যুক্তরাষ্ট্রে একই বাজারে দোকানভেদে খরচ ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বেশি, সবচেয়ে সস্তা আলডি
- প্রকাশঃ ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২০:৪৫
- / 5
ওয়াশিংটন, ১৯ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার করলেও কোন দোকান থেকে কেনাকাটা করা হচ্ছে, তার ওপর মোট খরচে ৫০ শতাংশের বেশি পার্থক্য হতে পারে। কনজ্যুমার রিপোর্টসের ২০২৬ সালের মুদি পণ্যের মূল্য তুলনা এবং ফ্রিডম ডেট রিলিফের বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৩২টি অঙ্গরাজ্যে বড় মুদি দোকানগুলোর মধ্যে আলডি সবচেয়ে কম খরচের বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ৪৪টি অঙ্গরাজ্যে হোল ফুডসকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দোকান হিসেবে পাওয়া গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ইলিনয়সহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে দোকানভেদে দামের পার্থক্য আরও বেশি। এসব এলাকায় একই ধরনের পণ্যের একটি বাজার আলডির তুলনায় হোল ফুডসে কিনতে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি খরচ হতে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়ায় আলডির পরিবর্তে লিডল ও হোল ফুডসের মতো দোকানে একই ধরনের বাজার করতে খরচের পার্থক্য আরও বেশি হতে পারে। এসব অঙ্গরাজ্যে হোল ফুডস ও লিডলের দামের ব্যবধান ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয়ের চাপের মধ্যে দোকান নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কনজ্যুমার রিপোর্টসের গবেষণায় দেখা গেছে, একই শহরে একই ধরনের পণ্যের একটি বাজারের দাম দোকানভেদে প্রায়ই ৩৩ শতাংশের বেশি ভিন্ন হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কস্টকো ও বিজে’সের মতো ওয়্যারহাউস ক্লাবগুলো অনেক ক্ষেত্রে ওয়ালমার্টের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম দামে পণ্য বিক্রি করে। আলডি ও লিডলের মতো ডিসকাউন্ট চেইনও তুলনামূলক কম দামের বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে হোল ফুডস এবং কিছু এলাকায় ট্রেডার জো’স ওয়ালমার্টের তুলনায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে।
ফ্রিডম ডেট রিলিফের বিশ্লেষণটি কনজ্যুমার রিপোর্টসের ২০২৬ সালের গ্রোসারি প্রাইস কমপ্যারিজন ডেটা ব্যবহার করেছে। সেখানে ওয়ালমার্টের বিপরীতে একটি সাধারণ গ্রোসারি বাস্কেটের খরচ বিবেচনা করে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাকে তুলনা করা হয়েছে।
কম খরচে বাজার করতে কনজ্যুমার রিপোর্টস ক্রেতাদের এক দোকানের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছে। আলডি বা লিডলের মতো ডিসকাউন্ট দোকানের সঙ্গে সাধারণ সুপারমার্কেট মিলিয়ে কেনাকাটা করা, প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য বড় প্যাকেটে কেনা এবং বিশেষায়িত পণ্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দোকান থেকে নেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া দোকানের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ও অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল কুপন বা ছাড় নেওয়া, বাজারে যাওয়ার আগে ঘরের প্যান্ট্রি ও ফ্রিজের মজুত দেখে তালিকা তৈরি করা এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার মতো পুরোনো খাবার আগে ব্যবহার করলেও অপচয় ও খরচ কমানো সম্ভব।
সূত্র: ফক্স বিজনেস, কনজ্যুমার রিপোর্টস।

























