আমেরিকায় গ্রোসারি খরচ বাড়ছে, বাংলাদেশি পরিবারগুলো যেভাবে ব্যয় কমাবে
- প্রকাশঃ ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬
- / 8
নিউইয়র্ক, ১২ আগস্ট ২০২৬, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে পরিবারের মাসিক গ্রোসারি ব্যয়ও বাড়ছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত গত ১২ মাসে দেশটিতে খাদ্যের দাম ৩ শতাংশ এবং বাসায় খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যপণ্যের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ফল ও সবজির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের কিছু কেনাকাটার অভ্যাস পর্যালোচনা করে গ্রোসারি বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে প্রি-কাট সবজি কেনা, নিয়মিত বোতলজাত পানি ও কোমল পানীয় কেনা, দামের তুলনা না করে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া, খাবার নষ্ট করা এবং পরিকল্পনা ছাড়া বাজার করার মতো অভ্যাস অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হতে পারে।
তবে এসব অভ্যাস পরিবর্তন করলে সবার মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার সাশ্রয় হবে, এমন নির্দিষ্ট হিসাব প্রযোজ্য নয়। সাশ্রয়ের পরিমাণ পরিবারের সদস্যসংখ্যা, খাদ্যাভ্যাস, কেনাকাটার পরিমাণ এবং কোন দোকান থেকে পণ্য কেনা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে।
ফল ও সবজির দাম গত এক বছরে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রি-কাট বা আগে থেকে ধোয়া সবজিতে প্রস্তুত ও প্যাকেজিংয়ের খরচ যুক্ত থাকায় একই ধরনের গোটা সবজির তুলনায় দাম বেশি হতে পারে।
লাউ, করলা, পুঁইশাকসহ বাংলাদেশি রান্নায় ব্যবহৃত সবজি গোটা অবস্থায় কিনে বাড়িতে কেটে প্রস্তুত করলে খরচ কমানোর সুযোগ থাকে। নিয়মিত প্রি-কাট পণ্য কেনেন এমন পরিবারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য মাসিক বাজেটেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বোতলজাত পানি ও কোমল পানীয়ের নিয়মিত কেনাকাটাও মাসিক গ্রোসারি বাজেটে উল্লেখযোগ্য ব্যয় যোগ করতে পারে। দেওয়া তথ্যে একটি পরিবারের পানি ও সোডা কেনার ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ডলার খরচের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
পানির মান ও স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা উপযুক্ত হলে ফিল্টার করা কলের পানি বোতলজাত পানির বিকল্প হতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত কোমল পানীয় কেনার পরিমাণ কমানোও মাসিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
চাল, তেল, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে দামের পার্থক্য থাকতে পারে। তাই পরিচিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি Walmart-এর Great Value, Costco-এর Kirkland বা Aldi-এর নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্যও তুলনা করে দেখা যেতে পারে।
তবে কোনো পণ্যের পুষ্টিগুণ একই ধরে না নিয়ে কেনার আগে লেবেল, উপাদান, ওজন এবং ইউনিটপ্রতি দাম তুলনা করা জরুরি। একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে কম ইউনিট দামের বিকল্প বেছে নিলে মাসিক খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রান্না করা খাবার নষ্ট হলে গ্রোসারিতে ব্যয় করা অর্থের একটি অংশও অপচয় হয়। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রান্না না করে পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ, অবশিষ্ট খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিজে রাখার মাধ্যমে অপচয় কমানো যায়।
সপ্তাহের খাবারের পরিকল্পনা করে বাজার করা এবং আগে কেনা পণ্য আগে ব্যবহারের অভ্যাসও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনার সম্ভাবনাও কমে।
পরিকল্পনা ছাড়া বাজারে গেলে প্রয়োজনের বাইরে পণ্য কেনার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশি গ্রোসারি দোকানে মাছ, শুঁটকি, মিষ্টি বা অন্যান্য পছন্দের খাবার দেখে কেনাকাটার তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
বাজারে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা তৈরি এবং নির্ধারিত বাজেট অনুসরণ করলে এ ধরনের ব্যয় কমানো সম্ভব। ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাজারে যাওয়ার পরিবর্তে আগে থেকে খাবার খেয়ে যাওয়াও তাৎক্ষণিক কেনাকাটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হতে পারে।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে গ্রোসারির দাম আরও ১ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে USDA-এর পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক কয়েক বছরের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমারও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গ্রোসারি খরচ নিয়ন্ত্রণে তাই পরিবারের নিজস্ব কেনাকাটার ধরন নিয়মিত পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোন পণ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কতটা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং একই ধরনের পণ্যের কম দামের বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে কি না, এসব হিসাব করলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের জায়গাগুলো চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।

























