ভৈরব খননে শত কোটি টাকা কার্যত জলে; ওয়াসার পাইপলাইনে রুদ্ধ নৌপথ
- প্রকাশঃ ০৫:৩১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 72
ছবি: প্রজন্ম কথা
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ভৈরব নদ এখন অস্তিত্ব সংকটে। নদের নাব্যতা ফেরাতে ২০২০ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় সাড়ে ১৭ কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করলেও শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সেই প্রকল্পের সুফল আজ প্রশ্নের মুখে। খুলনা ওয়াসার একটি পাইপলাইন নদীর মাঝ বরাবর স্থাপনের ফলে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে পুরো খনন কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত নদ হত্যার শামিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফকিরহাট বাজার সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের একটি সেতুর নিচে ভৈরব নদের বুক চিরে আড়াআড়িভাবে স্থাপন করা হয়েছে খুলনা ওয়াসার বিশাল পানির পাইপলাইন। শুধু পাইপ স্থাপন করেই থেমে থাকেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ; পাইপ রক্ষার অজুহাতে নদীর ভেতরে লোহার খুঁটি বসিয়ে শক্ত বেড়া নির্মাণ করা হয়েছে। এতে নদের স্বাভাবিক জোয়ার–ভাটার প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এই কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতার কারণে উজান থেকে আসা পলি নদে জমে দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে তলদেশ। স্থানীয়দের দাবি, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে করা পুনঃখননের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই।
ভৈরব নদের ওপর এই পাইপলাইন এখন ফকিরহাট ও আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি এবং হাজার হাজার মাছের ঘের তলিয়ে গিয়ে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও। ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, এক সময় এই নদ দিয়ে বড় বড় ট্রলার চলত। খুলনা, মোংলা বন্দর ও বরিশালের সঙ্গে কম খরচে পণ্য আনা–নেওয়া করা যেত। এখন পাইপলাইনের বাধায় নৌচলাচল বন্ধ থাকায় পরিবহন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ওয়াসার এই পাইপলাইন দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে। সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরমান সিদ্দিক বলেন, পাইপলাইনটি আধুনিকায়ন ও পুনঃস্থাপনের জন্য চীন থেকে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যন্ত্রপাতি দেশে পৌঁছালে এমনভাবে পাইপলাইন স্থাপন করা হবে, যাতে নৌযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে।






























