ভিজিট ভিসা প্রত্যাখ্যানে আবেদনকারীকে জবাবের সুযোগ দিতে হবে, যুক্তরাজ্যের আদালতের রায়
- প্রকাশঃ ২২ অগাস্ট ২০২৬, ২০:১৮
- / 4
লন্ডন, যুক্তরাজ্য, (প্রজন্ম কথা) – কোনো আবেদনকারীকে প্রকৃত ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ইচ্ছা নেই বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, সেই সিদ্ধান্তের আগে তাঁকে অভিযোগ বা উদ্বেগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে।
সম্প্রতি আর (সানচি) বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মামলায় যুক্তরাজ্যের আপার ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানিয়েছেন। মামলাটির নম্বর [২০২৬] জেআর-২০২৫-এলওএন-০০২৫১৮। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, কোনো ভিজিটর ভিসা প্রত্যাখ্যান কার্যত প্রতারণার অভিযোগের সমতুল্য গুরুতর সিদ্ধান্তে পরিণত হলে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার নীতি প্রযোজ্য হবে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভিসা প্রত্যাখ্যানের চিঠিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর সব সময় সরাসরি ‘প্রতারণা’ শব্দটি ব্যবহার করে না। তবে কোনো আবেদনকারী সত্যিকার অর্থে ভিজিটর হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চান না বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হলে এর আইনি প্রভাব গুরুতর হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবেদনকারীর বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আদালতের রায়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
মামলাটির আবেদনকারী ছিলেন তুরস্কের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিধবা নারী। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ ভূমিকম্পে তাঁর বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর তিনি একটি পণ্য পরিবহনের কনটেইনারে বসবাস করছিলেন। যুক্তরাজ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি পঞ্চমবারের মতো ভিজিটর ভিসার আবেদন করেন। ওই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপের আগে পাঠানো চিঠিপত্রের পর স্বরাষ্ট্র দপ্তর সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনায় সম্মত হয়। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে পুনর্বিবেচনার পরও ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল, আবেদনকারী ভিজিটর ভিসার পাঁচটি যোগ্যতার মধ্যে দুটি পূরণ করতে পারেননি। এর একটি ছিল সফর শেষে তিনি যুক্তরাজ্য ত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করতে না পারা। অন্যটি ছিল তিনি অনুমোদিত উদ্দেশ্যে সত্যিকার অর্থে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে চান কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ। দুটি বিষয়ই অ্যাপেন্ডিক্স ভিজিটরের ৪.২ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে।
এই মামলার মাধ্যমে মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নটি স্পষ্ট হয়েছে। আবেদনকারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুতর নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ জানিয়ে তাঁকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে সেই সিদ্ধান্ত যদি প্রতারণার অভিযোগের মতো গুরুতর পরিণতি তৈরি করে, তাহলে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে আদালতের অবস্থান।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ ভিজিটর ভিসার আবেদনকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন এমন নয়। আবেদনকারীদের এখনো ভিজিটর ভিসার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আবেদন যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রয়েছে।
ভিজিটর ভিসার আবেদনে আবেদনকারীর সফর শেষে যুক্তরাজ্য ছাড়ার সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নিজ দেশে পারিবারিক, পেশাগত, আর্থিক ও অন্যান্য সম্পর্কের প্রমাণ আবেদনকারীর অবস্থান ব্যাখ্যায় সহায়ক হতে পারে। তবে আবেদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনায় এলে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিবেচনা হিসেবে সামনে এসেছে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও পরামর্শদাতাদের জন্যও রায়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব ভিজিটর ভিসা আবেদনে আবেদনকারীর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, সেসব সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার এই নীতি বিবেচনায় আসতে পারে। যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন বা ভিসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার জন্য আপার ট্রাইব্যুনালে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।
সূত্র: ফ্রি মুভমেন্ট

























