ঢাকা ০৫:০৯ , Mon, ১৪ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্য
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

ব্রিটিশ মুসলিমদের অগ্রগতিতে নেতৃত্বে বাংলাদেশিরা, শিক্ষায় এগিয়ে নতুন প্রজন্ম

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮
  • / 6
কয়েক দশকে ব্রিটেনে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন, ১৪ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – একসময় ব্রিটেনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বড় অংশ দারিদ্র্য, কম শিক্ষার সুযোগ ও সীমিত কর্মসংস্থানের সঙ্গে লড়াই করতেন। কয়েক দশক পর সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি তরুণদের শিক্ষা, পেশা ও নারীদের কর্মসংস্থানে অগ্রগতি এখন ব্রিটিশ সমাজে এই জনগোষ্ঠীর ধীরে ধীরে একীভূত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। তাঁদের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই জনগোষ্ঠীর কয়েক দশকের পরিবর্তন তুলে ধরে দেখানো হয়েছে, প্রথম প্রজন্মের দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার তুলনায় পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান অনেকটাই বদলেছে।

১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রিন্স চার্লস পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসতি গড়ে উঠেছিল। তাঁদের বসবাস ও কর্মপরিবেশ দেখে চার্লস সে সময় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনের জাতিগত সমতা বিষয়ক কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের হার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।

শিক্ষাক্ষেত্রেও তখন পরিস্থিতি ছিল কঠিন। ১৯৮৫ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশি শিশুদের শিক্ষাগত অর্জনকে অত্যন্ত নিম্নমানের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের অনেকেই গ্রামীণ বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে গিয়ে খুব সীমিত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ছিল কম। বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার কারণেও অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা দেখাত।

দীর্ঘ সময় পরও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কিছু চিত্র রয়ে গেছে। আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের প্রায় অর্ধেকের আয় জাতীয়ভাবে সবচেয়ে কম আয়ের ২০ শতাংশের মধ্যে। একটি মধ্যম সারির বাংলাদেশি পরিবারের সম্পদের পরিমাণও ১ লাখ পাউন্ডের কম, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে মধ্যম সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ পাউন্ড।

তবে শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রজন্মের অগ্রগতি এই পুরোনো চিত্রকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

২০১০-এর দশকের শুরুতেই জিসিএসই পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপর ব্যবধান আরও বদলেছে। ২০২১ সালে জিসিএসই দেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষায় বিষয়ভিত্তিক অংশগ্রহণেও পরিবর্তন এসেছে। গত এক দশকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চিকিৎসা ও দন্ত চিকিৎসার মতো পেশাগত ক্ষেত্রেও তাঁদের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নারীদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৭৯ শতাংশ।

পেশাজীবী ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরিতেও ব্যবধান কমেছে। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ এ ধরনের পেশায় ছিলেন, যা একই বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হারের কাছাকাছি।

বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির পেছনে বসবাসের স্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। লন্ডনের মতো অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শহরে বসবাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পেশাগত সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষিত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীদের সামাজিক ও বৈবাহিক অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তবে পুরো জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি পরিসংখ্যানে সবসময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। এর একটি কারণ, বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। নতুন অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত থাকায় পুরো জনগোষ্ঠীর গড় আয়, সম্পদ বা কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রজন্মের অগ্রগতির পার্থক্য তৈরি হয়।

ফলে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে একক কোনো সূচক দিয়ে বিচার করা কঠিন। প্রথম প্রজন্মের দারিদ্র্য ও সীমিত শিক্ষার ইতিহাসের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের উচ্চশিক্ষা, পেশাগত অগ্রগতি ও নারীদের কর্মসংস্থানের পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হয়।

কয়েক দশক আগে যে জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য নিয়ে সরকারি প্রতিবেদনে হতাশার কথা বলা হয়েছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বড় একটি অংশ এখন বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী চাকরি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনো রয়ে গেলেও শিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতির এই পরিবর্তন ব্রিটিশ সমাজে বাংলাদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি একীভূত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।

