ঢাকা ০৮:৪০ , Thu, ২০ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে ফুড ডেলিভারি থেকে নির্মাণ খাত, অবৈধ কর্মী নিয়োগে ৫ বছর জেল ও ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০৩
  • / 7
যুক্তরাজ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগ ঠেকাতে ফুড ডেলিভারি ও নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানে রাইট-টু-ওয়ার্ক যাচাই কঠোর করা হচ্ছে ছবি: এআই- প্রজন্ম কথা

লন্ডন, ২০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিরুদ্ধে ১ অক্টোবর থেকে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন নিয়মে বৈধ কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিকে ফুড ডেলিভারি চালক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া কোনো নিয়োগকর্তা ধরা পড়লে প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যের সব নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এবং দেশটিতে কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতদিন অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে যে যাচাই ব্যবস্থা ছিল, নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ফুড ডেলিভারির মতো নমনীয় ও গিগভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃত হবে।

বিশেষ করে ফুড ডেলিভারি খাতে স্বনিযুক্ত বা নমনীয় কর্মব্যবস্থার সুযোগ ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগের বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে। ফলে প্রচলিত চাকরির বাইরে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় যুক্ত ব্যক্তিদের কাজের অধিকার যাচাই করাও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বের আওতায় আসবে।

সরকারের যুক্তি, অবৈধভাবে কাজের সুযোগ বন্ধ করা যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক আকর্ষণ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। একই সঙ্গে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নির্মাণ খাতে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের গ্রেপ্তার ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিতরণ ও ডেলিভারি সেবায় গ্রেপ্তার বেড়েছে ২১৭ শতাংশ।

সরকারের হিসাবে, এই পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অবৈধ কর্মসংস্থান এবং ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে নির্মাণ ও ডেলিভারি খাতে কর্মীদের পরিচয়, কাজের অনুমতি এবং নিয়োগের ধরন যাচাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার বলছে, অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে রাইট-টু-ওয়ার্ক বা কাজের অধিকার যাচাইয়ের পরিধিও আরও বিস্তৃত হবে। ফলে কোনো কর্মীকে নিয়োগের আগে তিনি যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার রাখেন কি না, তা নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানার পাশাপাশি গুরুতর ঘটনায় কারাদণ্ডের ঝুঁকিও থাকবে। নতুন বিধান বিশেষ করে সেইসব নিয়োগকর্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, যারা কর্মীদের প্রচলিত চাকরির চুক্তির পরিবর্তে নমনীয় বা গিগভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করান।

সরকারের লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থানের ধরন যাই হোক, যুক্তরাজ্যে বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া কেউ যেন কাজের সুযোগ না পান। সরকারের মতে, অবৈধ কর্মী নিয়োগের সুযোগ কমানো হলে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা কমার পাশাপাশি আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ পাবে।

১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে ফুড ডেলিভারি ও নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন নমনীয় কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়বে। একই সঙ্গে রাইট-টু-ওয়ার্ক যাচাই কঠোর করার মাধ্যমে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর হবে।

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাজ্যে ফুড ডেলিভারি থেকে নির্মাণ খাত, অবৈধ কর্মী নিয়োগে ৫ বছর জেল ও ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা

প্রকাশঃ ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০৩

লন্ডন, ২০ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিরুদ্ধে ১ অক্টোবর থেকে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন নিয়মে বৈধ কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিকে ফুড ডেলিভারি চালক, নির্মাণশ্রমিকসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া কোনো নিয়োগকর্তা ধরা পড়লে প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাজ্যের সব নিয়োগকর্তাকে কর্মীদের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এবং দেশটিতে কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এতদিন অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে যে যাচাই ব্যবস্থা ছিল, নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ফুড ডেলিভারির মতো নমনীয় ও গিগভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃত হবে।

বিশেষ করে ফুড ডেলিভারি খাতে স্বনিযুক্ত বা নমনীয় কর্মব্যবস্থার সুযোগ ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগের বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হবে। ফলে প্রচলিত চাকরির বাইরে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় যুক্ত ব্যক্তিদের কাজের অধিকার যাচাই করাও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বের আওতায় আসবে।

সরকারের যুক্তি, অবৈধভাবে কাজের সুযোগ বন্ধ করা যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক আকর্ষণ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। একই সঙ্গে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান এরই মধ্যে জোরদার করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নির্মাণ খাতে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের গ্রেপ্তার ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিতরণ ও ডেলিভারি সেবায় গ্রেপ্তার বেড়েছে ২১৭ শতাংশ।

সরকারের হিসাবে, এই পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অবৈধ কর্মসংস্থান এবং ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে নির্মাণ ও ডেলিভারি খাতে কর্মীদের পরিচয়, কাজের অনুমতি এবং নিয়োগের ধরন যাচাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার বলছে, অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে রাইট-টু-ওয়ার্ক বা কাজের অধিকার যাচাইয়ের পরিধিও আরও বিস্তৃত হবে। ফলে কোনো কর্মীকে নিয়োগের আগে তিনি যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার রাখেন কি না, তা নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তাদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানার পাশাপাশি গুরুতর ঘটনায় কারাদণ্ডের ঝুঁকিও থাকবে। নতুন বিধান বিশেষ করে সেইসব নিয়োগকর্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, যারা কর্মীদের প্রচলিত চাকরির চুক্তির পরিবর্তে নমনীয় বা গিগভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করান।

সরকারের লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থানের ধরন যাই হোক, যুক্তরাজ্যে বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া কেউ যেন কাজের সুযোগ না পান। সরকারের মতে, অবৈধ কর্মী নিয়োগের সুযোগ কমানো হলে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা কমার পাশাপাশি আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় সমান সুযোগ পাবে।

১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে ফুড ডেলিভারি ও নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন নমনীয় কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়বে। একই সঙ্গে রাইট-টু-ওয়ার্ক যাচাই কঠোর করার মাধ্যমে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর হবে।