যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বিমানের টিকিট সস্তায় কেনার ৫ উপায়
- প্রকাশঃ ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১৬
- / 5
নিউইয়র্ক, ৬ নভেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসার বিমানের টিকিটের দাম কখনো ৯০০ ডলার, আবার কখনো একই রুটে ১ হাজার ৬০০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। একই গন্তব্য ও এয়ারলাইন হওয়া সত্ত্বেও ভাড়ার এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে ভ্রমণের সময়, টিকিট কেনার তারিখ এবং সপ্তাহের কোন দিনে যাত্রা করছেন, সেই বিষয়গুলো। পরিকল্পনা করে টিকিট কিনলে একই যাত্রায় কয়েক শ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।
বিশেষ করে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা রুটে বছরের নির্দিষ্ট কিছু মাসে তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। আবার বড়দিন, নতুন বছর, গ্রীষ্মকালীন ছুটি ও ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ে টিকিটের চাহিদা। ফলে এসব সময়ে ভাড়াও বেড়ে যায়।
কোন মাসে টিকিটের দাম কম থাকে?
নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা রুটে সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়া যায়। আগস্ট, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও ভাড়া কম থাকার প্রবণতা দেখা যায়। এসব সময়ে ছুটি ও ভ্রমণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় এয়ারলাইনগুলো কম দামে টিকিট ছাড়তে পারে।
অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসে ভাড়া সবচেয়ে বেশি থাকে। বড়দিন, ইংরেজি নববর্ষ ও শীতকালীন ছুটিতে প্রবাসীদের দেশে ফেরার চাপ বাড়ে। এ সময় রাউন্ড ট্রিপের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
জুন ও জুলাই মাসেও টিকিটের দাম বেশি থাকে। গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এই সময়ে ভাড়া বাড়তে পারে। তাই সুযোগ থাকলে ডিসেম্বর এবং ঈদের ঠিক আগের সপ্তাহে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা যেতে পারে।
কত দিন আগে টিকিট কাটবেন?
যাত্রার প্রায় ৪২ থেকে ৬০ দিন আগে, অর্থাৎ ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। একেবারে শেষ মুহূর্তে টিকিট কিনলে সাধারণত ভাড়া বেড়ে যায়। আবার অনেক আগে কিনলেই যে সবচেয়ে কম দাম পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
সপ্তাহের দিনের ক্ষেত্রেও ভাড়ার পার্থক্য হতে পারে। রোববার টিকিট কিনলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ভাড়া পাওয়া যায়। অন্যদিকে যাত্রার জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার বেছে নিলে খরচ কমতে পারে। শুক্রবার ও রোববার সাধারণত চাহিদা বেশি থাকায় এসব দিনে ভাড়া তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
কোন বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করলে খরচ কমবে?
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কয়েকটি বড় বিমানবন্দর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটের ভাড়া তুলনামূলক কম পাওয়া যেতে পারে। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওয়াশিংটনের ডালাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং শিকাগো থেকে ভাড়ার তুলনা করে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকো থেকে যাত্রায় খরচ বেশি পড়তে পারে। পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারীরা চাইলে নিউইয়র্ক বা ওয়াশিংটন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের খরচ যোগ করে মোট ভাড়া তুলনা করতে পারেন। তবে আলাদা টিকিটে যাত্রা করলে সংযোগ ফ্লাইট মিস হওয়া, অতিরিক্ত লাগেজ খরচ এবং বিমানবন্দর পরিবর্তনের ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
কোন এয়ারলাইন বেছে নেবেন?
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ রুটে কাতার এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইনস, এমিরেটস, ইতিহাদ, সাউদিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের ভাড়া তুলনা করা যেতে পারে।
টার্কিশ এয়ারলাইনসে ইস্তাম্বুল হয়ে এবং কাতার এয়ারওয়েজে দোহা হয়ে ঢাকায় আসা যায়। রুট ও সংযোগের সময় অনুযায়ী এসব যাত্রায় প্রায় ১৯ থেকে ২০ ঘণ্টা লাগতে পারে। সাধারণত একবার যাত্রাবিরতিযুক্ত ফ্লাইটে সময় ও ভ্রমণের সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য থাকে। দুইবার যাত্রাবিরতিযুক্ত ফ্লাইটে ভাড়া কম হতে পারে, তবে যাত্রার সময় বেড়ে যায়।
কম দামে টিকিট কেনার পাঁচ কৌশল
১. ভাড়ার সতর্কবার্তা চালু রাখুন: গুগল ফ্লাইটসে নির্দিষ্ট রুট ও তারিখ দিয়ে ভাড়ার সতর্কবার্তা চালু রাখলে দাম কমা বা বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।
২. যাত্রার তারিখে নমনীয় থাকুন: নির্ধারিত তারিখের দুই-তিন দিন আগে বা পরে ভ্রমণ করতে পারলে কম ভাড়ার ফ্লাইট পাওয়া যেতে পারে। তারিখের সামান্য পরিবর্তনেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
৩. একাধিকবার ভাড়া তুলনা করুন: একই রুট বিভিন্ন দিনে এবং একাধিক বুকিং প্ল্যাটফর্মে খুঁজে দেখুন। ইনকগনিটো মোডে অনুসন্ধান করতে পারেন, তবে বারবার একই রুট খুঁজলেই ওয়েবসাইট ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, এমন দাবির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
৪. এয়ারলাইনের নিজস্ব ওয়েবসাইট দেখুন: তুলনামূলক বুকিং সাইটে কম ভাড়া পাওয়া গেলেও টিকিট কেনার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের ওয়েবসাইটে দাম ও শর্ত যাচাই করুন।
৫. মাইলস ও ক্রেডিট কার্ডের পয়েন্ট ব্যবহার করুন: এয়ারলাইন বা ক্রেডিট কার্ডের জমা থাকা পুরস্কার পয়েন্ট ব্যবহার করে টিকিটের খরচ কমানো যেতে পারে। তবে পয়েন্ট ব্যবহারের শর্ত ও অতিরিক্ত ফি দেখে নেওয়া জরুরি।
টিকিট কেনার আগে সতর্কতা
কম দামের প্রলোভনে অপরিচিত বা অনির্ভরযোগ্য এজেন্সি থেকে টিকিট কেনা উচিত নয়। টিকিট হাতে পাওয়ার পর যাত্রীর নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ভ্রমণের তারিখ ও ফ্লাইটের তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া টিকিটের সঙ্গে কতটুকু লাগেজ নেওয়া যাবে, সেটিও আগে যাচাই করা প্রয়োজন। কম দামের কিছু ভাড়ায় চেক-ইন ব্যাগেজ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে পরে অতিরিক্ত লাগেজের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে।
সতর্কতা: এ প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। বিমানের ভাড়া প্রতিদিন পরিবর্তিত হয় এবং যাত্রার তারিখ, রুট, আসনসংখ্যা ও এয়ারলাইনভেদে আলাদা হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে এয়ারলাইনের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য বুকিং প্ল্যাটফর্মে সর্বশেষ ভাড়া ও শর্ত যাচাই করা জরুরি।
























