ঢাকা ১০:০২ , Wed, ০৪ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার প্রশিক্ষণ ভিসায় পরিবর্তন, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৪
  • / 3
অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসার আবেদনবিধিতে ১২ নভেম্বর থেকে পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানবেরা, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে। নতুন বিধান অনুযায়ী, ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত যাঁরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে অবস্থানসংক্রান্ত বিধান ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর বা তার পর অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিলে সেটি অবৈধ আবেদন হিসেবে গণ্য হবে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থাকলে তা বৈধ হবে না। একইভাবে ভিসা অনুমোদনের সময়ও আবেদনকারীকে দেশটির বাইরে থাকতে হবে।

এটি নতুন কোনো ভিসা চালু বা আবেদনপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা নয়। আগে থেকেই চালু থাকা প্রশিক্ষণ ভিসার আবেদনসংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১২ নভেম্বরের আগে বৈধভাবে জমা দেওয়া আবেদনগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসা কী

অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৪০৭ একটি অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা দেশটিতে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান। প্রশিক্ষণের ধরন ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

এই ভিসায় মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, কোনো পেশায় নিবন্ধন, সদস্যপদ বা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, নিজের বর্তমান পেশা বা যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ। তৃতীয়ত, বিদেশে পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, যার মধ্যে বিদেশি যোগ্যতা অর্জন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে।

তবে এই ভিসা সাধারণ চাকরি খোঁজার মাধ্যম নয়। অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে কর্মীসংকট পূরণ বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার উদ্দেশ্যে এটি দেওয়া হয় না। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সম্পাদিত কাজের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হয়।

কারা আবেদন করতে পারবেন

বাংলাদেশি নাগরিকেরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদিত স্পনসর এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুমোদন থাকা জরুরি।

সাধারণত ভিসার সিদ্ধান্তের সময় আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে অস্থায়ী কার্যক্রমের অনুমোদিত স্পনসর হিসেবে স্বীকৃতি নিতে হবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানকে আবেদনকারীর জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন জমা দিতে হবে। ভিসার আবেদন করার আগেই সেই মনোনয়ন অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা স্পনসর হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।

১২ নভেম্বর থেকে যেসব পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে

নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থানরত কেউ সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন না। আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ায় থাকলে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেও সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রক্রিয়া চলাকালে অন্য কোনো বৈধ ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা যেতে পারে। তবে ওই ভিসার সব শর্ত মেনে চলতে হবে। ৪০৭ ভিসার আবেদন বিদেশ থেকে জমা দেওয়ার কারণে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ভিসা পাওয়া যাবে না। চূড়ান্তভাবে ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে।

অবৈধ আবেদন হিসেবে গণ্য হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মেরিটস রিভিউ বা সিদ্ধান্তের গুণগত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত যাচাই করা জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের করণীয়

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ৪০৭ ভিসার আবেদন করতে চান, এমন ব্যক্তিদের আবেদন জমা দেওয়ার আগে দেশ ছাড়তে হবে। তবে দেশ ছাড়ার আগে বর্তমান ভিসার মেয়াদ, স্পনসরের অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিদেশ থেকে আবেদন জমা দেওয়ার পর অন্য কোনো বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভব হলেও ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবার দেশের বাইরে থাকতে হবে। তাই সম্ভাব্য ভিসা অনুমোদনের তারিখ ধরে আগাম ভ্রমণ পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ভিসার খরচ ও সতর্কতা

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার মূল আবেদন ফি ৫৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে শুরু। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী মোট খরচ বাড়তে পারে। স্পনসরশিপ, মনোনয়ন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় আলাদা হতে পারে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না। অনুমোদিত স্পনসর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিসা পাওয়া নির্ভর করে।

বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা সাধারণ চাকরির ভিসা নয়। আবেদন করার আগে স্পনসর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আর্থিক ব্যয় এবং সর্বশেষ সরকারি বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।

❤️
👏
🙂
😞

অস্ট্রেলিয়ার প্রশিক্ষণ ভিসায় পরিবর্তন, আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশিরাও

