যৌনকর্মী – গৃহকর্মীদের শ্রমিক স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ
- প্রকাশঃ ০৪:২০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
- / 161
গৃহকর্মী ও যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশসহ মোট ৪৩৩টি প্রস্তাবনা দিয়েছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তুলে দেয় কমিশন।
প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েই বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে যেসব সুপারিশ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো— শ্রম আইনে গৃহকর্মী ও যৌনকর্মীদের শ্রমিক মর্যাদা প্রদান, সব খাতে ছয় মাস বা ২৪ সপ্তাহের পূর্ণ বেতনের প্রসূতি ও দত্তক ছুটি, পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা এবং গর্ভাবস্থায় চাকরিচ্যুতি নিষিদ্ধ করা।
নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, “আমরা সব মিলিয়ে ৪৩৩টি সুপারিশ করেছি। যদি অন্তত ২০০টি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলেও তা হবে নারী অগ্রগতির বড় অর্জন।”
কমিশনের প্রতিবেদনে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং গণপরিবহনে নারী নিপীড়ন রোধে আইন সংশোধন ও প্রয়োগ জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।
পরবর্তী সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
-
সব খাতে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ,
-
বছরে অন্তত একবার মজুরি পুনর্মূল্যায়ন,
-
এবং ‘বাঁচার মতো মজুরি’ নিশ্চিত করতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন।
নারী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন
প্রতিবেদনে অভিবাসী ও প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সুরক্ষা ও পুনঃএকত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সুপারিশ করা হয়েছে—
-
অভিবাসন আইন ও নীতিমালায় সংশোধন,
-
বিদেশি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি জোরদার করা,
-
ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা,
-
এবং পুনঃএকত্রীকরণ নীতি বাস্তবায়ন।
আরও পড়ুন
চার মাসের সন্তানকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে মোবাইল কিনলেন মা
প্রতিবেদনের ‘আকাঙ্ক্ষা’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, সব খাতে শোভন কর্মপরিবেশ ও সম্মানজনক মজুরি নিশ্চিত করে অধিকসংখ্যক নারী অভিবাসনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে বলা হয়, “নারীর স্বাধীনতা ও প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।”
কমিশন আরও সুপারিশ করেছে
-
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে নারীর অংশগ্রহণ,
-
সব বয়সী নারীর জন্য সুস্বাস্থ্য,
-
দারিদ্র্য হ্রাসে টেকসই সামাজিক সুরক্ষা,
-
গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নারীর অংশগ্রহণ,
-
এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা।
কমিশনের প্রধান শিরীন হক বলেন, “আমরা জানি, অনেক সুপারিশ নিয়ে বিতর্ক হবে। কিন্তু আমরা সেই বিতর্ককে স্বাগত জানাই। কারণ এখন ২০২৫ সাল— সময় এসেছে নারীর স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার।”





























