ঢাকা ০১:২০ , Mon, ১৭ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকায় সরকারি চাকরি পেতে কোথায় আবেদন করবেন? জানুন চাকরির সুযোগ ও সুবিধা

নাজমুল সাকিব
  • প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:০৮
  • / 1
ছবি: আইএএনএস

ওয়াশিংটন, ১৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে সব সরকারি পদের আবেদন পদ্ধতি এক নয়। চাকরিটি কোন সরকারের অধীনে এবং পদের ধরন কী, তার ওপর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা ও অন্যান্য শর্ত নির্ভর করে।

ফেডারেল সরকারের চাকরির জন্য USAJOBS ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রোফাইল তৈরি করে যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা পদ খোঁজা এবং প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আবেদন করা যায়। প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে।

স্টেট সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। আর সিটি ও কাউন্টির চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে হয়। ফলে এক স্টেট বা স্থানীয় সরকারের চাকরির আবেদন পদ্ধতি অন্য জায়গাতেও একই হবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

নিউইয়র্ক সিটির চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির বড় একটি অংশে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশের বেশি সিভিল সার্ভিস পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট Notice of Examination (NOE) ভালোভাবে পড়তে হয়। এতে পরীক্ষার তারিখ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও পরীক্ষার বিষয়সহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া থাকে। যোগ্য প্রার্থীরা DCAS Online Application System-এর মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। তাই পরীক্ষার তালিকার পাশাপাশি সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার পরীক্ষা দিতে যাওয়া আবেদনকারী এবং নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা পেতে পারেন।

বাংলাদেশি ডিগ্রি থাকলে

বাংলাদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রি দিয়ে সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত দেখতে হবে। কিছু পদের ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার সমমান সম্পর্কেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

গ্রিন কার্ড থাকলেই কি সব সরকারি পদে আবেদন করা যায়

এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “Who May Apply” অংশটি গুরুত্বপূর্ণ। USAJOBS-এ বিভিন্ন নিয়োগের জন্য আলাদা hiring path রয়েছে। কোন পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত এবং কোনটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।

তাই গ্রিন কার্ড, EAD বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলে একটি নির্দিষ্ট সরকারি পদে আবেদন করা যাবে কি না, সেটি ওই পদের শর্ত দেখে নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে আবেদন করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ থাকতে পারে। পদের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই, পরীক্ষা বা মূল্যায়ন, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য যাচাই করা হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রেও পরীক্ষার পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি হতে সময় লাগে। DCAS-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি পরীক্ষার পর eligible list তৈরি হতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে।

চাকরির নামে প্রতারণা থেকে সতর্কতা

সরকারি চাকরির আবেদন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা উচিত। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ চাইলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আবেদন বা পরীক্ষার জন্য কোনো সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকার কথা। তাই অর্থ পরিশোধের আগে অফিসিয়াল নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। সরকারি চাকরির নামে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যাংকিং তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত।

কোথা থেকে শুরু করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি খুঁজতে চাইলে প্রথমে নিজের বসবাসের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির অফিসিয়াল চাকরির পেজ দেখা যেতে পারে। ফেডারেল চাকরির জন্য USAJOBS-এ প্রোফাইল তৈরি করে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা পদ খোঁজা যায়।

আবেদনের আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কারা আবেদন করতে পারবেন, পরীক্ষা প্রয়োজন কি না, আবেদনের শেষ তারিখ এবং প্রয়োজনীয় নথি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট পদের শর্ত অনুযায়ী আবেদন করাই সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

তথ্যসূত্র: USAJOBS, NYC Department of Citywide Administrative Services (DCAS)

❤️
👏
🙂
😞

আমেরিকায় সরকারি চাকরি পেতে কোথায় আবেদন করবেন? জানুন চাকরির সুযোগ ও সুবিধা

প্রকাশঃ ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:০৮

ওয়াশিংটন, ১৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল, স্টেট ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে সব সরকারি পদের আবেদন পদ্ধতি এক নয়। চাকরিটি কোন সরকারের অধীনে এবং পদের ধরন কী, তার ওপর শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষা ও অন্যান্য শর্ত নির্ভর করে।

ফেডারেল সরকারের চাকরির জন্য USAJOBS ব্যবহার করা হয়। সেখানে প্রোফাইল তৈরি করে যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা পদ খোঁজা এবং প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে আবেদন করা যায়। প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা আলাদাভাবে উল্লেখ থাকে।

স্টেট সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। আর সিটি ও কাউন্টির চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখতে হয়। ফলে এক স্টেট বা স্থানীয় সরকারের চাকরির আবেদন পদ্ধতি অন্য জায়গাতেও একই হবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

নিউইয়র্ক সিটির চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির বড় একটি অংশে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশের বেশি সিভিল সার্ভিস পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট Notice of Examination (NOE) ভালোভাবে পড়তে হয়। এতে পরীক্ষার তারিখ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও পরীক্ষার বিষয়সহ বিভিন্ন তথ্য দেওয়া থাকে। যোগ্য প্রার্থীরা DCAS Online Application System-এর মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। তাই পরীক্ষার তালিকার পাশাপাশি সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিও খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার পরীক্ষা দিতে যাওয়া আবেদনকারী এবং নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুল শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা পেতে পারেন।

বাংলাদেশি ডিগ্রি থাকলে

বাংলাদেশ থেকে অর্জিত ডিগ্রি দিয়ে সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত দেখতে হবে। কিছু পদের ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার সমমান সম্পর্কেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি ডিগ্রি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা আছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

গ্রিন কার্ড থাকলেই কি সব সরকারি পদে আবেদন করা যায়

এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “Who May Apply” অংশটি গুরুত্বপূর্ণ। USAJOBS-এ বিভিন্ন নিয়োগের জন্য আলাদা hiring path রয়েছে। কোন পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত এবং কোনটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে।

তাই গ্রিন কার্ড, EAD বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলে একটি নির্দিষ্ট সরকারি পদে আবেদন করা যাবে কি না, সেটি ওই পদের শর্ত দেখে নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে আবেদন করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ থাকতে পারে। পদের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই, পরীক্ষা বা মূল্যায়ন, ইন্টারভিউ এবং অন্যান্য যাচাই করা হতে পারে।

নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রেও পরীক্ষার পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি হতে সময় লাগে। DCAS-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি পরীক্ষার পর eligible list তৈরি হতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে।

চাকরির নামে প্রতারণা থেকে সতর্কতা

সরকারি চাকরির আবেদন সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা উচিত। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ চাইলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আবেদন বা পরীক্ষার জন্য কোনো সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকার কথা। তাই অর্থ পরিশোধের আগে অফিসিয়াল নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। সরকারি চাকরির নামে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যাংকিং তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত।

কোথা থেকে শুরু করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি খুঁজতে চাইলে প্রথমে নিজের বসবাসের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির অফিসিয়াল চাকরির পেজ দেখা যেতে পারে। ফেডারেল চাকরির জন্য USAJOBS-এ প্রোফাইল তৈরি করে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা পদ খোঁজা যায়।

আবেদনের আগে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কারা আবেদন করতে পারবেন, পরীক্ষা প্রয়োজন কি না, আবেদনের শেষ তারিখ এবং প্রয়োজনীয় নথি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট পদের শর্ত অনুযায়ী আবেদন করাই সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।

তথ্যসূত্র: USAJOBS, NYC Department of Citywide Administrative Services (DCAS)