প্রকাশঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫৪

ক্যানবেরা, ৪ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে। নতুন বিধান অনুযায়ী, ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ভিসা মঞ্জুরের সময় আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে। বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত যাঁরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে চান, তাঁদের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে অবস্থানসংক্রান্ত বিধান ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর বা তার পর অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থান করে সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিলে সেটি অবৈধ আবেদন হিসেবে গণ্য হবে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে থাকলে তা বৈধ হবে না। একইভাবে ভিসা অনুমোদনের সময়ও আবেদনকারীকে দেশটির বাইরে থাকতে হবে।

এটি নতুন কোনো ভিসা চালু বা আবেদনপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা নয়। আগে থেকেই চালু থাকা প্রশিক্ষণ ভিসার আবেদনসংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১২ নভেম্বরের আগে বৈধভাবে জমা দেওয়া আবেদনগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

সাবক্লাস ৪০৭ প্রশিক্ষণ ভিসা কী

অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস ৪০৭ একটি অস্থায়ী প্রশিক্ষণ ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা দেশটিতে কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পান। প্রশিক্ষণের ধরন ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

এই ভিসায় মূলত তিন ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, কোনো পেশায় নিবন্ধন, সদস্যপদ বা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। দ্বিতীয়ত, নিজের বর্তমান পেশা বা যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ। তৃতীয়ত, বিদেশে পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, যার মধ্যে বিদেশি যোগ্যতা অর্জন, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে।

তবে এই ভিসা সাধারণ চাকরি খোঁজার মাধ্যম নয়। অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে কর্মীসংকট পূরণ বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার উদ্দেশ্যে এটি দেওয়া হয় না। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সম্পাদিত কাজের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হয়।

কারা আবেদন করতে পারবেন

বাংলাদেশি নাগরিকেরাও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করলে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার অনুমোদিত স্পনসর এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুমোদন থাকা জরুরি।

সাধারণত ভিসার সিদ্ধান্তের সময় আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হয়। অস্ট্রেলিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে অস্থায়ী কার্যক্রমের অনুমোদিত স্পনসর হিসেবে স্বীকৃতি নিতে হবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানকে আবেদনকারীর জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন জমা দিতে হবে। ভিসার আবেদন করার আগেই সেই মনোনয়ন অনুমোদিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রশিক্ষণের ধরন অনুযায়ী আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও চরিত্রসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা স্পনসর হলে মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য।

১২ নভেম্বর থেকে যেসব পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে

নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে অবস্থানরত কেউ সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন না। আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ায় থাকলে অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পেলেও সেটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রক্রিয়া চলাকালে অন্য কোনো বৈধ ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা যেতে পারে। তবে ওই ভিসার সব শর্ত মেনে চলতে হবে। ৪০৭ ভিসার আবেদন বিদেশ থেকে জমা দেওয়ার কারণে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন ভিসা পাওয়া যাবে না। চূড়ান্তভাবে ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময়ও আবেদনকারীকে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে।

অবৈধ আবেদন হিসেবে গণ্য হওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মেরিটস রিভিউ বা সিদ্ধান্তের গুণগত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে না। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে অবস্থানসংক্রান্ত শর্ত যাচাই করা জরুরি।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীদের করণীয়

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ৪০৭ ভিসার আবেদন করতে চান, এমন ব্যক্তিদের আবেদন জমা দেওয়ার আগে দেশ ছাড়তে হবে। তবে দেশ ছাড়ার আগে বর্তমান ভিসার মেয়াদ, স্পনসরের অনুমোদন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিদেশ থেকে আবেদন জমা দেওয়ার পর অন্য কোনো বৈধ ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করা সম্ভব হলেও ৪০৭ ভিসা মঞ্জুরের সময় আবার দেশের বাইরে থাকতে হবে। তাই সম্ভাব্য ভিসা অনুমোদনের তারিখ ধরে আগাম ভ্রমণ পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ভিসার খরচ ও সতর্কতা

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাবক্লাস ৪০৭ ভিসার মূল আবেদন ফি ৫৩৫ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে শুরু। পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী মোট খরচ বাড়তে পারে। স্পনসরশিপ, মনোনয়ন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় আলাদা হতে পারে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই ভিসা নিশ্চিত করতে পারে না। অনুমোদিত স্পনসর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মনোনয়ন, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিসা পাওয়া নির্ভর করে।

বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা অস্ট্রেলিয়ায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা সাধারণ চাকরির ভিসা নয়। আবেদন করার আগে স্পনসর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আর্থিক ব্যয় এবং সর্বশেষ সরকারি বিধান যাচাই করা প্রয়োজন।