ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুয়েটের অনশনরত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষা উপদেষ্টা

  • প্রকাশঃ ০৭:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 113

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) চলমান আন্দোলন ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, “এই গরমে তোমরা যারা অনশন করছো এবং অনশনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানের দৃঢ়তা তুলে ধরেছো, তোমাদের বলতে চাই—প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগির তদন্ত কমিটি আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গতকাল তোমাদের অনশন থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারপরও রাতে ঘুমাতে পারিনি। তাই আজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের দেখতে এসেছি। আজ আহ্বান নয়, অনুরোধ করছি—তোমরা অনশন থেকে সরে এসো।”

তবে শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানে উপদেষ্টা বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি পরবর্তীতে হাইকোর্টে গিয়ে অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।”

এ সময় ইইই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সৈকত বলেন, “একজন হামলাকারীকেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা কীভাবে বাইরে নিরাপদে বের হবো?” জবাবে উপদেষ্টা জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সিএসই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জামান উপল বলেন, “দুই মাস পার হয়ে গেছে, এখন আর তদন্ত নয়—আমরা বিচার চাই। আমার পানি পিপাসা পেয়েছে, আপনি মাসুদকে অপসারণ করেন, আমি পানি খাব।” অন্যদিকে, ইইই ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব অভিযোগ করেন, “আমাদের অনশন ভাঙাতে অভিভাবকদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, এ বিষয়ে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, তাই তারা অনড় হয়ে আছে। তবে আমি আশা করি, আমার কথায় তারা কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে পেয়েছে।”

পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


আরও পড়ুন

কুয়েট উপাচার্যকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, না মানলে আমরণ অনশন


এদিকে কুয়েট পরিস্থিতি নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান। এই কমিটিও আজ দুপুরে কুয়েট ক্যাম্পাসে আসবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদল-যুবদল, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ১৩ এপ্রিল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

শেয়ার করুন

কুয়েটের অনশনরত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশঃ ০৭:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) চলমান আন্দোলন ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের খোঁজ নিতে আজ বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, “এই গরমে তোমরা যারা অনশন করছো এবং অনশনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানের দৃঢ়তা তুলে ধরেছো, তোমাদের বলতে চাই—প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগির তদন্ত কমিটি আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গতকাল তোমাদের অনশন থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারপরও রাতে ঘুমাতে পারিনি। তাই আজকে আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের দেখতে এসেছি। আজ আহ্বান নয়, অনুরোধ করছি—তোমরা অনশন থেকে সরে এসো।”

তবে শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানে উপদেষ্টা বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি পরবর্তীতে হাইকোর্টে গিয়ে অবৈধ ঘোষিত হতে পারে।”

এ সময় ইইই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সৈকত বলেন, “একজন হামলাকারীকেও এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা কীভাবে বাইরে নিরাপদে বের হবো?” জবাবে উপদেষ্টা জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সিএসই ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জামান উপল বলেন, “দুই মাস পার হয়ে গেছে, এখন আর তদন্ত নয়—আমরা বিচার চাই। আমার পানি পিপাসা পেয়েছে, আপনি মাসুদকে অপসারণ করেন, আমি পানি খাব।” অন্যদিকে, ইইই ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব অভিযোগ করেন, “আমাদের অনশন ভাঙাতে অভিভাবকদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, এ বিষয়ে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পরে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, তাই তারা অনড় হয়ে আছে। তবে আমি আশা করি, আমার কথায় তারা কিছুটা হলেও আস্থা ফিরে পেয়েছে।”

পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন। প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


আরও পড়ুন

কুয়েট উপাচার্যকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, না মানলে আমরণ অনশন


এদিকে কুয়েট পরিস্থিতি নিরসনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান। এই কমিটিও আজ দুপুরে কুয়েট ক্যাম্পাসে আসবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদল-যুবদল, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে ১৩ এপ্রিল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।