সরকারি সুবিধা নিলে গ্রিন কার্ডে বাধার শঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করছেন নিউইয়র্কের মেয়র
- প্রকাশঃ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪৩
- / 12
নিউইয়র্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর (প্রজন্ম কথা) – সরকারি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণকারী অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড ও ভিসার আবেদন কঠোরভাবে যাচাইয়ের সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি ও আরও কয়েকটি শহর ও কাউন্টি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিধিটি কার্যকর হওয়ার কথা।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সোমবার ঘোষণা দেন, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সান্তা ক্লারা কাউন্টি, সিয়াটল, ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং অধিকাররক্ষাকারী সংগঠন পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট এই মামলায় বাদী হয়েছে। মামলাটি ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে।
একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে আরও একটি মামলা করেছে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি। ফলে নতুন বিধি ঠেকাতে রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে একযোগে দুটি আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিবাসীদের ক্ষেত্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে, যাঁরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধি ২০১৯ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে চালু করা বিস্তৃত নীতিকে আবার ফিরিয়ে আনছে। এর বিপরীতে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে তুলনামূলক সংকীর্ণ সংজ্ঞা গ্রহণ করেছিল।
নতুন বিধিতে খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনসহ আগে তুলনামূলকভাবে সীমিতভাবে বিবেচিত বিভিন্ন সরকারি সুবিধা অভিবাসন আবেদনের মূল্যায়নে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন নিয়ম নেই। অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাবেন।
আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। ফলে সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি অন্যান্য ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
নিউইয়র্ক সিটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিধিটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কোন কোন সরকারি সুবিধা কতটা গুরুত্ব পাবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্পষ্টতা নেই। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে আইনগতভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও স্বাস্থ্যসেবা বা খাদ্য সহায়তা নেওয়া থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন।
মেয়র মামদানি বলেন, নতুন বিধি এমন এক ধরনের ভয় তৈরি করতে পারে, যাতে অভিবাসী পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে কিংবা আইনত প্রাপ্য সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতেও দ্বিধায় পড়ে।
নিউইয়র্ক সিটির ভাষ্য, এর প্রভাব কেবল অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। অভিবাসী পরিবারের মার্কিন নাগরিক সদস্যরাও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বা অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করলে সেই পরিবারের অভিবাসন আবেদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধি ফেডারেল প্রশাসনিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘পাবলিক চার্জ’-এর আইনি ব্যাখ্যা পরিবর্তন করে সরকার অভিবাসন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিচ্ছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল জেমসের নেতৃত্বাধীন মামলায় বলা হয়েছে, নতুন বিধির কারণে পরিবারগুলো খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা নেওয়া ছেড়ে দিতে পারে। স্থানীয় সরকারগুলোর আশঙ্কা, এই ভয়ের কারণে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ কমে গেলে জনস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মামলাগুলোর সমালোচনা করেছে। বিভাগের বক্তব্য, বিরোধিতাকারী রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো অভিবাসীদের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতির কারণে ফেডারেল অর্থায়ন হারানোর আশঙ্কা করছে।
নতুন বিধিটি ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এখন ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালত বিধিটির বাস্তবায়ন ঠেকাতে কোনো আদেশ দেয় কি না, সেটিই এখন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের জন্যও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: সরকারি সুবিধা গ্রহণের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যান নয়। নতুন বিধির আওতায় কর্মকর্তাদের হাতে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘পাবলিক চার্জ’ নির্ধারণের ক্ষমতা বাড়ানোই মূল পরিবর্তন।




























