ঢাকা ০৫:৩৩ , Thu, ১৩ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন বেড়েছে, তবে ছাঁটাইয়ের হার এখনো কম

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:০৪
  • / 4
ফাইল ছবি সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন বেড়েছে। তবে ছাঁটাইয়ের হার ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে থাকায় দেশটির শ্রমবাজারে কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি এখনো তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন শ্রম দপ্তর জানায়, গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহের সংশোধিত ২ লাখ আবেদনের তুলনায় নতুন আবেদন বেড়েছে ৯ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ২ লাখ ৫ হাজার আবেদন।

সাপ্তাহিক ওঠানামার প্রভাব বাদ দিয়ে শ্রমবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝার জন্য ব্যবহৃত চার সপ্তাহের গড় আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, ১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে ১৭ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদনকে সাধারণত ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে এই আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে রয়েছে। এতে কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরি হারানোর প্রবণতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হারও বর্তমানে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও মার্কিন অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এর চাপ সামলে স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্ল ওয়েইনবার্গ বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সত্ত্বেও মার্কিন শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

তবে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। করোনা মহামারির পর কর্মী সংকটের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান কর্মীদের ছাঁটাই করতে আগ্রহী নয়। একই সময়ে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এমন পরিস্থিতিকে ‘নিয়োগ নেই, ছাঁটাইও নেই’ ধরনের শ্রমবাজার হিসেবে বর্ণনা করছেন।

গত মাসে কোম্পানি, সরকারি সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। অর্থাৎ ওই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট কর্মীসংখ্যা কমেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রতি মাসে গড়ে ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যোগ করেছেন। গত বছর মাসিক গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০, যা মন্দার সময় বাদ দিলে ২০০২ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল নিয়োগ পরিস্থিতি ছিল।

তবে চলতি বছরের নিয়োগের হারও ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক কম। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। মহামারি-পরবর্তী নিয়োগ বৃদ্ধির সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪ লাখ ৯১ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছিল।

উচ্চ সুদের হারের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন কর্মী নিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে বর্তমানে চাকরি হারানোর হার কম থাকলেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল রয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন বেড়েছে, তবে ছাঁটাইয়ের হার এখনো কম

প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:০৪

ওয়াশিংটন, ১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন বেড়েছে। তবে ছাঁটাইয়ের হার ঐতিহাসিকভাবে নিচু পর্যায়ে থাকায় দেশটির শ্রমবাজারে কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরি হারানোর ঝুঁকি এখনো তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন শ্রম দপ্তর জানায়, গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন করেছেন ২ লাখ ৯ হাজার মানুষ। এর আগের সপ্তাহের সংশোধিত ২ লাখ আবেদনের তুলনায় নতুন আবেদন বেড়েছে ৯ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ২ লাখ ৫ হাজার আবেদন।

সাপ্তাহিক ওঠানামার প্রভাব বাদ দিয়ে শ্রমবাজারের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝার জন্য ব্যবহৃত চার সপ্তাহের গড় আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ৯৯ হাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে, ১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে নিয়মিত বেকার ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ২২ হাজার কমে ১৭ লাখ ৮০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদনকে সাধারণত ছাঁটাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত এক বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে এই আবেদনের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে রয়েছে। এতে কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরি হারানোর প্রবণতা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হারও বর্তমানে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও মার্কিন অর্থনীতি এখন পর্যন্ত এর চাপ সামলে স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্ল ওয়েইনবার্গ বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সত্ত্বেও মার্কিন শ্রমবাজারে এখনো বড় ধরনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

তবে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে চাওয়া ব্যক্তি এবং চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। করোনা মহামারির পর কর্মী সংকটের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান কর্মীদের ছাঁটাই করতে আগ্রহী নয়। একই সময়ে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা এমন পরিস্থিতিকে ‘নিয়োগ নেই, ছাঁটাইও নেই’ ধরনের শ্রমবাজার হিসেবে বর্ণনা করছেন।

গত মাসে কোম্পানি, সরকারি সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। অর্থাৎ ওই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট কর্মীসংখ্যা কমেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রতি মাসে গড়ে ৬১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান যোগ করেছেন। গত বছর মাসিক গড় ছিল মাত্র ৯ হাজার ৭০০, যা মন্দার সময় বাদ দিলে ২০০২ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল নিয়োগ পরিস্থিতি ছিল।

তবে চলতি বছরের নিয়োগের হারও ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক কম। ওই দুই বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। মহামারি-পরবর্তী নিয়োগ বৃদ্ধির সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪ লাখ ৯১ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছিল।

উচ্চ সুদের হারের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন কর্মী নিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে বর্তমানে চাকরি হারানোর হার কম থাকলেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির গতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল রয়েছে।