❤️
👏
🙂
😞

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

ব্রিটিশ মুসলিমদের অগ্রগতিতে নেতৃত্বে বাংলাদেশিরা, শিক্ষায় এগিয়ে নতুন প্রজন্ম

প্রকাশঃ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৮

লন্ডন, ১৪ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – একসময় ব্রিটেনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের বড় অংশ দারিদ্র্য, কম শিক্ষার সুযোগ ও সীমিত কর্মসংস্থানের সঙ্গে লড়াই করতেন। কয়েক দশক পর সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশি তরুণদের শিক্ষা, পেশা ও নারীদের কর্মসংস্থানে অগ্রগতি এখন ব্রিটিশ সমাজে এই জনগোষ্ঠীর ধীরে ধীরে একীভূত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বসবাসকারী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার। তাঁদের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই জনগোষ্ঠীর কয়েক দশকের পরিবর্তন তুলে ধরে দেখানো হয়েছে, প্রথম প্রজন্মের দারিদ্র্য ও সামাজিক বঞ্চনার তুলনায় পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান অনেকটাই বদলেছে।

১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রিন্স চার্লস পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসতি গড়ে উঠেছিল। তাঁদের বসবাস ও কর্মপরিবেশ দেখে চার্লস সে সময় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনের জাতিগত সমতা বিষয়ক কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের হার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল।

শিক্ষাক্ষেত্রেও তখন পরিস্থিতি ছিল কঠিন। ১৯৮৫ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে বাংলাদেশি শিশুদের শিক্ষাগত অর্জনকে অত্যন্ত নিম্নমানের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের অনেকেই গ্রামীণ বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে গিয়ে খুব সীমিত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ছিল কম। বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার কারণেও অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা দেখাত।

দীর্ঘ সময় পরও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কিছু চিত্র রয়ে গেছে। আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের প্রায় অর্ধেকের আয় জাতীয়ভাবে সবচেয়ে কম আয়ের ২০ শতাংশের মধ্যে। একটি মধ্যম সারির বাংলাদেশি পরিবারের সম্পদের পরিমাণও ১ লাখ পাউন্ডের কম, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে মধ্যম সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ পাউন্ড।

তবে শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রজন্মের অগ্রগতি এই পুরোনো চিত্রকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

২০১০-এর দশকের শুরুতেই জিসিএসই পরীক্ষায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের সমপর্যায়ে পৌঁছে যায়। এরপর ব্যবধান আরও বদলেছে। ২০২১ সালে জিসিএসই দেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ।

উচ্চশিক্ষায় বিষয়ভিত্তিক অংশগ্রহণেও পরিবর্তন এসেছে। গত এক দশকে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চিকিৎসা ও দন্ত চিকিৎসার মতো পেশাগত ক্ষেত্রেও তাঁদের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ নারীদের কর্মসংস্থানের হার ছিল ৭৯ শতাংশ।

পেশাজীবী ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরিতেও ব্যবধান কমেছে। ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ এ ধরনের পেশায় ছিলেন, যা একই বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হারের কাছাকাছি।

বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অগ্রগতির পেছনে বসবাসের স্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। লন্ডনের মতো অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শহরে বসবাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পেশাগত সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষিত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নারীদের সামাজিক ও বৈবাহিক অবস্থানেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তবে পুরো জনগোষ্ঠীর অগ্রগতি পরিসংখ্যানে সবসময় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। এর একটি কারণ, বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। নতুন অভিবাসীদের আগমন অব্যাহত থাকায় পুরো জনগোষ্ঠীর গড় আয়, সম্পদ বা কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যানের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রজন্মের অগ্রগতির পার্থক্য তৈরি হয়।

ফলে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে একক কোনো সূচক দিয়ে বিচার করা কঠিন। প্রথম প্রজন্মের দারিদ্র্য ও সীমিত শিক্ষার ইতিহাসের পাশাপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের উচ্চশিক্ষা, পেশাগত অগ্রগতি ও নারীদের কর্মসংস্থানের পরিবর্তনও বিবেচনায় নিতে হয়।

কয়েক দশক আগে যে জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাগত সাফল্য নিয়ে সরকারি প্রতিবেদনে হতাশার কথা বলা হয়েছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বড় একটি অংশ এখন বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাজীবী চাকরি ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনো রয়ে গেলেও শিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতির এই পরিবর্তন ব্রিটিশ সমাজে বাংলাদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি একীভূত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।