যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ডের সুযোগ, পূরণ করতে হবে ৮ শর্ত
- প্রকাশঃ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৪
- / 5
ওয়াশিংটন, ২৫ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ শ্রেণির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।
তবে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকলেই ইবি-৩ শ্রেণিতে গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ প্রবেশ, অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, চাকরির প্রস্তাব এবং স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি যোগ্যতাসহ একাধিক বিষয় পূরণ করতে হয়।
১. যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করতে হবে
স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন করতে হলে সাধারণত আবেদনকারীকে অভিবাসন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেতে হবে অথবা আইনি প্যারোলে প্রবেশ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়।
২. অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে
আবেদনকারীকে ইবি-৩ শ্রেণির অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় তার জন্য অভিবাসী ভিসা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।
ভিসার প্রাপ্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি ও আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা নম্বর উপলব্ধ না থাকলে অন্যান্য যোগ্যতা থাকলেও স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
৩. চাকরির প্রস্তাব বহাল থাকতে হবে
কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দেওয়া চাকরির প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন অনুমোদিত হলে ওই চাকরি গ্রহণ করার ইচ্ছা আবেদনকারীর থাকতে হবে।
এ কারণে চাকরির প্রস্তাব, সংশ্লিষ্ট পদ এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া তথ্য আবেদনপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
৪. স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে
আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের অধীনে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। তার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্যতার কোনো কারণ থাকলে সংশ্লিষ্ট ছাড় বা আইনি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হবে।
স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো আইনি বাধা থাকলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
৫. আবেদন ও নথির তথ্য সঠিক হতে হবে
আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য এবং জমা দেওয়া নথি সঠিক ও সত্য হওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য ও নথি যাচাই করতে পারে।
বিশেষ করে চাকরি, নিয়োগকর্তা এবং আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।
৬. আবেদনের ক্ষেত্রে আইনি বাধা থাকা যাবে না
স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর ওপর অভিবাসন আইনের কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে আবেদনটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট আইনি বাধা থাকলে সংশ্লিষ্ট ছাড় বা অন্য কোনো আইনি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
৭. নির্দিষ্ট শর্তে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ আছে
কিছু ক্ষেত্রে আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। তবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পরিবর্তনের আবেদন অন্তত ১৮০ দিন ধরে মুলতবি থাকতে হবে এবং নতুন চাকরিটি আগের চাকরির একই বা কাছাকাছি পেশাগত শ্রেণির হতে হবে।
চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন চাকরির তথ্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। অর্থাৎ ১৮০ দিন পার হলেই যেকোনো চাকরিতে চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না।
৮. সব শর্ত পূরণ করলেও গ্রিন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত নয়
আবেদনকারী সব শর্ত পূরণ করলেও গ্রিন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদন পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার যোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
তাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদন, চাকরির প্রস্তাব, অভিবাসী ভিসার প্রাপ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ প্রবেশ এবং অন্যান্য আইনি যোগ্যতা একসঙ্গে পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।




























