যুক্তরাজ্যে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেললে ৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা, অপরাধী ধরবে এআই ড্রোন
- প্রকাশঃ ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:০২
- / 3
লন্ডন, ২৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা প্রায় ২২ হাজার টন অবৈধ বর্জ্য অপসারণে করদাতাদের অর্থ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সঙ্গে নতুন করে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঠেকাতে জরিমানা বাড়ানো এবং অপরাধ শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনাও জানিয়েছে সরকার।
জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরবর্তী ধাপে ব্র্যাডফোর্ড, রানিমিড এবং আইল অব শেপির তিনটি বড় অবৈধ বর্জ্য ফেলার স্থান পরিষ্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমে আছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, বছরের পর বছর ধরে এসব বিষাক্ত ও বিপজ্জনক বর্জ্যের স্তূপ স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। এগুলো পরিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বার্নহ্যামের ভাষ্য, বিশাল বর্জ্যের স্তূপ স্থানীয় মানুষের কাছে এমন একটি বার্তা তৈরি করেছে যে রাজনীতি তাদের ও তাদের এলাকার সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টারের দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত সমস্যাগুলো মোকাবিলার মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও আশার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
পুরোনো বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার অপরাধে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। অপরাধ সংঘটনের সময়ই তা শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অপরাধ সংঘটনের সময় দ্রুত তা শনাক্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া। এর মাধ্যমে সংগঠিত বর্জ্য অপরাধচক্রের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইংল্যান্ডজুড়ে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার শত শত স্থানের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিবিসির এক অনুসন্ধানে এমন ১১টি বিশাল বর্জ্যস্থল শনাক্ত করা হয়, যার প্রতিটিতে ২০ হাজার টনের বেশি আবর্জনা জমে রয়েছে।
অবৈধ বর্জ্য ফেলার সমস্যার একটি উদাহরণ রয়েছে বার্নহ্যামের নিজের নির্বাচনী এলাকা মেকারফিল্ডে। সেখানে পচনশীল আবর্জনা ও ইঁদুরে ভরা একটি বিশাল বর্জ্যের স্তূপ ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে পড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ বর্জ্য ফেলার সঙ্গে জড়িত সংগঠিত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধেও সাম্প্রতিক সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে বর্জ্য অপরাধচক্রের মূল হোতা বরুণ দত্তকে ১৪ লাখ পাউন্ড পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৬টি এলাকায় সংগঠিতভাবে পৌরসভার বর্জ্য অবৈধভাবে ফেলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালত এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
দত্তের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ম্যানর হাউস এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলার ঘটনা জড়িত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনায় একদিকে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপজ্জনক বর্জ্য করদাতাদের অর্থে সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বাড়তি জরিমানা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নজরদারির মাধ্যমে নতুন করে অবৈধ বর্জ্য ফেলার ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।



























