ঢাকা ১০:৩৪ , Tue, ২০ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
কানাডা

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে আলবার্টায় গণভোট, জরিপে ৭৬ শতাংশের থাকার পক্ষে মত

মাহিম ইসলাম
  • প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫
  • / 24
কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার প্রশ্নে আলবার্টায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনমত জরিপে ৬৬ শতাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অব্যাহত থাকার আভাস মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত

এডমন্টন, ২০ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – কানাডা থেকে আলবার্টা প্রদেশকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ভোটার। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ভোট দেওয়া মানুষের প্রায় ৭৬ শতাংশ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২৪ শতাংশ বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ফল কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং দেশটির ঐক্যের সমর্থকদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ১৫ লাখের বেশি ভোট গণনার পর এ চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার প্রদেশজুড়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে ভোটের প্রশ্নটি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে ছিল না। বরং কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

আলবার্টার রাজধানী এডমন্টনে বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রদেশটির বাসিন্দারা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকা, একসঙ্গে উন্নয়ন করা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, আলবার্টার মানুষ কানাডাকেই বেছে নিয়েছেন।

কার্নি বলেন, এই ফল কানাডার জনগণকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কানাডাকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি শক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এসব পরিকল্পনায় আলবার্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, অসন্তোষ রয়ে গেছে

ভোটে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, ফলটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি প্রদেশটির অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্দোলনের নেতা কিথ উইলসন বলেন, চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি এবং ভোটের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, অন্তত এক-চতুর্থাংশ আলবার্টাবাসী মনে করেন, প্রদেশটির সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা প্রয়োজন।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও প্রাথমিক ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ কানাডার মধ্যে আরও শক্তিশালী আলবার্টার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্মিথের দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি প্রভাবশালী অংশ রয়েছে। তাঁদের চাপের কারণে আগের নেতা জেসন কেনি দলীয় নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্মিথকে দলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হয়েছে।

গণভোটটি তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলটির জনসমর্থন কমেছে। একসময় রক্ষণশীলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি আসনে উপনির্বাচনে পরাজয়ও সেই চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

ভোটের আগে ঐক্যের পক্ষে প্রচার

ভোটের আগে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা আলবার্টার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। কার্নি সতর্ক করে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের জন্য কানাডা ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া হলে প্রদেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভরেও বিচ্ছিন্নতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি হতাশা প্রকাশের উপায় হিসেবে কানাডা ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া উচিত হবে না। তাঁর ভাষায়, কানাডা কেবল একটি সরকার নয়, এটি জনগণ, পতাকা, ভূখণ্ড, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিরোধী ক্যালগারির মেয়র জেরোমি ফারকাসও বলেছেন, কানাডার অংশ হিসেবেই শহরটির ভবিষ্যৎ সবচেয়ে শক্তিশালী। তাঁর আশঙ্কা, বিচ্ছিন্নতা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগ ও পুঁজি অন্যত্র চলে যেতে পারে।

ভোট গ্রহণে বিলম্ব, বাকি ফল পেতে সময় লাগতে পারে

প্রদেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে ভোট গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় ফল প্রকাশ দুই ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে যায়। তবে সোমবার সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফলে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে বড় ব্যবধান দেখা যায়।

আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ভোটারদের প্রায় ৪৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৩ লাখ মানুষ, সোমবারের আগেই ডাকযোগে ও আগাম ভোটের মাধ্যমে তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন। এই সংখ্যা ২০২১ সালে প্রদেশটির সর্বশেষ গণভোটের তুলনায় বেশি ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

কানাডার সঙ্গে থাকা বা বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর প্রশ্নটি সোমবার ভোটারদের সামনে রাখা ১০টি প্রশ্নের একটি ছিল। অন্য প্রশ্নগুলোতে অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রদেশের সাংবিধানিক ক্ষমতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রশ্নের পূর্ণ ফল গণনা করতে কয়েক দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

বিচ্ছিন্নতার বিতর্ক শেষ হচ্ছে না

আলবার্টা কানাডার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশনীতি এবং প্রদেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অসন্তোষ রয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, আলবার্টা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিতে প্রদেশটির স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পায় না।

অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার সমর্থকেরা বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বাধীন হলে প্রতিরক্ষা, মুদ্রা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ভোটের ফল বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাবের প্রতি জনসমর্থনের সীমা দেখালেও আন্দোলনটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্বাধীনতার দাবি নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাবেন।

ক্যালগারির মেয়র ফারকাসও মনে করেন, এই ফল দিয়ে বিতর্ক স্থায়ীভাবে শেষ হবে না। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে এগোতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল।

ক্যাপশন: কানাডা থেকে আলবার্টাকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ভোটার। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, প্রায় ৭৬ শতাংশ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ছবির সূত্র: কানাডিয়ান প্রেস/শাটারস্টক

❤️
👏
🙂
😞

কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে আলবার্টায় গণভোট, জরিপে ৭৬ শতাংশের থাকার পক্ষে মত

