ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে যা বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 47

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর ফলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, সব দিক বিবেচনায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই সবার জন্য শ্রেয়।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে বিসিবি একাধিকবার আইসিসিকে চিঠি দেয় এবং ই–মেইল, ভিডিও কনফারেন্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালায়। এমনকি এ বিষয়ে আলোচনা করতে আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরও করে। তবে কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ভোটে গড়ায়।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আইসিসির ভার্চুয়াল সভায় পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অংশ না নিলে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় আইসিসি।

আইসিসির এই আল্টিমেটামের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। আলোচনা শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, সরকারের ব্যাখ্যায় ক্রিকেটাররা সন্তুষ্ট।

এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা কোনো ক্রিকেটার প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তরুণ ক্রিকেটাররা—বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো আইসিসি ইভেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত। ভেতরের সব বিষয় আমরা জানি না। সরকারও কিন্তু চায়নি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না—তারা শুধু ভারতে না খেলতে চেয়েছে।

বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা কখনো আইসিসি ইভেন্ট খেলেনি, তাদের মন খারাপ হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে এখানে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দর্শক, সাংবাদিকসহ সবার নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। কেবল খেলোয়াড়রা যাবে আর অন্যরা যাবে না—এটা বাস্তবসম্মত নয়।

সাবেক ক্রিকেটার হান্নান সরকার বলেন, আমি আগে একজন দেশের নাগরিক। দেশের স্বার্থে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাকে আমাদের মেনে নিতে হবে এবং সম্মান জানাতে হবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অবশ্যই আলাদা অনুভূতির। মন খারাপ হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশ।

সাবেকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের জন্য হতাশার হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে যা বলছেন সাবেক ক্রিকেটাররা

প্রকাশঃ ০১:৫৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর ফলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিসিবির এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, সব দিক বিবেচনায় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই সবার জন্য শ্রেয়।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে বিসিবি একাধিকবার আইসিসিকে চিঠি দেয় এবং ই–মেইল, ভিডিও কনফারেন্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালায়। এমনকি এ বিষয়ে আলোচনা করতে আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরও করে। তবে কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ভোটে গড়ায়।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত আইসিসির ভার্চুয়াল সভায় পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলার পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অংশ না নিলে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয় আইসিসি।

আইসিসির এই আল্টিমেটামের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। আলোচনা শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, সরকারের ব্যাখ্যায় ক্রিকেটাররা সন্তুষ্ট।

এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা কোনো ক্রিকেটার প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তরুণ ক্রিকেটাররা—বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো আইসিসি ইভেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত। ভেতরের সব বিষয় আমরা জানি না। সরকারও কিন্তু চায়নি যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না—তারা শুধু ভারতে না খেলতে চেয়েছে।

বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা কখনো আইসিসি ইভেন্ট খেলেনি, তাদের মন খারাপ হবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে এখানে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দর্শক, সাংবাদিকসহ সবার নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। কেবল খেলোয়াড়রা যাবে আর অন্যরা যাবে না—এটা বাস্তবসম্মত নয়।

সাবেক ক্রিকেটার হান্নান সরকার বলেন, আমি আগে একজন দেশের নাগরিক। দেশের স্বার্থে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাকে আমাদের মেনে নিতে হবে এবং সম্মান জানাতে হবে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অবশ্যই আলাদা অনুভূতির। মন খারাপ হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে বাংলাদেশ।

সাবেকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের জন্য হতাশার হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”