ঢাকা ০৩:০৬ , Wed, ১৯ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

মুসলিম রাজনীতিকদের উত্থানের মধ্যেই আমেরিকায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, মুসলমানদের ‘বিদায়’ করার অঙ্গীকার

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৩১
  • / 6
টেক্সাসে মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ছবি: এপি ছবি/আন্দ্রেস কুদাকি

টেক্সাস, ১৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের নির্বাচনী সাফল্যের পর ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আরও তীব্র হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টেক্সাসে কয়েকজন রিপাবলিকান রাজনীতিক ও মুসলিমবিরোধী কর্মীর বক্তব্য এবং মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক রিপাবলিকান প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতিটা মুসলমান বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

মুসলিম রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক সাফল্যও এ বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের মতো মুসলিম রাজনীতিকেরা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্রতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুসলিম অধিকারকর্মীরা।

টেক্সাসে এ ধরনের বক্তব্যের পাশাপাশি মুসলিম গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুনে অঙ্গরাজ্যটিতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শকদের কেউ কেউ বলেছেন, রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যটির অনেক ভোটারের কাছে ইসলাম একটি বড় রাজনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

মুসলিমবিরোধী কর্মীদের কেউ কেউ ইসলামকে মার্কিন মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ চলতি গ্রীষ্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘প্রতিটা মুসলমান বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

টেক্সাসের ডালাস এলাকায় আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়ন ডেটা আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল নাগাদ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকার চারটি বৃহত্তম কাউন্টিতে প্রায় ৭৬টি মসজিদ ছিল। দ্রুত বেড়ে ওঠা কলিন কাউন্টিতে ছিল ১২টি মসজিদ। একই চার কাউন্টিতে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি।

টেক্সাসের ভ্যালি র‍্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা নামাজের সময় বৈরী মন্তব্যের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন। হিউস্টনের একটি ইসলামিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনরোতে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের উদ্দেশে তাঁরা অঙ্গরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত নন বলে মন্তব্য করেন। চাকরি হারানোর পর ওই নারী তাঁর সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন।

মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের শুরুতে। ডালাসের পূর্বদিকে ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার একটি মসজিদকেন্দ্রিক স্থাপনা গড়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন।

ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা নিয়ে অ্যাবট একটি বিমানবন্দর প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেন। একই সময়ে মুসলিম ধর্মীয় উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে একটি ওয়াটার-পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন অ্যাবট। পরে ফ্লোরিডাও একই ধরনের পদক্ষেপের দিকে এগোয়।

মুসলিম অধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। ড. ওমর সুলেমান বলেন, ‘এই মানুষগুলোর মিথ্যা বলা যেন আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ কেয়ারের অস্টিন শাখার শাইমা জায়ান বলেন, ‘আমরা ইসলামবিদ্বেষের ঢেউ প্রত্যক্ষ করছি। এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ঢেউ।’

এদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা ইসলামিক ট্রাইব্যুনালসহ ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী মারিয়া কারি দাবি করেন, এর নির্দেশনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত।

প্রতিষ্ঠাতা তাহের এল-বদাওয়ি বলেন, ‘আমরা কোনো আদালত নই।’ ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আইনজীবী আসমা টি. উদ্দিন বলেন, ‘এটি হবে ধর্মীয় স্বাধীনতার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই জিতে যাওয়ার একটি উপায়, যেখানে অন্য পক্ষকে সেই শ্রেণির বাইরে সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।’

মুসলিম অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য, মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বৈরী আচরণের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষের নতুন প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থকেরা এগুলোকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

❤️
👏
🙂
😞

মুসলিম রাজনীতিকদের উত্থানের মধ্যেই আমেরিকায় বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ, মুসলমানদের ‘বিদায়’ করার অঙ্গীকার

প্রকাশঃ ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৩১

টেক্সাস, ১৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের নির্বাচনী সাফল্যের পর ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আরও তীব্র হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে টেক্সাসে কয়েকজন রিপাবলিকান রাজনীতিক ও মুসলিমবিরোধী কর্মীর বক্তব্য এবং মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক রিপাবলিকান প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রতিটা মুসলমান বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

মুসলিম রাজনীতিকদের সাম্প্রতিক সাফল্যও এ বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের মতো মুসলিম রাজনীতিকেরা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর জাতীয় পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্রতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুসলিম অধিকারকর্মীরা।

টেক্সাসে এ ধরনের বক্তব্যের পাশাপাশি মুসলিম গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জুনে অঙ্গরাজ্যটিতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শকদের কেউ কেউ বলেছেন, রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যটির অনেক ভোটারের কাছে ইসলাম একটি বড় রাজনৈতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

মুসলিমবিরোধী কর্মীদের কেউ কেউ ইসলামকে মার্কিন মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ চলতি গ্রীষ্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘প্রতিটা মুসলমান বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

টেক্সাসের ডালাস এলাকায় আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ। অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়ন ডেটা আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল নাগাদ ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকার চারটি বৃহত্তম কাউন্টিতে প্রায় ৭৬টি মসজিদ ছিল। দ্রুত বেড়ে ওঠা কলিন কাউন্টিতে ছিল ১২টি মসজিদ। একই চার কাউন্টিতে ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি।

টেক্সাসের ভ্যালি র‍্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লিরা নামাজের সময় বৈরী মন্তব্যের মুখে পড়ার কথা জানিয়েছেন। হিউস্টনের একটি ইসলামিক সেন্টারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনরোতে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের উদ্দেশে তাঁরা অঙ্গরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত নন বলে মন্তব্য করেন। চাকরি হারানোর পর ওই নারী তাঁর সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন।

মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের শুরুতে। ডালাসের পূর্বদিকে ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার একটি মসজিদকেন্দ্রিক স্থাপনা গড়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন।

ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা নিয়ে অ্যাবট একটি বিমানবন্দর প্রকল্পের অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দেন। একই সময়ে মুসলিম ধর্মীয় উৎসব উদযাপনকে কেন্দ্র করে একটি ওয়াটার-পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেন অ্যাবট। পরে ফ্লোরিডাও একই ধরনের পদক্ষেপের দিকে এগোয়।

মুসলিম অধিকারকর্মীরা এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। ড. ওমর সুলেমান বলেন, ‘এই মানুষগুলোর মিথ্যা বলা যেন আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’ কেয়ারের অস্টিন শাখার শাইমা জায়ান বলেন, ‘আমরা ইসলামবিদ্বেষের ঢেউ প্রত্যক্ষ করছি। এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ঢেউ।’

এদিকে টেক্সাসের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করা ইসলামিক ট্রাইব্যুনালসহ ইসলামী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ইসলামিক ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী মারিয়া কারি দাবি করেন, এর নির্দেশনা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে সুরক্ষিত।

প্রতিষ্ঠাতা তাহের এল-বদাওয়ি বলেন, ‘আমরা কোনো আদালত নই।’ ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আইনজীবী আসমা টি. উদ্দিন বলেন, ‘এটি হবে ধর্মীয় স্বাধীনতার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই জিতে যাওয়ার একটি উপায়, যেখানে অন্য পক্ষকে সেই শ্রেণির বাইরে সংজ্ঞায়িত করে দেওয়া হয়।’

মুসলিম অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য, মুসলিম প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সরকারি পদক্ষেপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বৈরী আচরণের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষের নতুন প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে এ ধরনের পদক্ষেপের সমর্থকেরা এগুলোকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।