ঢাকা ০১:৪৩ , Thu, ০৫ Nov ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে কঠোর ইউএসসিআইএস, নথির ঘাটতিতে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের সুযোগ

মুশফিকুর রহমান ওয়াশিংটন
  • প্রকাশঃ ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭
  • / 3
অভিবাসন আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে নোটিশ ছাড়াই আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ পেয়েছেন ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন, ৫ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড, কাজের অনুমতি ও অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনে প্রমাণপত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথি না থাকলে বা আবেদনকারী নিজের যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র চেয়ে নোটিশ না পাঠিয়েই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব আবেদনকারী বা আবেদনকারীর পক্ষে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।

আগের নিয়মে কোনো আবেদনে নথির ঘাটতি থাকলে ইউএসসিআইএস সাধারণত অতিরিক্ত প্রমাণ চেয়ে নোটিশ বা আরএফই পাঠাত। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যানের আগে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের কারণ জানিয়ে নোটিশ অব ইনটেন্ট টু ডিনাই বা এনওআইডিও পাঠানো হতো। নতুন নির্দেশনায় এসব নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে বা যোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত না হলে কর্মকর্তারা তাঁদের বিবেচনাধিকার ব্যবহার করে নোটিশ ছাড়াই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

কোন কোন আবেদনে প্রভাব পড়তে পারে

নতুন নির্দেশনা পরিবার ও চাকরির মাধ্যমে অভিবাসন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড, কাজের অনুমতি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভিসার ধরন পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন আবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকবিষয়ক দপ্তরও এফ-১ শিক্ষার্থী, এইচ-১বি কর্মীসহ বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি), ভিসার ধরন পরিবর্তন এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন নীতির প্রভাব পড়তে পারে।

তবে কোনো ব্যক্তি এফ-১ বা এইচ-১বি ভিসায় আছেন বলেই তাঁর সব আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে, বিষয়টি এমন নয়। কোন ধরনের অভিবাসন সুবিধার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

কবে থেকে কার্যকর

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনাটি ৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি সেদিন প্রক্রিয়াধীন থাকা আবেদনেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন বা অভিবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আইন, বিধিমালা কিংবা আদালতের আদেশে আলাদা নির্দেশনা থাকলে তা বিবেচনায় নিতে হবে। আশ্রয়সহ কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পৃথক বিধান কার্যকর থাকতে পারে।

আবেদনকারীদের করণীয়

নতুন নিয়মের কারণে আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরমের নির্দেশনা অনুসারে সব প্রাথমিক প্রমাণ, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, সঠিক অনুবাদ এবং যোগ্যতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা উচিত।

কোনো আবেদনকারী আরএফই বা এনওআইডি পেলে সেটিকে উপেক্ষা করা যাবে না। নোটিশে উল্লেখ করা সময়সীমার মধ্যে চাওয়া তথ্য ও প্রমাণ জমা দিতে হবে। কারণ, নতুন নির্দেশনায় এসব নোটিশ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে তা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

জটিল অভিবাসন আবেদন, যোগ্যতা নিয়ে অস্পষ্টতা কিংবা আগের কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

নতুন নীতির ফলে আবেদনকারীদের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ প্রমাণসহ আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তাই গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ফরমের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় নথির তালিকা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

❤️
👏
🙂
😞

গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে কঠোর ইউএসসিআইএস, নথির ঘাটতিতে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের সুযোগ

প্রকাশঃ ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭

ওয়াশিংটন, ৫ নভেম্বর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড, কাজের অনুমতি ও অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনে প্রমাণপত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নথি না থাকলে বা আবেদনকারী নিজের যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কাগজপত্র চেয়ে নোটিশ না পাঠিয়েই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন কর্মকর্তারা।

গত ৫ আগস্ট প্রকাশিত এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব আবেদনকারী বা আবেদনকারীর পক্ষে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সময়ই প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।

আগের নিয়মে কোনো আবেদনে নথির ঘাটতি থাকলে ইউএসসিআইএস সাধারণত অতিরিক্ত প্রমাণ চেয়ে নোটিশ বা আরএফই পাঠাত। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যানের আগে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের কারণ জানিয়ে নোটিশ অব ইনটেন্ট টু ডিনাই বা এনওআইডিও পাঠানো হতো। নতুন নির্দেশনায় এসব নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়নি। তবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রমাণ না থাকলে বা যোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত না হলে কর্মকর্তারা তাঁদের বিবেচনাধিকার ব্যবহার করে নোটিশ ছাড়াই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

কোন কোন আবেদনে প্রভাব পড়তে পারে

নতুন নির্দেশনা পরিবার ও চাকরির মাধ্যমে অভিবাসন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড, কাজের অনুমতি, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ভিসার ধরন পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন আবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকবিষয়ক দপ্তরও এফ-১ শিক্ষার্থী, এইচ-১বি কর্মীসহ বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি), ভিসার ধরন পরিবর্তন এবং স্থায়ী বসবাসের আবেদনের মতো ক্ষেত্রেও নতুন নীতির প্রভাব পড়তে পারে।

তবে কোনো ব্যক্তি এফ-১ বা এইচ-১বি ভিসায় আছেন বলেই তাঁর সব আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে, বিষয়টি এমন নয়। কোন ধরনের অভিবাসন সুবিধার জন্য আবেদন করা হচ্ছে, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

কবে থেকে কার্যকর

ইউএসসিআইএসের নির্দেশনাটি ৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ওই দিন বা তার পরে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি সেদিন প্রক্রিয়াধীন থাকা আবেদনেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন বা অভিবাসন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আইন, বিধিমালা কিংবা আদালতের আদেশে আলাদা নির্দেশনা থাকলে তা বিবেচনায় নিতে হবে। আশ্রয়সহ কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় পৃথক বিধান কার্যকর থাকতে পারে।

আবেদনকারীদের করণীয়

নতুন নিয়মের কারণে আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরমের নির্দেশনা অনুসারে সব প্রাথমিক প্রমাণ, প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর, সঠিক অনুবাদ এবং যোগ্যতার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা উচিত।

কোনো আবেদনকারী আরএফই বা এনওআইডি পেলে সেটিকে উপেক্ষা করা যাবে না। নোটিশে উল্লেখ করা সময়সীমার মধ্যে চাওয়া তথ্য ও প্রমাণ জমা দিতে হবে। কারণ, নতুন নির্দেশনায় এসব নোটিশ পাঠানোর সুযোগ থাকলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে তা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

জটিল অভিবাসন আবেদন, যোগ্যতা নিয়ে অস্পষ্টতা কিংবা আগের কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরিস্থিতিতে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

নতুন নীতির ফলে আবেদনকারীদের শুরুতেই পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ প্রমাণসহ আবেদন জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। তাই গ্রিনকার্ড, ওয়ার্ক পারমিট বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধার আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ফরমের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় নথির তালিকা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।