পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ, বন্ধ যান চলাচল
- প্রকাশঃ ০৮:৩২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 36
রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের সড়কে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগে সমবেত হন তাঁরা। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় তাঁরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। এতে শাহবাগ মোড় দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বারডেম হাসপাতালের পাশ দিয়ে মৎস্য ভবনের দিকে সড়ক আংশিক খোলা রয়েছে।
জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দুই ভাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এ সময় ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে যমুনার সামনে যেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরে অনুমতি দেওয়া হলেও পথে তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তাঁরা ফিরে আসেন।
এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ জলকামান থেকে পানি ছোড়ে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকে আহত হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, আহত হয়ে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি বলেন, “আহতদের মধ্যে কোনো গুলিবিদ্ধ রোগী নেই। বেশির ভাগের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও থেঁতলে যাওয়ার জখম রয়েছে। গুরুতর কোনো রোগী ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি।”
সংঘর্ষের পর বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ, বাংলামোটর ও পরীবাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁরা আবার শাহবাগে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ঢাকা-৮ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ প্রায় হাজারখানেক বিক্ষোভকারী অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ে বসে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার বিচার দাবি জানান।





























