ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হোন বা যেকোনো পরিচয়ে থাকুন না কেন, এই এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্দশা আর মেনে নেবেন না। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার পর এদিনই তিনি ওই গ্রামে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি বাংলাদেশের সব বিভাগেই গেছি, উন্নয়নের ছোঁয়া দেখেছি। তাহলে আমার সরাইল–আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন? কেন এই দুর্দশা? আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না। আপনারা দৃশ্যমান একটা পরিবর্তন লক্ষ করবেন।

জনসভায় তিনি বলেন, আল্লাহ যদি তাঁকে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, তাহলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তিনি সরকারকে বাধ্য করবেন এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসা, মন্দির–মসজিদের উন্নয়নের জন্য শুধু সরকারি বরাদ্দ নয়, আমার নিজস্ব উদ্যোগেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন এই অবহেলিত জনপদের মানুষের জীবনমান বদলে যায়।

নিজের প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল ও আশুগঞ্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মধ্যে পরমানন্দপুর, বরইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া—এই পাঁচটি গ্রাম সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, এখানে আসতে আমাকে দেড়–দুই ঘণ্টা গাড়িতে, ২০ মিনিট নৌকায় আর প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বালুর রাস্তা দিয়ে আসতে হয়েছে। আমার কষ্ট যদি এমন হয়, তাহলে এখানকার সাধারণ মানুষ কীভাবে চলাচল করে?

এলাকার উন্নয়নে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর সড়কে একটি সেতু নির্মাণ এবং পাকা সড়ক নির্মাণ তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি বলেন, এই এলাকাগুলো দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন থাকলে মানুষ কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে না। আমি আমার প্রথম জনসভা থেকেই আশ্বস্ত করছি—এই পাঁচ গ্রামে সেতু ও পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।

ভোটারদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, হাঁস সমৃদ্ধির প্রতীক, ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক ও নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এবার ভোটটা হাঁস মার্কায় চাই। একবার আমাকে সুযোগ দিন।

নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খাঁন এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় নেতারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না: রুমিন ফারহানা

প্রকাশঃ ১১:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হোন বা যেকোনো পরিচয়ে থাকুন না কেন, এই এলাকার দীর্ঘদিনের দুর্দশা আর মেনে নেবেন না। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার পর এদিনই তিনি ওই গ্রামে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, আমি বাংলাদেশের সব বিভাগেই গেছি, উন্নয়নের ছোঁয়া দেখেছি। তাহলে আমার সরাইল–আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন? কেন এই দুর্দশা? আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না। আপনারা দৃশ্যমান একটা পরিবর্তন লক্ষ করবেন।

জনসভায় তিনি বলেন, আল্লাহ যদি তাঁকে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন, তাহলে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তিনি সরকারকে বাধ্য করবেন এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। তিনি বলেন, স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসা, মন্দির–মসজিদের উন্নয়নের জন্য শুধু সরকারি বরাদ্দ নয়, আমার নিজস্ব উদ্যোগেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন এই অবহেলিত জনপদের মানুষের জীবনমান বদলে যায়।

নিজের প্রচারণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল ও আশুগঞ্জ বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মধ্যে পরমানন্দপুর, বরইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া—এই পাঁচটি গ্রাম সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে। তিনি বলেন, এখানে আসতে আমাকে দেড়–দুই ঘণ্টা গাড়িতে, ২০ মিনিট নৌকায় আর প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বালুর রাস্তা দিয়ে আসতে হয়েছে। আমার কষ্ট যদি এমন হয়, তাহলে এখানকার সাধারণ মানুষ কীভাবে চলাচল করে?

এলাকার উন্নয়নে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর সড়কে একটি সেতু নির্মাণ এবং পাকা সড়ক নির্মাণ তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি বলেন, এই এলাকাগুলো দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন থাকলে মানুষ কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে না। আমি আমার প্রথম জনসভা থেকেই আশ্বস্ত করছি—এই পাঁচ গ্রামে সেতু ও পাকা রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।

ভোটারদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, হাঁস সমৃদ্ধির প্রতীক, ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক ও নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এবার ভোটটা হাঁস মার্কায় চাই। একবার আমাকে সুযোগ দিন।

নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খাঁন এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় নেতারা।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”