ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কার্ল পপারের দর্শনে পিএইচডি অর্জন করলেন গবেষক সাজিয়া আফরিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৭:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 57

বিশ শতকের প্রভাবশালী দার্শনিক কার্ল পপার-এর সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ (Critical Rationalism) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন। তাঁর গবেষণার শিরোনাম— “A Philosophical Investigation of Karl Popper’s Critical Rationalism”।

গবেষণায় তিনি কার্ল পপারের জ্ঞানতত্ত্ব ও বিজ্ঞানদর্শনভিত্তিক চিন্তার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে, পপারের falsifiability নীতি কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং জ্ঞানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, বরং পরীক্ষাযোগ্য ও সংশোধনযোগ্য অনুমান (conjecture) হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়। এ দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানচর্চায় সমালোচনা, বৌদ্ধিক সততা ও ভ্রান্তিযোগ্যতার (fallibilism) গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

এ প্রসঙ্গে সাজিয়া আফরিন বলেন,

পপারের সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ কেবল একটি তাত্ত্বিক অবস্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের একটি মৌলিক ভিত্তি। মানবজ্ঞান স্বভাবতই ভ্রান্তিযোগ্য—তাই জ্ঞানকে রক্ষা নয়, বরং সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হয়। কোনো মতবাদকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে তা বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

এই গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শংকর জোয়ার্দ্দার। বহিঃপরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকবাল শাহিন খান এবং ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার পাল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভা (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং এর পূর্বে অনুষ্ঠিত ৭৬তম একাডেমিক কাউন্সিল সভা (১৫ জানুয়ারি ২০২৬)-তে পরীক্ষকবৃন্দের সুপারিশ ও মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সাজিয়া আফরিনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন সাজিয়া আফরিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড অব একাডেমিক এক্সিলেন্স অর্জন করেন। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ লাভ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী একজন দার্শনিককে কেন্দ্র করে পরিচালিত এ গবেষণা বাংলাদেশের দর্শনচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। দেশে এ বিষয়ে পূর্বে উল্লেখযোগ্য গবেষণা না থাকায়, এই অর্জন সমালোচনামূলক ও যুক্তিনির্ভর গবেষণা-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

কার্ল পপারের দর্শনে পিএইচডি অর্জন করলেন গবেষক সাজিয়া আফরিন

প্রকাশঃ ০৭:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ শতকের প্রভাবশালী দার্শনিক কার্ল পপার-এর সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ (Critical Rationalism) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজিয়া আফরিন। তাঁর গবেষণার শিরোনাম— “A Philosophical Investigation of Karl Popper’s Critical Rationalism”।

গবেষণায় তিনি কার্ল পপারের জ্ঞানতত্ত্ব ও বিজ্ঞানদর্শনভিত্তিক চিন্তার বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। বিশেষভাবে দেখানো হয়েছে, পপারের falsifiability নীতি কীভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে এবং জ্ঞানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, বরং পরীক্ষাযোগ্য ও সংশোধনযোগ্য অনুমান (conjecture) হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়। এ দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানচর্চায় সমালোচনা, বৌদ্ধিক সততা ও ভ্রান্তিযোগ্যতার (fallibilism) গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

এ প্রসঙ্গে সাজিয়া আফরিন বলেন,

পপারের সমালোচনামূলক যুক্তিবাদ কেবল একটি তাত্ত্বিক অবস্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের একটি মৌলিক ভিত্তি। মানবজ্ঞান স্বভাবতই ভ্রান্তিযোগ্য—তাই জ্ঞানকে রক্ষা নয়, বরং সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হয়। কোনো মতবাদকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলে তা বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

এই গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শংকর জোয়ার্দ্দার। বহিঃপরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইকবাল শাহিন খান এবং ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার পাল।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১০তম সিন্ডিকেট সভা (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং এর পূর্বে অনুষ্ঠিত ৭৬তম একাডেমিক কাউন্সিল সভা (১৫ জানুয়ারি ২০২৬)-তে পরীক্ষকবৃন্দের সুপারিশ ও মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সাজিয়া আফরিনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

উল্লেখ্য, শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন সাজিয়া আফরিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড অব একাডেমিক এক্সিলেন্স অর্জন করেন। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ লাভ করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাবশালী একজন দার্শনিককে কেন্দ্র করে পরিচালিত এ গবেষণা বাংলাদেশের দর্শনচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। দেশে এ বিষয়ে পূর্বে উল্লেখযোগ্য গবেষণা না থাকায়, এই অর্জন সমালোচনামূলক ও যুক্তিনির্ভর গবেষণা-সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।