মেজর সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপই মূল পরিকল্পনাকারী, লিয়াকতের চার গুলিতে মৃত্যু—হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়
- প্রকাশঃ ০৯:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 71
হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডে সাবেক টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকেই মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে অভিহিত করেছে হাইকোর্ট। অপরদিকে পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরকারি পিস্তল দিয়ে সিনহাকে শরীরের ঊর্ধ্বাংশে টার্গেট করে চারটি গুলি করেন, যা তাঁর মৃত্যুর কারণ—পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমনটাই উঠে এসেছে।
আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ তথ্য উঠে আসে। গত ২ জুন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। রায়টি বাংলায় লেখেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান।
ওসি প্রদীপের ভূমিকা: বুক চেপে মৃত্যু নিশ্চিত
রায়ে বলা হয়, ওসি প্রদীপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সিনহার বাম পাঁজরে জুতা পরা পায়ে আঘাত করে তাঁর বুকের দুটি হাড় ভেঙে দেন। একইভাবে সিনহার গলার বাম পাশে চাপ প্রয়োগ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রমাণে এ তথ্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত—উল্লেখ করা হয় রায়ে।
লিয়াকতের পূর্বপরিকল্পিত গুলি
আদালত বলেন, লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নিরস্ত্র সিনহার দিকে টানা চারটি গুলি চালান। এসব গুলির আঘাতেই সিনহার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড বহালের কারণ
রায়ে বলা হয়, প্রদীপ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রত্যক্ষ ভূমিকার অধিকারী, আর লিয়াকত পূর্বপরিকল্পিতভাবে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন। তাই বিচারিক আদালতের ৩০২ ধারায় প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখাই যৌক্তিক।
ষড়যন্ত্র, নজরদারি ও মাইকিং—ছয়জনের যাবজ্জীবন বহাল
মামলার অন্যান্য ছয় আসামির বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও ‘সাধারণ অভিপ্রায়’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখার কথা বলা হয় রায়ে। তাঁরা হলেন—নন্দদুলাল রক্ষিত, রুবেল শর্মা, সাগর দেব, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও নিজাম উদ্দিন।
আদালত বলেন, সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও ধারণের সময় ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। এটি জানতে পেরে প্রদীপ তাঁকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। পরে সিনহার গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সোর্স নিয়োগ এবং তাঁকে ডাকাত সাজিয়ে গণপিটুনিতে হত্যার উদ্দেশ্যে মাইকিং—সবই পরিকল্পনার অংশ ছিল।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় টেকনাফের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি বিচারিক আদালত প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন। হাইকোর্ট সেই রায়ই বহাল রাখে।





























