিহ্নিত করা হয়। তবে সম্ভাব্য অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হওয়া মানেই কোনো শিক্ষার্থী নিয়ম ভেঙেছেন, এমন নয়; পরবর্তী যাচাইয়ের পরই ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়।

কানাডায় নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন স্টাডি পারমিট আবেদনের ৫৯ শতাংশ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল ৫২ শতাংশ। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন আবেদনের প্রত্যাখ্যানের হার আরও বেড়ে ৬২ শতাংশ হয়েছে।

কানাডার অভিবাসন বিভাগ বলছে, সাম্প্রতিক সংস্কার ও কর্মসূচির নিয়ম মানার বিষয়টি আরও কঠোরভাবে যাচাই করার কারণে প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের এখন ভর্তি, আর্থিক সক্ষমতা, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত পূরণের বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কানাডা সরকার ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট আবেদনে সীমা আরোপের সময় আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সেবার ওপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উল্লেখ করেছিল। পরবর্তী সময়ে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির আকার কমানোর পাশাপাশি এর কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে।

তবে কানাডার মহাহিসাব নিরীক্ষকের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন স্টাডি পারমিট কমানোর লক্ষ্য অর্জিত হলেও এই পরিবর্তনের প্রভাব সব অঞ্চলে সমান ছিল না এবং কর্মসূচির কিছু দুর্বলতা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমলেও এর প্রভাব নিয়ে নীতিগত আলোচনা এখনও চলছে।

এই পরিবর্তনের মধ্যেই কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে মতামতধর্মী বিতর্কও চলছে। রাইলি ডোনোভানের একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, কানাডার শিক্ষার্থী কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে।

নিবন্ধে ২০২৩ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংখ্যা এবং অস্থায়ী বাসিন্দা বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, শুধু স্টাডি পারমিটের সংখ্যা কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। লেখকের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিকে কাজ ও স্থায়ী বসবাসের পথ থেকে তুলনামূলকভাবে আলাদা করে মূলত শিক্ষাকেন্দ্রিক করা।

তবে এটি লেখকের বিশ্লেষণ ও নীতিগত প্রস্তাব। কানাডা সরকারের বর্তমান নীতির সঙ্গে এই মতামতকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কর্মসূচি ছোট করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের অংশ বাড়ছে।