ঢাকা ০৪:৪৫ , Fri, ১৮ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি বাড়ল প্রায় ৩০০ শতাংশ

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৮
  • / 4
অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন ফি চার বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে ছবি: সংগৃহীত

ক্যানবেরা, ১৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা আবেদন ফি গত চার বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার ফি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে আগের চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ভিসা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি করছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ৭১০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয় ডলার করা হয়েছিল। এরপর তা আরও বেড়ে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরও বর্তমান ভিসা ফি পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আগের মতো একই পর্যায়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহজে শিক্ষার্থী ভিসা নবায়ন করতে পারবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার স্তর বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে চাইলে পরবর্তী কোর্সটি আগের যোগ্যতার তুলনায় উচ্চতর পর্যায়ের হতে হবে।

অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও শিক্ষার্থী ভিসায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট বৈদেশিক অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর অর্ধেকের বেশি মানুষ ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে নিট বৈদেশিক অভিবাসন ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ইতোমধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত থেকে দেশটির অর্থনীতিতে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান এসেছে, যা দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি খাত। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আবাসন, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সেবাখাতও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত।

সরকারের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লুক শিহি বলেছেন, ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নীতির অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় আগের তুলনায় বেশি ভিসা খরচ এবং কঠোরতর শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে যারা একটি কোর্স শেষ করে একই পর্যায়ের আরেকটি কোর্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ভিসা নবায়নের নতুন যোগ্যতা-সংক্রান্ত শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার্থী ভিসার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার দক্ষতা ও আর্থিক সামর্থ্যের শর্তেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি বাড়ল প্রায় ৩০০ শতাংশ

প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৪৮

ক্যানবেরা, ১৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা আবেদন ফি গত চার বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার ফি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে আগের চেয়ে উচ্চতর পর্যায়ের যোগ্যতা অর্জনের জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও সামগ্রিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ভিসা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে কড়াকড়ি করছে। ২০২৪ সালের ১ জুলাই শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফি ৭১০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৬০০ অস্ট্রেলীয় ডলার করা হয়েছিল। এরপর তা আরও বেড়ে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলারে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরও বর্তমান ভিসা ফি পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আগের মতো একই পর্যায়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহজে শিক্ষার্থী ভিসা নবায়ন করতে পারবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা নবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার স্তর বাড়ানোর শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে চাইলে পরবর্তী কোর্সটি আগের যোগ্যতার তুলনায় উচ্চতর পর্যায়ের হতে হবে।

অভিবাসন কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও শিক্ষার্থী ভিসায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট বৈদেশিক অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর অর্ধেকের বেশি মানুষ ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে নিট বৈদেশিক অভিবাসন ৫ লাখ ১৮ হাজারে পৌঁছেছিল, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় ইতোমধ্যে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে বার্ষিক নিট অভিবাসন প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত থেকে দেশটির অর্থনীতিতে ৫৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার অবদান এসেছে, যা দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি খাত। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আবাসন, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সেবাখাতও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত।

সরকারের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান লুক শিহি বলেছেন, ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক শিক্ষাকে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ হিসেবে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নীতির অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় আগের তুলনায় বেশি ভিসা খরচ এবং কঠোরতর শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে যারা একটি কোর্স শেষ করে একই পর্যায়ের আরেকটি কোর্সে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য ভিসা নবায়নের নতুন যোগ্যতা-সংক্রান্ত শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষার্থী ভিসার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার দক্ষতা ও আর্থিক সামর্থ্যের শর্তেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে।