ঢাকা ০৪:৪০ , Mon, ১০ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

ব্রিটেনে সঙ্গীর মৃত্যু হলে পারিবারিক ভিসাধারীর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, যাদের জন্য প্রযোজ্য

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:২৫
  • / 14
ব্রিটেনে পারিবারিক ভিসায় থাকা বিদেশি স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গী মারা গেলে নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে ছবি: গ্রাফিক্স - প্রজন্ম কথা

লন্ডন, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ব্রিটেনে পারিবারিক ভিসায় বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিকের ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার থাকা স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্যতা পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই বিধান তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার মৃত সঙ্গীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী, স্ত্রী, নিবন্ধিত জীবনসঙ্গী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিয়ে বা নিবন্ধিত অংশীদারত্বের মতো সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

মৃত সঙ্গী ব্রিটিশ নাগরিক, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিক হলে আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে হবে। সঙ্গীর মৃত্যুর পর বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। যোগ্যতা পূরণ হলে মৃত্যুর পর যেকোনো সময় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যেতে পারে।

বর্তমানে এ ধরনের স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ফি জনপ্রতি ৩ হাজার ২২৬ পাউন্ড। একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে আবেদন করলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ ও ছবি দিতে হয়, তবে এর জন্য আলাদা ফি নেওয়া হয় না।

তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল আবেদনকারীদের জন্য ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কারও স্থায়ীভাবে থাকার মতো বাসস্থান না থাকলে, খাবার বা ঘরের তাপের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য না থাকলে অথবা আবেদন ফি পরিশোধ করলে সন্তানের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ফি মওকুফের আবেদন করা যায়।

এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, বেতনসংক্রান্ত নথি, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য গৃহস্থালি বিলসহ আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। এসব নথি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগও থাকবে।

পরবর্তীতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সাধারণ নিয়মে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার অন্তত ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হয়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে টানা দুই বছরের বেশি সময় ব্রিটেনের বাইরে থাকলে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে ফেরার আগে নতুন করে অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের এই বিধান মূলত এমন বিদেশি নাগরিকদের জন্য, যারা ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা স্বামী বা স্ত্রীর ওপর নির্ভর করে পারিবারিক ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সঙ্গীর মৃত্যুর পর তাদের অভিবাসন অবস্থান যাতে অনিশ্চিত না হয়ে পড়ে, সে জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে থাকার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

ব্রিটেনে সঙ্গীর মৃত্যু হলে পারিবারিক ভিসাধারীর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, যাদের জন্য প্রযোজ্য

প্রকাশঃ ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:২৫

লন্ডন, ৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – ব্রিটেনে পারিবারিক ভিসায় বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিকের ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার থাকা স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে নির্দিষ্ট শর্তে স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্যতা পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করেই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এই বিধান তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার মৃত সঙ্গীর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী, স্ত্রী, নিবন্ধিত জীবনসঙ্গী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিয়ে বা নিবন্ধিত অংশীদারত্বের মতো সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিরাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

মৃত সঙ্গী ব্রিটিশ নাগরিক, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের নাগরিক হলে আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে হবে। সঙ্গীর মৃত্যুর পর বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। যোগ্যতা পূরণ হলে মৃত্যুর পর যেকোনো সময় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যেতে পারে।

বর্তমানে এ ধরনের স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ফি জনপ্রতি ৩ হাজার ২২৬ পাউন্ড। একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে আবেদন করলেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় আঙুলের ছাপ ও ছবি দিতে হয়, তবে এর জন্য আলাদা ফি নেওয়া হয় না।

তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল আবেদনকারীদের জন্য ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। কারও স্থায়ীভাবে থাকার মতো বাসস্থান না থাকলে, খাবার বা ঘরের তাপের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর সামর্থ্য না থাকলে অথবা আবেদন ফি পরিশোধ করলে সন্তানের কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ফি মওকুফের আবেদন করা যায়।

এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, বেতনসংক্রান্ত নথি, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য গৃহস্থালি বিলসহ আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। এসব নথি পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ ফি মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে কাজ, ব্যবসা ও পড়াশোনা করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগও থাকবে।

পরবর্তীতে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সাধারণ নিয়মে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পাওয়ার অন্তত ১২ মাস পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। তবে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হয়।

স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের বাইরে অবস্থান করলেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে টানা দুই বছরের বেশি সময় ব্রিটেনের বাইরে থাকলে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে ফেরার আগে নতুন করে অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের এই বিধান মূলত এমন বিদেশি নাগরিকদের জন্য, যারা ব্রিটিশ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা স্বামী বা স্ত্রীর ওপর নির্ভর করে পারিবারিক ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সঙ্গীর মৃত্যুর পর তাদের অভিবাসন অবস্থান যাতে অনিশ্চিত না হয়ে পড়ে, সে জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে থাকার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।