প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫

এডমন্টন, ২০ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – কানাডা থেকে আলবার্টা প্রদেশকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ভোটার। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ভোট দেওয়া মানুষের প্রায় ৭৬ শতাংশ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ২৪ শতাংশ বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ফল কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং দেশটির ঐক্যের সমর্থকদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, ১৫ লাখের বেশি ভোট গণনার পর এ চিত্র পাওয়া গেছে। সোমবার প্রদেশজুড়ে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে ভোটের প্রশ্নটি সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে ছিল না। বরং কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।

আলবার্টার রাজধানী এডমন্টনে বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রদেশটির বাসিন্দারা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকা, একসঙ্গে উন্নয়ন করা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, আলবার্টার মানুষ কানাডাকেই বেছে নিয়েছেন।

কার্নি বলেন, এই ফল কানাডার জনগণকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে। পাশাপাশি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কানাডাকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি শক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এসব পরিকল্পনায় আলবার্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, অসন্তোষ রয়ে গেছে

ভোটে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতারা মনে করছেন, ফলটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি প্রদেশটির অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্দোলনের নেতা কিথ উইলসন বলেন, চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি এবং ভোটের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, অন্তত এক-চতুর্থাংশ আলবার্টাবাসী মনে করেন, প্রদেশটির সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা প্রয়োজন।

আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও প্রাথমিক ফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ কানাডার মধ্যে আরও শক্তিশালী আলবার্টার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্মিথের দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি প্রভাবশালী অংশ রয়েছে। তাঁদের চাপের কারণে আগের নেতা জেসন কেনি দলীয় নেতৃত্ব হারিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্মিথকে দলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হয়েছে।

গণভোটটি তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলটির জনসমর্থন কমেছে। একসময় রক্ষণশীলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একটি আসনে উপনির্বাচনে পরাজয়ও সেই চাপের ইঙ্গিত দিয়েছে।

ভোটের আগে ঐক্যের পক্ষে প্রচার

ভোটের আগে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা আলবার্টার বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। কার্নি সতর্ক করে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের জন্য কানাডা ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া হলে প্রদেশটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পলিয়েভরেও বিচ্ছিন্নতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি হতাশা প্রকাশের উপায় হিসেবে কানাডা ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া উচিত হবে না। তাঁর ভাষায়, কানাডা কেবল একটি সরকার নয়, এটি জনগণ, পতাকা, ভূখণ্ড, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিরোধী ক্যালগারির মেয়র জেরোমি ফারকাসও বলেছেন, কানাডার অংশ হিসেবেই শহরটির ভবিষ্যৎ সবচেয়ে শক্তিশালী। তাঁর আশঙ্কা, বিচ্ছিন্নতা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিনিয়োগ ও পুঁজি অন্যত্র চলে যেতে পারে।

ভোট গ্রহণে বিলম্ব, বাকি ফল পেতে সময় লাগতে পারে

প্রদেশের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে ভোট গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় ফল প্রকাশ দুই ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে যায়। তবে সোমবার সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফলাফলে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে বড় ব্যবধান দেখা যায়।

আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ভোটারদের প্রায় ৪৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৩ লাখ মানুষ, সোমবারের আগেই ডাকযোগে ও আগাম ভোটের মাধ্যমে তাঁদের ভোট দিয়েছিলেন। এই সংখ্যা ২০২১ সালে প্রদেশটির সর্বশেষ গণভোটের তুলনায় বেশি ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

কানাডার সঙ্গে থাকা বা বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর প্রশ্নটি সোমবার ভোটারদের সামনে রাখা ১০টি প্রশ্নের একটি ছিল। অন্য প্রশ্নগুলোতে অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রদেশের সাংবিধানিক ক্ষমতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রশ্নের পূর্ণ ফল গণনা করতে কয়েক দিন লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।

বিচ্ছিন্নতার বিতর্ক শেষ হচ্ছে না

আলবার্টা কানাডার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশনীতি এবং প্রদেশটির অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অসন্তোষ রয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, আলবার্টা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিতে প্রদেশটির স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পায় না।

অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার সমর্থকেরা বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বাধীন হলে প্রতিরক্ষা, মুদ্রা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ভোটের ফল বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাবের প্রতি জনসমর্থনের সীমা দেখালেও আন্দোলনটি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাঁরা স্বাধীনতার দাবি নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাবেন।

ক্যালগারির মেয়র ফারকাসও মনে করেন, এই ফল দিয়ে বিতর্ক স্থায়ীভাবে শেষ হবে না। তাঁর মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে এগোতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল।

ক্যাপশন: কানাডা থেকে আলবার্টাকে আলাদা করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ভোটার। অনানুষ্ঠানিক ফল অনুযায়ী, প্রায় ৭৬ শতাংশ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ছবির সূত্র: কানাডিয়ান প্রেস/শাটারস্টক