আমেরিকার এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
- প্রকাশঃ ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:৪৭
- / 5
ওয়াশিংটন, ২৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে নতুন প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউটি বিভাগের প্রস্তাবিত বিধিমালাটি ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা জরুরি আদেশে এইচ-১বি ভিসার ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছিল। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে বহুল ব্যবহৃত এই ভিসার ক্ষেত্রে ওই আদেশের মেয়াদ এক বছর পর আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে এই ফি স্থায়ী বিধিমালার আওতায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, গণপরামর্শ শেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ফি নিয়ে এরই মধ্যে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং নতুন বিধিমালা প্রকাশের পর সেই আইনি লড়াই আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক এইচ-১বি ভিসার ১ লাখ ডলারের বেশি ফি আরোপকে বেআইনি ঘোষণা করে ট্রাম্প প্রশাসনকে তা আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে বোস্টনের একটি আপিল আদালতে চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসির আরেকটি মামলায় একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর করা আইনি চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে খারিজ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও বিচার চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, ডেমোক্র্যাট-শাসিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের একটি জোট ফি আরোপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের দাবি, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে এ ধরনের ফি আরোপ করতে পারে না।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, এই অর্থ প্রথাগত কর নয়। প্রশাসন আরও যুক্তি দিচ্ছে, বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর প্রেসিডেন্টের যে ক্ষমতা রয়েছে, তা সীমিত করার সুযোগ নেই।
এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় মার্কিন নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন এমন পদে বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারেন। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর পর্যন্ত হতে পারে।
এই কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প ও ভিসাটির সমালোচকেরা দাবি করেন, কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠান কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে স্থানীয় কর্মীদের চাকরি হারানোর পরিস্থিতি তৈরি করছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠন ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি, বিশেষায়িত কিছু পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বৈশ্বিক মেধাবীদের নিয়োগে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এইচ-১বি ভিসার আবেদনও কমেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার নিবন্ধন করেছিলেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি কম এবং ২০২৩ সালের প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার নিবন্ধনের অর্ধেকেরও কম।
এর পাশাপাশি এইচ-১বি আবেদনকারীদের কঠোরভাবে যাচাই এবং বেশি বেতন ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি আগস্টের শুরুতে হোমল্যান্ড সিকিউটি বিভাগ পৃথক একটি বিধির মাধ্যমে এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অন্য দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বদলির আবেদনে সাড়ে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যুক্ত করেছে।
নতুন প্রস্তাবিত বিধিমালা চূড়ান্ত হলে এইচ-১বি ভিসার উচ্চ ফি নিয়ে চলমান আইনি বিরোধে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।



























