নির্বাচনই শেষ নয়, গণতন্ত্র পুনর্গঠনই লক্ষ্য: বিএনপি মহাসচিব
- প্রকাশঃ ০৩:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
- / 147
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ বা উত্তরণের সময় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, নির্বাচন সামনে এলেও এটি রাজনৈতিক সংকটের চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং দেশকে গণতন্ত্রে ফেরানো এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনর্গঠন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে বিএনপি ও ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন,
আজকে আমরা একটা ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আছি। একটা দোলাচল চলছে। নির্বাচন সামনে; শিডিউল এখনো হয়নি। কিন্তু নির্বাচনই সব নয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে ফেরা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় অভাব।
তিনি বলেন, টেকসই রাষ্ট্র গড়তে হলে বিচার বিভাগ, সংসদ, গণমাধ্যম ও প্রশাসনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে হবে।
গত ১৬ বছরে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর দমন–পীড়ন, গুম-খুন ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন,
৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন। এগুলো ডকুমেন্টে আনতে হবে, গবেষণার মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে। নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
বিএনপি বহু আগেই রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলেছে। এখন কেউ ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে এটি তুলে ধরলে তা হবে সংকীর্ণতা।
তিনি বলেন, বিএনপি বিপ্লবী দল নয়; এটি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক দল, যারা সব ধর্ম–বর্ণ–মতের মানুষকে নিয়ে একটি রেইনবো স্টেট গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—উই আর লিবারেল ডেমোক্র্যাটস।, বলেন মির্জা ফখরুল।
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে দেশে ‘মবক্রেসি ভায়োলেন্স’ চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন,
“একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।”
গণতন্ত্রের অভাবকে দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন,
আমি তোমার সঙ্গে একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করব—গণতন্ত্রের এ চর্চা আমাদের দেশে নেই।
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থান স্মরণ করে বলেন,
প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়—সবাইকে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানই জাতীয় রাজনীতিকে পথনির্দেশনা দেয়।
বিদেশে থাকা তারেক রহমানও গণতন্ত্রের পক্ষে জনগণকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, অধ্যাপক বি. এম. নাগিব হোসেন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বইয়ের সম্পাদক বাবুল তালুকদারসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




























