আসন্ন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার দিনেই নতুন চমক দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের আট ঘণ্টার দীর্ঘ সভা শেষে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশ ও দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য এখন থেকে আবার বিবেচনায় থাকবেন সাকিব আল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘যদি সাকিব আল হাসানের এভেইলেবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটি থাকে এবং যে ভেন্যুতে খেলা হবে সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকে, তাহলে বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল তাঁকে পরবর্তী সময়ে দলে নির্বাচনের জন্য অবশ্যই বিবেচনা করবে।’
তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে আবার খেলতে আগ্রহী সাকিব নিজেও। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে যে তিনি হোম ও অ্যাওয়ে—উভয় ধরনের সিরিজেই খেলতে চান কি না। তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তুত ও অ্যাভেইলেবল। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিসিবির সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। ওই বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কানপুরে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। পরের মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট খেলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে ফিরতে পারেননি।
সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় এবারও বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সরকার দেখবে। সরকার যদি তাঁকে অপরাধী মনে করে বা বিচার করতে চায়, সেটা বিসিবির বিষয় নয়।’ তবে সরকার না চাইলে সাকিবের দেশে ফেরা ও খেলা সম্ভব হবে কি না—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বিসিবি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাকিবের নামে একাধিক মামলা হয়, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এ কারণে দেশে ফেরা নিয়ে তাঁর আইনি ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমাদের সভাপতিকে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাকিবের ব্যক্তিগত ইস্যুগুলো সরকার দেখবে। কিন্তু আমরা বোর্ডের পক্ষ থেকে খেলোয়াড় সাকিবকে চাই—এটাই মূল কথা।’
আমজাদ জানান, বোর্ড সভায় নতুন করে ২৭ জন ক্রিকেটারকে চলতি বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ তালিকা নির্ধারণের আলোচনায় প্রসঙ্গক্রমে সাকিবের নাম আসে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক আবদুর রাজ্জাক ও আসিফ আকবর। রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিব পতিত ফ্যাসিস্ট না সাবেক সংসদ সদস্য—এটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা খেলোয়াড় সাকিবকে চেয়েছি।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা নিয়ে চলমান বিতর্ক আড়াল করতেই হঠাৎ সাকিবকে দলে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটি কোনো কৌশল নয়। আগেও আমরা তাঁকে দলে নিতে চেয়েছি, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সম্ভব হয়নি।’ আগামী বোর্ড সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন আসিফ আকবর।
জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলেও গত দেড় বছরে সাকিব বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি টুর্নামেন্টে খেলছেন।
এদিকে বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশতিয়াক সাদেক। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে বোর্ড সভা শেষে জানিয়েছে বিসিবি।






























